advertisement
advertisement
advertisement
DBBL
advertisement
advertisement

তালেবান ক্ষমতায় আসায় যেভাবে আল কায়েদার রাজনৈতিক পুনর্জাগরণ

নম্রতা বিজী আহুজা
১৩ সেপ্টেম্বর ২০২১ ২২:০২ | আপডেট: ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২১ ২২:০২
ছবি : ডন
advertisement

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃক দীর্ঘ দুই দশক কোণঠাসা হয়ে থাকার পর এবার তালেবানের ছত্রছায়ায় পুনরায় মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে শুরু করেছে আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠন আল-কায়েদা। তালেবান ও আল কায়েদার মধ্যে যোগসাজশ রয়েছে, গোয়েন্দা সংস্থাগুলো দীর্ঘদিন ধরেই তা দাবি করে আসছিল। কিন্তু তালেবান দ্বিতীয় মেয়াদে আফগানিস্তানের শাসনক্ষমতা দখল করার ফলে শঙ্কা তৈরি হয়েছে যে, তাদের অধীনে আরও সংগঠিত, আরও শক্তিশালী হয়ে উঠবে আল কায়েদা। ফলে সন্ত্রাসবাদের মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়বে গোটা বিশ্ব।

২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে ভয়াবহ বিমান হামলার মধ্য দিয়ে বিশ্ববাসীর নজরে আসে মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠন আল কায়েদা। সেই হামলায় প্রায় তিন হাজার নিরীহ মানুষ প্রাণ হারায়। আর ওই হামলার পর বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে জঙ্গী সংগঠনটির একাধিক শাখার জন্ম হয়।অধিকাংশ ক্ষেত্রেই যারা বৈশ্বিক সন্ত্রাসবাদের অনুঘটক।

এর আগে দীর্ঘ দুই দশক তালেবান কর্তৃক বিভিন্ন সাহায্য সহযোগিতা পেয়ে এসেছে আল কায়েদা। কিন্তু এবার তালেবান দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় এসে আল-কায়েদাকে রাজনৈতিকভাবে বৈধতা দিয়েছে। তালেবান নতুন করে যে সরকার গঠন করেছে সেখানে অন্তত ৩৩জন চিহ্নিত আল-কায়েদা সমর্থিত নেতা রয়েছে। যার মধ্যে ১৭ জনই জাতিসংঘের কালো তালিকাভুক্ত। আর সেখানে পাকিস্তান তালেবানের অন্তত ২০ জনকে রাখা হয়েছে। আর কাতারের দোহায় যেসব তালেবান নেতৃবৃন্দ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শান্তি আলোচনায় অংশগ্রহণ করেছিলেন তাদেরকে মন্ত্রিসভা থেকে দূরে সরিয়ে রাখা হয়েছে।

নতুন করে আল-কায়েদার মাথাচাড়া দিয়ে ওঠার ক্ষেত্রে কিছু বিষয় অনুঘটক হিসেবে কাজ করেছে। দুই দশক ধরে, আল কায়েদার নেতারা হয় বৈশ্বিক নিষেধাজ্ঞার মুখোমুখি ছিলেন, অথবা মার্কিন ড্রোন হামলায় নিহত হচ্ছিলেন। কিন্তু তারা তালেবানকে বিজয়ী করতে নিজেদের জীবন উৎসর্গ করেছিলেন।আফগানিস্তান এর বিভিন্ন অংশ তালেবান সৈন্যদের সামরিক প্রশিক্ষণ এবং খনি খনন কাজে সহযোগিতা করে আল কায়েদা। ৯/১১ এর ঘটনার পর যুক্তরাষ্ট্র যখন আফগানিস্তানে হামলা চালায় তখন তালেবান নেতারা পাকিস্তানে আশ্রয় নেন। সেখানে থাকা আল-কায়েদার দুই সহযোগী সংগঠন লস্কর-ই-তাইয়েবার এবং জইশ-ই-মোহাম্মদ তালেবানকে সহযোগিতা করে। এ ছাড়া বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা নিজেদের অন্তত ডজনখানেক সহযোগী সংগঠনকে একত্রিত করে আল কায়েদা। এরমধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি হলো- ( আল কায়েদা সেন্ট্রাল (একিউসি), আল কায়েদা ইন ইন্ডিয়ান সাব-কন্টিনেন্ট (একিউআইএস), আল কায়েদা ইন ইসলামিক মাগরেব (একিউআইএম), জামায়া নুসরাতুল ইসলাম ওয়া আল মুসলিমিন (জেনেআইএম) ইয়েমেন ভিত্তিক আল-আল-কায়েদার অন্যান্য সহযোগী আল কায়েদা ইন আরবিয়ান পেনিনসুলা (একিউএপি), সিরিয়া ভিত্তিক হায়াত তাহরির আল শাম (এইচটিএস), আফগানিস্তান ভিত্তিক তুর্কিস্তান ইসলামিক পার্টি (টিআইপি) এবং পাকিস্তান ভিত্তিক তেহরিক-ই-তালিবান (টিইপি)। সংগঠনগুলো একত্রে তালেবানের বিজয়ের জন্য কাজ করে গেছে। ফলে এত দ্রুত অভাবনীয় সাফল্য অর্জনে সক্ষম হয় তালেবান। আর প্রতিদান হিসেবে তালেবান সরকারে আল-কায়েদার অন্তত ৩৩ জনকে জায়গা দেওয়া হয়েছে।

এমন পরিস্থিতিতে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াইরত রাষ্ট্রগুলো তাদের সন্ত্রাসদমন নীতির কৌশলগত পরিবর্তন আনতে বাধ্য হচ্ছে। ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা 'র' -এর প্রধান বিক্রম সূদ বলেন, তালেবানের সরকার কাঠামোয় আল-কায়েদার রাজনৈতিক বৈধতা পাওয়ার পর ভারতের উচিত পরিবর্তিত পরিস্থিতির ওপর গভীর নজরদারি অব্যাহত রাখা। কারণ পরিস্থিতি ঠিক কোনদিকে যাচ্ছে এখনো তা নিরূপণ করা সম্ভব হচ্ছে না। অন্তত পরিস্থিতিতে যে ভয়াবহ পরিণতির দিকে ধাবিত হচ্ছে তা স্পষ্ট। কারণ, আল-কায়েদা সেন্ট্রাল (একিউসি) এর আগে এক বার্তায় জানিয়েছে, ফিলিস্তিন সংকটের জন্য ইসরায়েলের বিরুদ্ধে, কাশ্মীর সংকটের জন্য ভারতের বিরুদ্ধে এবং ইয়েমেন ও সোমালিয়ায় ইসলামের শত্রুদের বিরুদ্ধে ভয়াবহ আঘাত হানতে যাচ্ছে আল কায়েদা। ফলে, এশিয়া-মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে যেখানে জঙ্গিগোষ্ঠীদের স্বার্থ রয়েছে সেখানে সন্ত্রাসী হামলার উচ্চ ঝুঁকি রয়েছে। যাইহোক ওই বার্তায় এটি পরিষ্কার যে, আল-কায়েদা আবারও আগের রূপে ফিরে আসছে। নতুন রূপে তাদের সঙ্গে থাকছে রাজনৈতিক বৈধতাও। সঙ্গে থাকছে পাকিস্তান এবং কাবুলের ক্ষমতাসীন তালেবানের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সহযোগিতা। ফলে আন্তর্জাতিক এই সন্ত্রাসী গোষ্ঠীটি ৯/১১ এর মত নতুন করে আরও ধ্বংসযজ্ঞ চালালে তা অবাক করা বিষয় হবে না! সূত্র- দ্য উইক।

লেখক- ভারতের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিটের বিশেষ প্রতিনিধি।

advertisement