advertisement
advertisement
advertisement
DBBL
advertisement
advertisement

রোববার থেকে প্রতিদিন ৪ ঘণ্টা বন্ধ সিএনজি স্টেশন

নিজস্ব প্রতিবেদক
১৫ সেপ্টেম্বর ২০২১ ১১:৫৭ পিএম | আপডেট: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২১ ০৯:১৭ এএম
পুরোনো ছবি
advertisement

বিদ্যুৎকেন্দ্রে গ্যাস সরবরাহ বাড়াতে প্রতিদিন সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত চার ঘণ্টা সিএনজি ফিলিং স্টেশন বন্ধ থাকবে। আগামী রোববার থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এই সিদ্ধান্ত কার্যকর থাকবে।

গতকাল বুধবার রাতে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপ-প্রধান তথ্য অফিসার মীর মোহাম্মদ আসলাম উদ্দিন এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে গত সোমবার জ্বালানি বিভাগ জানায়, পিক আওয়ারে বিদ্যুৎ উৎপাদনে গ্যাসের সরবরাহ বাড়াতে প্রতিদিন বিকাল ৫টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত ছয় ঘণ্টা সিএনজি স্টেশন বন্ধ রাখতে হবে। এই সিদ্ধান্ত কার্যকরের বিষয়ে গত মঙ্গলবার সিএনজি ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সঙ্গে আলোচনায় বসে পেট্রোবাংলা।

সভায় স্টেশন মালিকেরা সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত তিন ঘণ্টা পাম্প বন্ধ রাখার প্রস্তাব দেয়। পাশাপাশি সিদ্ধান্ত কার্যকরের জন্য কয়েক দিন সময় চায় ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন। তাদের দাবি নিয়ে পেট্রোাবাংলাসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে গতকাল বুধবার একটি বৈঠক করে জ্বালানি বিভাগ। বৈঠকের পর রোববার থেকে সিএনজি স্টেশন বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত হয়।

সিএনজি স্টেশনগুলো কম গ্যাস ব্যবহার করে তাই এখানে রেশনিং করে কতটুকু লাভ হবে জানতে চাইলে জ্বালানি বিভাগের সিনিয়র সচিব মো. আনিছুর রহমান বলেন, ‘গরমের কারণে বিদ্যুতের চাহিদা অনেক বেড়েছে। আবার গ্যাসের সরবরাহ কমেছে। পিক আওয়ারে বিদ্যুৎ উৎপাদনে অনেক গ্যাস প্রয়োজন হচ্ছে। সিএনজি স্টেশনগুলোও একই সময় গ্যাস বেশি টানে। তাই পিক আওয়ারে এসব স্টেশন বন্ধ থাকলে বিদ্যুতে একটু বেশি গ্যাস দেওয়া যাবে।’

জানা গেছে, গ্যাস সংকটের কারণে বিগত বছরগুলোতে সিএনজি স্টেশনে গ্যাস রেশনিং করা হতো। ২০১৮ সালের শেষের দিকে গ্যাস আমদানি শুরু পর (এলএনজি) রেশনিং তুলে নেওয়া হয়। এরপর থেকে ৪ ঘণ্টা সিএনজি স্টেশন চালু রাখা হচ্ছিল।

বর্তমানে দৈনিক বিদ্যুতে সর্বোচ্চ চাহিদা সাড়ে ১৪ হাজার মেগাওয়াট। উৎপাদন হচ্ছে গড়ে সর্বোচ্চ ১৩ হাজার মেগাওয়াট। বাংলাদেশে বিদ্যুতের সর্বোচ্চ চাহিদার সময় (পিক আওয়ার) ধরা হয় বিকেল ৫ টা থেকে রাত ১১ টা। এ সময় বিদ্যুৎ উৎপাদনে বেশি গ্যাস লাগে।

বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড বলছে, তাদের গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো সর্বোচ্চ ক্ষমতায় চালাতে দৈনিক ১৪০ কোটি ঘনফুট গ্যাস প্রয়োজন। এখন পেট্রোবাংলা সরবরাহ করছে ১১০ কোটি ঘনফুট। যা থেকে পাওয়া যায় প্রায় ছয় হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ। গ্যাস  কটের কারণে তেলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো বেশি চালানো হচ্ছে। এতে বিদ্যুতের উৎপাদন ব্যয় বাড়ছে।

পিডিবির তথ্য বলছে, গত রোববার বিদ্যুৎ উৎপাদনে ১০৭ কোটি টাকার মতো জ্বালানি পুড়েছে। এর মধ্যে গ্যাসে ব্যয় হয়েছে ১৪ কোটি টাকা আর তেলে ব্যয় হয়েছে ৮৭ কোটি টাকা। তেলে ব্যবহার বাড়ায় বিদ্যুতে ভর্তুকি বাড়বে।

বিদ্যুৎ বিভাগ মনে করছে, তেলের ব্যবহার বাড়ায় চলতি অর্থবছর বিদ্যুতে ভর্তুকি সাড়ে ১৬ হাজার কোটি টাকায় গিয়ে দাঁড়াবে। গত অর্থবছর এ ভর্তুকি ছিল ১০ হাজার কোটি টাকা। বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যয় কমাতে সরকার গ্যাস সরবরাহ বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নিয়েছে। গত জুলাই মাসে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের এক প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, আগামী ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বিদ্যুৎ উৎপাদনে গ্যাসের প্রয়োজন হবে দৈনিক ১৪০ কোটি ঘনফুট। পেট্রোবাংলা দিতে পারবে ১০০ থেকে ১১০ কোটি ঘনফুট। ঘাটতি মেটাতে ওই প্রতিবেদনে পিক আওয়ারে ৬ ঘণ্টা সিএনজি স্টেশন বন্ধ রাখার সুপারিশ করা হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, এতে ৭ থেকে আট কোটি ঘনফুট গ্যাস সাশ্রয় হবে, যা বিদ্যুৎ উৎপাদনে সরবরাহ করা যাবে।

advertisement