advertisement
DARAZ
advertisement
advertisement
advertisement
DBBL
advertisement
advertisement

জহির রায়হানের অন্যরকম দিন

ক্রীড়া ডেস্ক
২৮ জুলাই ২০২১ ১২:০০ এএম | আপডেট: ২৭ জুলাই ২০২১ ১১:০৭ পিএম
advertisement

টোকিও অলিম্পিকে বাংলাদেশের অ্যাথলেটিকসে বিজ্ঞাপন জহির রায়হান। তিনি টোকিওতে পৌঁছে অনুশীলন শুরু করেছেন। আর সেখানে গিয়ে রোমাঞ্চিত তিনি। বিশ^চ্যাম্পিয়ন ও কিংবদন্তিদের সঙ্গে তার দেখা হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আনন্দের খবর প্রকাশ করেছেন জহির। অলিম্পিক স্টেডিয়ামে জহির রায়হানের বাছাই রয়েছে। আর ইভেন্ট ৪০০ মিটারের। এর আগে নিজেকে ঝালিয়ে নেবেন তিনি। জীবনে প্রথমবারের মতো গেছেন অলিম্পিকে। স্বাভাবিকভাবে আনন্দ তো একটু বেশি হবেই। বিশ^সেরাদের সঙ্গে তার দেখা হচ্ছে। অ্যাথলেটিকসে বাংলাদেশের একমাত্র প্রতিযোগী জহির রায়হান ও তার কোচ আবদুল্লাহ হেল কাফি টোকিও পৌঁছেছেন সোমবার বিকালে। মঙ্গলবার সকালে বিশ্রামের পর বিকালে করেছেন অলিম্পিকের জন্য প্রথম অনুশীলন। জ্যামাইকার ১০০ মিটার স্প্রিন্টের চ্যাম্পিয়ন, ৪০০ মিটারের কলম্বিয়ান সেরা ও কিউবার লংজাম্পের শিরোপাধারীর সঙ্গে তার দেখা হয়। জহির বেশ রোমাঞ্চিত ছিলেন। আর দেখা হওয়ার পর সেলফিও তুলেছেন। মনের আনন্দ প্রকাশ করেছেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। ১৯৯২ বার্সেলোনা অলিম্পিকের পর বাংলাদেশের কোনো অ্যাথলেটকে দেখা যাবে ৪০০ মিটারে অংশ নিতে। ২৯ বছর আগে এই ইভেন্টে অংশ নিয়েছিলেন মেহেদী হাসান। তার আগে ১৯৮৮ সিউল অলিম্পিকে এ ইভেন্টে খেলেছিলেন মিলজার হোসেন। জহির প্রতিদ্বন্দ্বিতার ট্র্যাকে নামবেন ১ আগস্ট। ওই দিন বাংলাদেশ সময় সকাল সাড়ে ৭টায় জহিরের হিট। দুই বছর ধরে বাংলাদেশের ট্র্যাক অ্যান্ড ফিল্ডে ভালো পারফর্ম করছেন জহির রায়হান। বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের এই অ্যাথলেট ৩৩ বছরের পুরনো রেকর্ড ভেঙেছেন জাতীয় অ্যাথলেটিক্সে। তবে এটা জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মিলিয়ে ৪০০ মিটারে বাংলাদেশি যে কোনো দৌড়বিদের সেরা টাইমিং। ইলেক্ট্রনিক টাইমিংয়ে ২০১৯ সালে ৪০০ মিটার পার করতে ৪৬ দশমিক ৮৬ সেকেন্ড সময় নেন জহির। দক্ষিণ কোরিয়ার সিউলে ১৯৮৬ সালের এশিয়ান গেমসের ৪০০ মিটারে মিলজার হোসেন ৪৭ দশমিক ৫৫ সেকেন্ড সময় নিয়েছিলেন, যা বাংলাদেশি অ্যাথলেটদের মধ্যে দ্রুততম ছিল বহুদিন। ১৯৯৮ সালে ওয়ার্ল্ড ইয়ুথ গেমসে ১০০ মিটারে আবদুল্লাহ হেল কাফি সেমিফাইনালে উঠেছেন, তার পর ২০১৭ সালে জহির রায়হান অনূর্ধ্ব ১৮ বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপের সেমিফাইনালে জায়গা করে নেন। ৪০০ মিটার স্প্রিন্টে বিশ্ব রেকর্ড ওয়েড ফন নিকার্কের। দক্ষিণ আফ্রিকার এই অলিম্পিক পদকধারী দৌড়বিদ ৪৩.০৩ সেকেন্ড সময় নিয়েছিলেন। জহির ৪০০ মিটার ইভেন্টে জাতীয় রেকর্ডধারী অ্যাথলেট, যার টাইমিং ৪৬.৮৬ সেকেন্ড (ইলেকট্রনিক টাইমিং)। ২০১৯ সালে ৪২তম জাতীয় অ্যাথলেটিকস প্রতিযোগিতায় এই টাইমিং করেছিলেন তিনি। ২০১৭ ওয়ার্ল্ড ইয়ুথ অ্যাথলেটিকস চ্যাম্পিয়নশিপে (কেনিয়ার নাইরোবিতে অনুষ্ঠিত) এবং একই বছরে এশিয়ান ইয়ুথ অ্যাথলেটিকস চ্যাম্পিয়নশিপে (থাইল্যান্ডে অনুষ্ঠিত) ৪০০ মিটার দৌড়ে অংশ নিয়ে হিটে উর্ত্তীণ হয়ে সেমিফাইনালে খেলার যোগ্যতা অর্জন করে তাক লাগিয়ে দিয়েছিলেন। এ ছাড়া তিনি ২০১৮ সাউথ এশিয়ান জুনিয়র চ্যাম্পিয়নশিপে, ২০১৯ ওয়ার্ল্ড অ্যাথলেটিকস চ্যাম্পিয়নশিপে, ২০১৯ এশিয়ান অ্যাথলেটিকস চ্যাম্পিয়নশিপে এবং ২০১৯ সাউথ এশিয়ান গেমসে অংশগ্রহণ করেন। জহিরের ইভেন্ট হচ্ছে ৪টি-৪০০ মিটার, ৪ গুণিতক ৪০০ মিটার রিলে, ২০০ মিটার এবং ৪ গুণিতক ১০০ মিটার রিলে। তবে তার সবচেয়ে প্রিয় ইভেন্ট ৪০০ মিটার স্প্রিন্ট। সর্বশেষ জাতীয় ও সামার অ্যাথলেটিকসে তিনি জেতেন ৭ স্বর্ণপদক। এর মধ্যে ২০২১ ন্যাশনালে ৪০০ মিটার স্প্রিন্টে ৪৭.২০ সেকেন্ড (হ্যান্ড টাইমিং) সময় নেন; স্পর্শ করেন ১৯৯১ সালে মেহেদী হাসানের একই টাইমিংকে। ২০১৯ সালে ৪০০ মিটার স্প্রিন্টে ৩২ বছরের রের্কড ভাঙেন বিকেএসপির জহির রায়হান। ভাঙেন ১৯৮৬ সালে সিউলে মিলজার হোসেনের ৪০০ মিটারের ৪৭.৫৫ সেকেন্ডের টাইমিং। জহিরের টাইমিং ছিল ৪৬.৮৬ সেকেন্ড।

advertisement