advertisement
advertisement
advertisement
DBBL
advertisement
advertisement

পিতৃপরিচয় আদায়ের লড়াইয়ে জয়ী রনি

চকরিয়া (কক্সবাজার) প্রতিনিধি
২৪ জুন ২০২১ ০০:০০ | আপডেট: ২৪ জুন ২০২১ ০৮:৩৪
advertisement

বাবা-মায়ের স্নেহ আর ভালোবাসা ছাড়া অবহেলা, অনাদরে বেড়ে উঠছে আশরাফ জামান রনি। ১৪ বছর বয়সে এসে তাকে মুখোমুখি হতে হয় জীবনের ভিন্ন এক বাস্তবতার। নামতে হয় অন্যরকম যুদ্ধে। পিতৃপরিচয়ের জন্য দৌড়াতে হয় জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের দ্বারে দ্বারে। ক্রমেই দুর্বিষহ হয়ে উঠে জীবন। তবে হাল ছাড়েনি। অনেক কাঠখড় পুড়িয়ে অবশেষে মিলেছে পিতৃপরিচয়। রনি আদায় করে নিয়েছে সন্তান হিসেবে বাবার স্বীকৃতি।

কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার কৈয়ারবিল ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের খোঁজাখালীতে জন্ম আশরাফ জামান রনির। মাতৃগর্ভে থাকতেই তার বাবা অন্য এক নারীকে বিয়ে করে পাড়ি জমান বিদেশ। জন্মের কিছু দিন পর রনিকে চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় নানাবাড়িতে দিয়ে মাও আরেকজনকে বিয়ে করে স্বামীর বাড়ি চলে যান। সেখানেই নানা-নানির কাছে বড় হতে থাকে রনি।

জানা যায়, মা-বাবা দুজনই রনিকে ফেলে দুই মেরুতে চলে যাওয়ায় নানাবাড়িতে বড় হয়। দ্বিতীয় বিয়ে করে সৌদি আরবে চলে যাওয়া বাবা আশহাদুল করিম রুবেল বেশ কয়েক বছর পর দেশে ফিরলেও রনিকে পিতৃপরিচয় দিতে অস্বীকার করেন। এ নিয়ে অনেক সালিশবৈঠকও হয়। কোনো সুরাহা হয়নি। তিনি আবার চলে যান সৌদি। সম্প্রতি স্কুলে শিক্ষার্থীদের তথ্যভিত্তিক ডাটাবেজ তৈরি ও ইউনিক আইডি কার্যক্রম বাস্তবায়নের জন্য পিতৃপরিচয়ের প্রয়োজন হয় রনির। স্কুল থেকে বাবার জাতীয় পরিচয়পত্রের কপি চাওয়া হয়। তাই সে আবার ছুটে যায় বাবার বাড়িতে। কিন্তু বাবার স্বজনরা তার সঙ্গে দুর্ব্যবহার- এমনকি মারধর করে তাকে তাড়িয়ে দেন। এ নিয়ে আশরাফ জামান রনি সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও ক্লিপ ছাড়ে। এটি দেখে এগিয়ে আসেন কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক নাজনীন সরওয়ার কাবেরী। তিনি বিষয়টি বাংলাদেশ পুলিশের মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশনস উইং পরিচালিত ‘বাংলাদেশ পুলিশ অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ’-এর ইনবক্সে লিখিতভাবে জানান। এ বার্তাটি গ্রহণের পর মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশনস উইং কক্সবাজার পুলিশকে অবহিত করা হয়। একই সঙ্গে এ বিষয়টি তদন্ত করে কিশোর রনির পিতৃপরিচয় উদ্ঘাটন এবং অভিভাবকত্বের দায়দায়িত্ব নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়।

চকরিয়া থানার ওসি শাকের মোহাম্মদ যুবায়ের বলেন, কক্সবাজারের পুলিশ সুপার ঘটনাটি সম্পর্কে আমাকে অবহিত করেন। পরে বিষয়টি তদন্ত করার জন্য থানার এসআই গোলাম সারোয়ারকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। তিনি তদন্ত করে আশরাফ জামান রনির পিতৃপরিচয় নিশ্চিত হন।

ওসি আরও বলেন, পরে রনির বাবা সৌদি প্রবাসী রুবেলের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। তার সঙ্গে আলাপ-আলোচনার পর তিনি পিতৃপরিচয় দিতে সম্মত হন। পরে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সমাজের গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে তার পিতৃপরিচয়ের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র তৈরি করে তার হাতে দেওয়া হয়েছে।

এ ব্যাপারে আফরাফ জামান রনি কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, এতদিন বাবা-মা ছাড়া অনেক দুঃখ-কষ্টে জীবন কেটেছে আমার। তার ওপর পিতৃপরিচয় না থাকায় এক নিদারুণ যন্ত্রণায় ছিলাম। স্কুলের বন্ধুরা সবাই জানত আমার বাবা-মা আছে। এত দিন বিষয়টি চেপে রাখতে পারলেও সম্প্রতি স্কুলে বাবার জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপির প্রয়োজন হয়ে পড়ে। যাই হোক অবশেষে আমি সন্তান হিসেবে বাবার স্বীকৃতি পেয়েছি। আমার আর কোনো কিছু লাগবে না। এখন আমি সমাজে মাথা উঁচু করে বাঁচতে পারব। এ জন্য আমি আওয়ামী লীগ নেত্রী নাজনীন সরওয়ার কাবেরী ম্যাডাম ও পুলিশ প্রশাসনের প্রতি আন্তরিত কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি।

advertisement