advertisement
advertisement
advertisement
DBBL
advertisement
advertisement

সুন্দরবন-ভাবনা-দুর্ভাবনা
ক্ষতি বিবেচনায় সব উদ্যোগে সংযত হওয়া দরকার

২৯ জুলাই ২০২১ ১২:০০ এএম
আপডেট: ২৮ জুলাই ২০২১ ১০:৫১ পিএম
advertisement

এ যাত্রা ইউনেস্কোর বার্ষিক মূল্যায়ন সভায় সুন্দরবন বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকা থেকে বাদ পড়েনি। তবে মুক্তিও মেলেনি। সিদ্ধান্ত হয়েছে, সরকারকে প্রদত্ত মান্যতার নির্দেশনা বাস্তবায়নের অগ্রগতি দেখে এ বিষয়ে আগামী বছর সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। দেশে পরিবেশবাদীদের সংগঠনের একটি মোর্চা গঠিত হয়েছে ‘সুন্দরবন বাঁচাও’ নামে। তারা সুন্দরবন ঘেঁষে নির্মীয়মাণ কয়লাভিত্তিক রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের যে নেতিবাচক প্রভাব এই বনের ওপর পড়বে, তা নিয়ে উদ্বিগ্ন। আন্তর্জাতিক পরিবেশবাদী সংস্থাগুলোও এ বিষয়ে যথেষ্ট সতর্ক এবং নানাভাবে সরকারের ওপর চাপ বজায় রেখেছে। সরকার ইউনেস্কোর কিছু নির্দেশনা মেনে এবং কিছু বিষয় স্থগিত বা সংশোধনের আশ্বাস দিয়ে প্রকল্পের কাজ এগিয়ে নিচ্ছে। এটি এখন প্রায় শেষপর্যায়ে রয়েছে।

বিভিন্ন তথ্য বিবরণীতে জানা যাচ্ছে, রামপাল বিদ্যুৎ প্রকল্প ঘিরে ইতোমধ্যেই বেসরকারি উদ্যোগে বহু শিল্প-কারখানা স্থাপনের কাজও চলছে। স্বাভাবিকভাবে এ কাজে বিনিয়োগকারীদের উৎসাহ রয়েছে। কারণ তাদের জন্য সস্তায় বিদ্যুৎপ্রাপ্তি একটি বড় আশীর্বাদ। নৈকট্যের কারণে তারা অবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের বিষয়ে নিশ্চিত থাকতে পারবেন। দেখা যাচ্ছে, বনের ক্ষতির কথা না ভেবেই এখানে অনেক শিল্প-কারখানার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। সরকার অবশ্য দূষণমুক্ত সর্বাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার, উন্নতমানের কয়লা ব্যবহার করে অতিস্বল্প কার্বন নিঃসরণের প্রস্তুতি এবং সুন্দরবন থেকে সব প্রকল্পের দূরত্বের কথা বলে শেষ রক্ষা করতে চাইছে। তবে দেশের এবং বিদেশের পরিবেশভিত্তিক সংগঠন ও কর্মীরা এসব যুক্তির দুর্বলতা নিয়েও বারবার কথা বলেছেন।

সুন্দরবন নিয়ে দেশের মানুষের এবং বিশ্বের প্রকৃতিবিজ্ঞানী ও পরিবেশবিদদের উদ্বিগ্ন হওয়ার যথেষ্ট কারণ রয়েছে। প্রথমত, এ ম্যানগ্রোভ বন বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলের ভূমি গঠন ও ভূমি রক্ষায় মূল ভূমিকা পালন করে। দ্বিতীয়ত, যদি এ ধরনের জলাবনে মানুষের হস্তক্ষেপমুক্ত প্রাকৃতিক পরিবেশ অক্ষুণœ রাখা যায়, তা হলে এই জীববৈচিত্র্যের লীলাভূমি রক্ষা পাবে। তৃতীয়ত, এ রকম আর্দ্র-উষ্ণ-স্যাঁতসেঁতে পরিবেশে অসংখ্য অণুজীব ও সৃষ্টির আদি কীটপতঙ্গ টিকে থাকে, জন্মায় বলে এ বন জীববিজ্ঞান, উদ্ভিদবিজ্ঞান এবং ভূমি ও জলবিজ্ঞানের এক বিশাল প্রাকৃতিক গবেষণাগার। চতুর্থত, সুন্দরবন ম্যানগ্রোভ হলো বিশ্বের এ ধরনের বনের মধ্যে সবচেয়ে বড় ও বৈচিত্র্যপূর্ণ। পঞ্চমত, অভিজ্ঞতা থেকেই আমরা দেখছি, এ বন বড় ঝড়-তুফান থেকে উপকূল ও সন্নিহিত জনপদগুলো রক্ষা করে। আবার নিজের ক্ষতি ও দ্রুত নিজস্ব উদ্যোগে সারিয়ে তুলতে পারে। ফলে সব দিক বিবেচনা করে আমরা বলব, এ বিষয়ে আরও গভীর ভাবনাচিন্তা করা জরুরি। তা ছাড়া বাংলাদেশের এই প্রাকৃতিক বিশ্ব ঐতিহ্যকে ইউনেস্কোর তালিকায় রাখা দেশের জন্যও মর্যাদার বিষয়।

advertisement