advertisement
DARAZ
advertisement
advertisement
advertisement
DBBL
advertisement
advertisement

যেসব রোগ গোপন করবেন না

ডা. দিদারুল আহসান
১৫ অক্টোবর ২০২১ ১২:০০ এএম | আপডেট: ১৫ অক্টোবর ২০২১ ০৯:০০ এএম
advertisement

পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের মতো আমাদের দেশেও যৌনবাহিত রোগ বেড়েই চলেছে। সময় যত যাচ্ছে, মানুষের সচেতনতা তত বাড়ছে। তবে অনেকেই যৌনরোগ রোগই মনে করেন না। ফলে তাদের ক্ষেত্রে রোগমুক্তি কঠিন হয়ে পড়ে। একপর্যায়ে তাদের ক্ষেত্রে রোগটি ভয়াবহ আকার ধারণ করে।

চর্মরোগের কয়েকটি জটিল ধরন : চর্মরোগ নানা ধরনের। এর মধ্যে যেগুলো খুব জটিল তা হলো-

গনোরিয়া : বিশ্বজুড়ে এ রোগে প্রতিবছর আক্রান্তের সংখ্যা আনুমানিক সাড়ে ৭ কোটি। পুরুষের ক্ষেত্রে শুক্রনালি বন্ধ ও উপশুক্রাশয় নষ্ট হয়ে যেতে পারে (এপিডিডাইমিস)। এসব ক্ষেত্রে স্ত্রীসঙ্গমে সমস্যা দেখা না দিলেও সন্তানের বাবা হওয়ার সম্ভাবনা কমে যায়। কারণ ওই ক্ষেত্রে সঠিকভাবে বীর্য তৈরি হয় না। হলেও ভালো নল দিয়ে তা আসতে পারে না। তাই সন্তানের জনক হওয়ার ক্ষমতা হারিয়ে যায়। দীর্ঘস্থায়ী হলে প্রস্টেট গ্রন্থির প্রদাহ হতে পারে। ফলে মূত্রনালির সমস্যা দেখা দেয়। যেমনÑ প্রস্রাব করতে অসুবিধা। এমনকি প্রস্রাব বের হতে বাধাগ্রস্ত ও ব্যথা হয়। এতে মূত্রনালি সংকীর্ণ হয়ে আসতে পারে। নারীর ক্ষেত্রে সঠিক চিকিৎসা দেওয়া না হলে ডিম্বনালির ছিদ্র বন্ধ ও মা হওয়ার সম্ভাবনা হারিয়ে ফেলে। মূত্রাশয়ের প্রদাহ হওয়ায় ঘন ঘন প্রস্রাব হতে পারে। নারী যদি গর্ভবতী হন, তা হলে সন্তান জন্মদানের সময় শিশুর চোখ আক্রান্ত হতে পারে। এ ছাড়া নারী-পুরুষ উভয় ক্ষেত্রেই হাঁটু বা গোড়ালিতে পুঁজ জমে ফুলে যেতে পারে।

সিফিলিস : এ ক্ষেত্রেও উপযুক্ত চিকিৎসা না হলে জটিল রূপ ধারণ করে। সঠিক চিকিৎসা না হলে সিফিলিস মেয়াদি সিফিলিসে পরিণত হতে পারে। তা দুই বছরের পর থেকে শুরু করে সিফিলিসের মধ্য থেকে ৩০ শতাংশ প্রাকৃতিকভাবে ভালো হয়ে যেতে পারে। বাকি ৭০ শতাংশের মধ্য থেকে ৩০ শতাংশ মেয়াদি সুপ্ত জীবনব্যাপী সিফিলিস হতে পারে অর্থাৎ সারাজীবন তিনি এ জীবাণুটি উপসর্গবিহীন অবস্থায় বয়ে বেড়াবেন। বাকি ৪০ শতাংশের মধ্য থেকে ১২ দশমিক ৫ শতাংশ স্নায়ুতন্ত্রের সিফিলিস ও ১২ দশমিক ৫ শতাংশ হৃদযন্ত্রের সিফিলিসের জটিলতাসহকারে দেখা দেয়। আক্রান্ত মায়ের মাধ্যমে গর্ভস্থ শিশুর দেহে এ রোগের জীবাণু প্রবেশ করতে পারে। এ ক্ষেত্রে গর্ভপাতও ঘটতে পারে, মৃত সন্তান প্রসব হতে পারে অথবা সিফিলিসে আক্রান্ত হয়ে শিশু জন্মগ্রহণ করতে পারে। আক্রান্ত ব্যক্তির হার্ট ও মস্তিষ্কে গুরুতর সমস্যা দেখা দিতে পারে। তা থেকে মৃত্যুর দিকে এগিয়ে যেতে পারেন। কাজেই উপযুক্ত চিকিৎসার প্রয়োজনীয়তা বা গুরুত্ব আশা করি সবাই বুঝতে সমর্থ হবেন।

শেনকরোয়েড : চিকিৎসা না হলে বা উপযুক্ত চিকিৎসা না হলে এ থেকে অনেক জটিলতা সৃষ্টি হয়। যেমনÑ আক্রান্ত ব্যক্তির কুঁচকির লসিকাগ্রন্থি আক্রান্ত হয়ে ওওঘএটওঘঅখ ইটইঙ-তে পরিণত হতে পারে। তা একপর্যায়ে ফেটে গিয়ে নিঃসরণ নালি তৈরি হতে পারে অথবা ফাইমোসিস বা প্যারাফাইমোসিস দেখা দিতে পারে। ফলে পুরুষাঙ্গের ছিদ্র সরু হয়ে প্রস্রাব বন্ধ হয়ে যেতে পারে। এ রোগের দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে অপারেশনের প্রয়োজন হতে পারে।

জেনিটাল হারপিস : এটি একটি ভাইরাসজনিত রোগ। একবার হলে কখনো ভালো হয় না। কিছুদিন পর দেখা দেয়। আবার চলে যায়। একটি নির্দিষ্ট সময় পর দেখা দেয়। মায়ের এ রোগ থাকলে প্রসবের সময় শিশু আক্রান্ত হতে পারে। শিশুর চোখ আক্রান্ত হতে পারে। গর্ভপাত হতে পারে। মায়ের জরায়ুগ্রীবায় ক্যানসার হতে পারে।

অক্টোবর স্তন ক্যানসার মাসে যে কোনো সরকারি হাসপাতাল থেকেও সহজেই চিকিৎসা নিতে পারেন। চর্ম ও যৌনরোগ বিষয়ে অবহেলা না করে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হোন। আপনি সুস্থ থাকলেই আপনার পরিবারও সুস্থ থাকবে।

লেখক : চর্ম, যৌন ও অ্যালার্জি রোগ বিশেষজ্ঞ

সিনিয়র কনসালট্যান্ট ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক আল-রাজি হাসপাতাল, দ্বিতীয় তলা, ফার্মগেট, ঢাকা। ০১৭১৫৬১৬২০০, ০১৮১৯২১৮৩৭৮

advertisement