advertisement
DARAZ
advertisement
advertisement
advertisement
DBBL
advertisement
advertisement

নারী পাচার চক্রের প্রধান আজমের জামিন স্থগিত

নিজস্ব প্রতিবেদক
২৮ জুলাই ২০২১ ১২:০০ এএম | আপডেট: ২৮ জুলাই ২০২১ ০২:৪৭ এএম
advertisement

চাকরির নামে দেশের হাজারেরও বেশি তরুণী-কিশোরীকে দুবাইয়ে পাচার করে তাদের অনৈতিক কাজে জড়াতে বাধ্য করার অভিযোগে গ্রেপ্তার আন্তর্জাতিক নারী পাচার চক্রের প্রধান আজম খানকে হাইকোর্টের দেওয়া জামিন স্থগিত করেছেন চেম্বার আদালত। রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল মঙ্গলবার আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতি ওবায়দুল হাসান এ আদেশ দেন।

আদালতে আসামিপক্ষে ছিলেন আইনজীবী জয়নুল আবেদীন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল এএম আমিন উদ্দিন ও ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বিশ্বজিৎ দেবনাথ। গত ১৯ জুলাই তাকে জামিন দিয়েছিলেন হাইকোর্ট। পরে এ জামিন স্থগিত চেয়ে আবেদন করে রাষ্ট্রপক্ষ।

আজম খানকে সহযোগীসহ গ্রেপ্তারের পর গত বছরের ১২ জুলাই সংবাদ সম্মেলনে সিআইডির অর্গানাইজড ক্রাইম প্রধান ডিআইজি ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, দুবাইয়ে মানবপাচার চক্রের গডফাদার আজমের বিলাসবহুল হোটেলের সন্ধান পেয়েছি। তিনি ফরচুন পার্ল হোটেল অ্যান্ড ড্যান্স ক্লাব, হোটেল রয়েল ফরচুন, হোটেল ফরচুন গ্রান্ড ও হোটেল সিটি টাওয়ারের অন্যতম মালিক। এর মধ্যে তিনটি ফোর স্টার, একটি থ্রি স্টার মানের। তিনি বাংলাদেশে অর্ধশত দালালের মাধ্যমে কিশোরী অথবা ২০-২২ বছরের মেয়েদের উচ্চ বেতনে কাজ দেওয়ার কথা বলে প্রলুব্ধ করতেন।

তিনি বলেন, দালালরা মেয়েদের প্রলুব্ধ করে নির্ধারিত দুটি বিদেশি এয়ারলাইন্স এজেন্সির মাধ্যমে দুবাই পাঠাত। দুবাই যাওয়ার পর তাদের প্রথমে ছোটখাটো কাজ দেওয়া হতো। এর পর জোরপূর্বক ড্যান্স ক্লাবে নাচ এবং অনৈতিক কাজে বাধ্য করা হতো।

আটকে রাখা হতো, খাবার দেওয়া হতো না, শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হতো। বৈদ্যুতিক শক পর্যন্ত দেওয়া হতো এবং দেহব্যবসায় বাধ্য করা হতো।

এমন অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে দুবাই সরকার বাংলাদেশ দূতাবাসকে জানিয়ে চক্রের গডফাদার আজমের পাসপোর্ট জব্দ করে দেশে ফেরত পাঠায়। দেশে ফেরার পর আজম আত্মগোপনে যান। বারবার নিজের অবস্থান পরিবর্তন করেন। নতুন পাসপোর্ট করে সীমান্ত দিয়ে পার্শ্ববর্তী দেশে পালানোরও চেষ্টা করেন। তবে তার আগেই দুই সহযোগীসহ সিআইডির চৌকস দল তাকে আটক করে। আজমের বিরুদ্ধে ছয়টি হত্যাসহ ১৫টি মামলার তথ্য পেয়েছে সিআইডি। মেয়েদের সঙ্গে কথা বলার ফোন রেকর্ডের অডিও ক্লিপ এরই মধ্যে সিআইডি উদ্ধার করছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আজম আরও স্বীকার করেছেন গত আট বছরে তিনি হাজারেরও বেশি তরুণীকে দুবাই পাচার করেছেন। এ বিষয়ে সিআইডি বাদী হয়ে গত ২ জুলাই রাজধানীর লালবাগ থানায় মানবপাচার আইনে একটি মামলা করে।

advertisement