advertisement
advertisement
advertisement
DBBL
advertisement
advertisement

অনলাইনে কিডনি বেচাকেনার ফাঁদ
শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে

১৪ অক্টোবর ২০২১ ১২:০০ এএম
আপডেট: ১৩ অক্টোবর ২০২১ ১১:০১ পিএম
advertisement

অনলাইনে কিডনি কেনাবেচাচক্রের পাঁচ সদস্য শেষমেশ র‌্যাবের জালে আটকা পড়েছে। গত সোমবার রাত থেকে মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত রাজধানীর নর্দা এবং জয়পুরহাটে অভিযান চালিয়ে র‌্যাব-৫, র‌্যাব-২ ও র‌্যাব সদর দপ্তরের গোয়েন্দা শাখার সদস্যরা তাদের গ্রেপ্তার করেন। প্রায় ১৫ বছর আগে জয়পুরহাটের কালাইয়ে প্রথম কিডনি বিক্রির ঘটনা ফাঁস হয়। এর পর ‘মানবদেহের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সংযোজন আইন ২০১৫’ প্রণয়ন করা হয়েছে। এ আইনের বিভিন্ন ধারা-উপধারায় সরকার নির্ধারিত ফরমে অনুমতি গ্রহণ ও আত্মীয়তা সম্পর্ক যাচাইয়ের জন্য যাচাই কমিটি এবং দাতা-গ্রহীতার জন্মনিবন্ধন, জাতীয় পরিচয়পত্র, প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট বা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে স্ট্যাম্পে প্রদত্ত হলফনামা, স্থানীয় সরকারের প্রত্যয়নপত্র, নোটারি পাবলিক ছাড়াও মা-বাবার ক্ষেত্রে ডিএনএ পরীক্ষার রিপোর্ট, স্বামী-স্ত্রীর ক্ষেত্রে কাবিননামা ইত্যাদি প্রদর্শনের কথা বলা হয়েছে।

নিকটাত্মীয়রা সহজে কিডনি দান করছেন না। তারা ঝুঁকির বিষয়ে নিঃসন্দেহ নন। এ কারণে আইনের উদ্দেশ্য পূরণের অন্তর্নিহিত দুর্বলতা থাকছেই। খোঁজ নিলে হয়তো জানবেন, দানকারীরা হরহামেশা প্রতারণার শিকার হচ্ছেন। পাঁচ লাখ টাকা পাওয়ার আশায় কিডনি দিয়ে হাতে সামান্য টাকাই পেয়েছেন- এমন ঘটনাও ঘটেছে। দালালচক্র আইনকে পাশ কাটিয়ে দেশের বাইরে, বিশেষ করে ভারত, সিঙ্গাপুর, শ্রীলংকা ও থাইল্যান্ডের বিভিন্ন হাসপাতালে কিডনি স্থানান্তরের ব্যবস্থা করছে।

বলার অপেক্ষা রাখে না- মানবিক কারণে কেউ যদি কাউকে অঙ্গ দান করেন, তা হলে সেটি দোষের কিছু নয়। কিন্তু দেশের প্রচলিত আইন অমান্য করে যারা অবৈধ প্রক্রিয়ায় কিডনিসহ মানবদেহের অন্য অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ নিয়ে ব্যবসা করছে, তাদের আইনের আওতায় এনে শাস্তি প্রদান করা উচিত। তবে সমাজ থেকে দারিদ্র্য নির্মূল না হলে শুধু আইন দিয়ে এ প্রবণতা পুরোপুরি রোধ করা কঠিন।

advertisement