advertisement
DARAZ
advertisement
advertisement
advertisement
DBBL
advertisement
advertisement

মহেশখালী ও কুতুবদিয়ায় নির্বাচনী সহিংসতায় নিহত ২

নিজস্ব প্রতিবেদক,কক্সবাজার
২০ সেপ্টেম্বর ২০২১ ০১:০৪ পিএম | আপডেট: ২০ সেপ্টেম্বর ২০২১ ০২:৩৮ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
advertisement

কক্সবাজারের মহেশখালী, কুতুবদিয়া ও টেকনাফে নির্বাচনী সহিংসতা শুরু হয়েছে। সহিংসতায় মহেশখালী ও কুতুবদিয়ায় আবুল কালাম (৩২) ও আব্দুল হালিম (৩৫) নামে দুজন নিহত হয়েছেন। আজ সোমবার দিনের বিভিন্ন সময় ঘটনাগুলো ঘটেছে। ঘটনার পর মহেশখালীর কুতুবজুমের দুটি, কুতবদিয়ার বড়ঘোপের দুটি ও টেকনাফের হোয়াইক্যংয়ের দুটি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ বন্ধ রয়েছে।

জানা গেছে, সকাল সাড়ে ৯টায় মহেশখালীর কুতুবজুম ইউনিয়নের পশ্চিমপাড়ায় আওয়ামী লীগের প্রার্থী শেখ কামাল ও বিদ্রোহী প্রার্থী মোশাররফ হোসেন খোকনের সমর্থকদের মধ্যে গোলাগুলিতে আবুল কালাম নিহত হয়।

এ ছাড়া বেলা সাড়ে ১২টায় ব্যালেট পেপার ছিনতাইকালে কুতুবদিয়ার বড়ঘোপ ইউনিয়নে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গুলিতে ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হালিম নিহত হয়েছেন। অন্যদিকে টেকনাফের হোয়াইক্যং ইউনিয়নে ব্যালেট ছিনতাইয়ের অভিযোগে দুই কেন্দ্রের ভোটগ্রহণ স্থগিত রয়েছে।

জেলা ও উপজেলা নির্বাচন অফিস, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সূত্রে জানা যায়, কুতু্বজুম ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ছুরিকাঘাত ও গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। এতে ওই ইউনিয়নের ৪ ও ৫ নম্বর ওয়ার্ডের দুই কেন্দ্রের ভোটগ্রহণ আপাতত বন্ধ রয়েছে। এ ঘটনায় কুতুবজুমের পশ্চিম পাড়া গ্রামের ছোট মিয়ার ছেলে আবুল কালাম নিহত হয়েছে। এ সময় চারজন আহত হয়েছেন। তাদের কক্সবাজার সদর হাসাপাতাল আনা হয়েছে। সকাল সাড়ে ৯টায় ঘটনাটি ঘটেছে। এ নিয়ে চেয়ারম্যান প্রার্থীরা একে অপরকে দোষারোপ করছে।

এ বিষয়ে নৌকা প্রতীকের চেয়াম্যান প্রার্থী শেখ কামাল বলেন, ‘আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী মোশাররফ হোসেন খোকনের সমর্থকরা কুতুবজুম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও জামিয়ুস সুন্নাহ দারুল উলুম মাদ্রাসকেন্দ্র দখল নিতে পরিকল্পিতভাবে গোলাগুলি ও ছুরিকাঘাতের ঘটনা ঘটিয়েছে।’

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী মোশারররফ হোসেন খোকন বলেন, ‘প্রায়ই বিভিন্ন কেন্দ্র থেকে তার এজেন্টদের বের করে দিচ্ছে শেখ কামালের সন্ত্রাসী বাহিনী। এমন খবর পেয়ে ভোটার ও তার সমর্থকরা ৪ নম্বর ওয়ার্ডের কেন্দ্রে গেলে নৌকার প্রার্থীর ক্যাডাররা গুলি করেছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘৫ নম্বর ওয়ার্ডের জামিয়ুস সুন্নাহ দারুল মাদ্রাসা কেন্দ্রে দুই ইউপি সদস্য প্রার্থী ফুটবল প্রতীকের ফরিদুল আলম ও টিউবওয়েল প্রতীকের জহিরুল ইসলামের সমর্থকের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।’

এ বিষয়ে কুতু্বজুম ইউপি নির্বাচনের দায়িত্বপ্রাপ্ত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাহামুদুর রহমান বলেন, ‘গোলাগুলির খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছেছি। দুই কেন্দ্রই পাশাপাশি। আপাতত দুই কেন্দ্রের ভোটগ্রহণ বন্ধ রয়েছে।’

এ বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘নিহতের মৃতদেহ কক্সবাজার সদর হাসপাতাল মর্গে রয়েছে।’

এদিকে, কুতুবদিয়ার বড়ঘোপ ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ড়ের পিলটকাটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গুলিতে আবদুল হালিম নিহত হয়েছে। বেলা সাড়ে ১২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। এতে পিলটকাটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও কুতুবদিয়া সরকারি কলেজকেন্দ্রে ভোটগ্রহণ বন্ধ রয়েছে।

এ ছাড়া সংঘর্ষের ঘটনায় অন্তত ২৫ জন আহত হয়েছেন। তাদের মাঝে আহত ১৮ জনকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন কুতুবদিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দায়িত্বরত চিকিৎসক মো. শরীফ। নিহত আবদুল হালিম বড়ঘোপ ইউনিয়নের গোলদারপাড়া এলাকার মোহাম্মদ হোসেনের ছেলে এবং ৭নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, কিছুলোক ব্যালট পেপার ছিনতাইয়ের চেষ্টা করে। ছিনতাই ঠেকাতে আইনশঙ্খলা বাহিনীর এক সদস্য গুলি চালালে গুলিতে আবদুল হালিম আহত হয়। তাকে উদ্ধার করে কুতুবদিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে দায়িত্বরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

কুতুবদিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ মো. ওমর হায়দার বলেন, আবদুল হালিম নামে একজন নিহত হয়েছে। নিহতের লাশ কুতুবদিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রয়েছে। নিহত ব্যক্তি নৌকা প্রতিকের প্রার্থীর সমর্থক।

কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মুজিবুর রহমান বলেন, পুলিশের গুলিতে ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবদুল হালিম নিহত হয়েছে। তবে কি কারণে পুলিশগুলি করেছে তা তিনি জানাতে পারেননি।

অন্যদিকে, টেকনাফের হোয়াইক্যং ইউনিয়নের উনছিপ্রাং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও লম্বারবিল এমদাদিয়া মাদরাসা ভোট কেন্দ্রে ব্যালট ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় নির্বাচন কর্মকর্তাদের অবরুদ্ধ করে রাখে উত্তেজিত জনতা। প্রায় দু’ঘণ্টা ধরে থেমে থেমে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে স্বানীয়রা।

খবর পেয়ে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) আবু সুফিয়ান, টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী অফিসার পারভেজ চৌধুরী, সহকারী কমিশনার (ভূমি) ইরফানুল হক চৌধুরী বেলা ১টার দিকে লম্বাবিল ভোট কেন্দ্রে পৌঁছেন। তারা প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ও এজেন্টদের অভিযোগ শোনেন। তাৎক্ষণিক দুই কেন্দ্রের ভোটগ্রহণ স্থগিত থাকবে বলে জানান উপজেলা নির্বাহী অফিসার পারভেজ চৌধুরী।

advertisement