advertisement
advertisement
advertisement
DBBL
advertisement
advertisement

পাকিস্তান-তালেবান ‘খেলায়’ আফগান শরণার্থী সংকট দীর্ঘ হতে পারে

অনলাইন ডেস্ক
১৮ সেপ্টেম্বর ২০২১ ০৩:২৫ পিএম | আপডেট: ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২১ ০৩:২৬ পিএম
ছবি : এএনআই
advertisement

তালেবানের সঙ্গে পাকিস্তানের ‘খেলা’ আফগানিস্তানে তালেবান-পরবর্তী শরণার্থী সংকট দীর্ঘ হওয়ার হুমকি দিচ্ছে। এজন্য বিষয়টি ধারাবাহিকভাবে আলোচনায় রাখা উচিত বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। টাইমস অব ইসরায়েলের একটি ব্লগ পোস্টে ফ্যাবিয়েন বাউসার্ট বলেছেন, ‘বিষয়টি সমাধান করতে কাবুল ও ইসলামাবাদের ওপর চাপ প্রয়োগ করে কঠিন পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।’

স্থলবেষ্টিত ওই রাষ্ট্রটিতে বিশাল আকারের একটি মানবিক সংকট দেখা দিচ্ছে বলে দাবি করে বাউসার্ট বলেন, ‘আফগানিস্তানের তালেবান শাসকরা মৌখিকভাবে নিরাপত্তার আশ্বাস দিলেও তারা তাদের বিরোধীদেরকে রাস্তাঘাটে এবং বাড়িতে নির্যাতন করছে। এই সংকট তৈরিতে  বড় অবদান রয়েছে পাকিস্তানের, যার সঙ্গে আফগানিস্তানের সবচেয়ে বড় সীমান্ত রয়েছে। কিন্তু পাকিস্তানে পালিয়ে যাওয়া আফগানদের জন্য সীমান্ত উন্মুক্ত করবে না।’

সীমান্তের চেকপোস্ট বন্ধ করে পরিস্থিতি জটিল করা হচ্ছে এবং যারা সীমানা অতিক্রম করার চেষ্টা করছে তাদেরকে ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। দ্য টাইমস অব ইসরায়েলের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নতুন শরণার্থীদের বাধ্য ও জোরজবরদস্তি করা হচ্ছে। রাতে তাদেরকে সেখানে থাকতে দেওয়া হচ্ছে না এবং আফগান কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হচ্ছে।

এর আগে গত ৫ সেপ্টেম্বর পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ রশিদ কোয়েটায় বলেছিলেন, এখানে কোনো শরণার্থী শিবির নেই। তিনদিন পরে একই শহর থেকে পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম ডন তার প্রতিবেদনে জানায়, ২০০ আফগান যারা শিশুসহ পরিবার নিয়ে স্পিন বোলদাক ও চমন থেকে এসেছিল তাদেরকে ফেরত পাঠানো হয়েছে। আফগান কর্তৃপক্ষ তাদেরকে আফগানিস্তানের অভ্যন্তরে ফিরিয়ে নিয়ে গেছে। এদিকে হিউম্যান রাইটস ওয়াচের এটিকে ‘বেআইনি ও জোরপূর্বক গণপ্রত্যাবর্তন’বলে উল্লেখ করছে।

হিউম্যান রাইটস ওয়াচের ড. ওলসেউস্কা উল্লেখ করেছেন, ‘বর্তমান আংশিক সীমান্ত দ্বিমুখীভাবে বন্ধ। কারণ তালেবান পাকিস্তানকে চাপ দিতে স্পিন বোলদাকের অংশ বন্ধ করে দিয়েছে। আফগানিস্তানে প্রবেশের জন্য এবং যারা দেশ ছেড়ে যেতে ইচ্ছুক তাদের মানবিক সহায়তার জন্য সীমান্ত খোলা জরুরি।’কিন্তু পাকিস্তান এ ব্যাপারে অসহিষ্ণু। পাকিস্তান চায় না আনুমানিক ৩ লাখ আফগান নাগরিক সেখানে দীর্ঘ দিন অবস্থান করুক।

বাউসার্ট বলেছেন, ‘পাকিস্তান সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে নিরাপত্তার উদ্বেগের কথা উল্লেখ করেছে। যেখানে বিশ্লেষক ও গণমাধ্যমের প্রতিবেদন বলছে, আফগানিস্তানের সংঘাতের কারণে মানুষের পাশাপাশি মাদক ও অস্ত্র ঢুকতে পারে সীমান্তে।’

এদিকে যুক্তরাজ্যভিত্তিক ক্রাইসিস রেসপন্স জার্নাল (সিআরজে) বলেছে, ‘সত্য হলো দেশটির শরণার্থী ইস্যু নতুন বা সাম্প্রতিক নয়। কয়েক দশক ধরে খণ্ড খণ্ডভাবে আফগানরা শরণার্থী হয়েছে।

ইউএনএইচসিআরের হিসাব অনুসারে, শুধু এই বছর ৪ লাখেরও বেশি আফগান বাস্তুচ্যুত হয়েছে। সন্ত্রাসী গোষ্ঠীটি কোনো অঞ্চল তাদের নিয়ন্ত্রণে দাবি করলে মানুষ পালিয়ে গেছে। ২০২০ সালের শেষের দিকে অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত হয়েছে ২ দশমিক ৯ মিলিয়ন মানুষ। সামগ্রিকভাবে এই সংখ্যা পাঁচ মিলিয়ন পর্যন্ত হয়েছে।’

সূত্র : এএনআই

advertisement