advertisement
advertisement
advertisement
DBBL
advertisement
advertisement

মানবপাচারচক্রের হোতা গ্রেপ্তার
সব দুর্বৃত্তকে আইনের আওতায় আনুন

১৫ অক্টোবর ২০২১ ১২:০০ এএম
আপডেট: ১৪ অক্টোবর ২০২১ ১০:৫৩ পিএম
advertisement

সরকারের কঠোর আইন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরদারি কিংবা উন্নয়নের বিপুল আয়োজন কোনো কিছুই বাংলাদেশ থেকে মানবপাচার বন্ধ করতে পারছে না। বেকার তরুণ ও যুবকদের উন্নত জীবনের প্রলোভন দেখিয়ে প্রতিবছরই পাচার করা হয়। একটি সংঘবদ্ধচক্র হাতিয়ে নেয় বিপুল পরিমাণ অর্থ। পাচারের শিকার ব্যক্তিরা বিদেশে গিয়ে যৌন নিপীড়ন, দাসত্ববরণসহ নানা রকম অমানবিক পেশায় নিয়োজিত হতে বাধ্য হয়।

গতকাল আমাদের সময়ের প্রতিবেদনে এমন একটি চক্রের গ্রেপ্তারের খবর প্রকাশ হয়েছে। একসময়ের মুদি দোকানি টুটুল দোকান ছেড়ে রাজধানীর বাড্ডা এলাকায় তার সহযোগীদের নিয়ে প্রতিষ্ঠা করে টুটুল ওভারসিজ, লিমন ওভারসিজ ও লয়াল ওভারসিজ নামে ৩টি অফিস। এই তিন অফিস থেকে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের বেকার ও শিক্ষিত বহু নারী-পুরুষকে বিদেশে পাঠানোর কথা বলে পাচার করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয় তারা। মানবপাচারের বেশিরভাগ মামলার বিচার কার্যক্রম কেমন চলছে? পত্রিকান্তরে প্রকাশিত খবরে বলা হচ্ছে, তদন্ত কার্যক্রম শেষ করতে দীর্ঘ সময় পেরিয়ে যাচ্ছে। যেসব মামলা আলোর মুখ দেখেছে সেগুলোর বেশিরভাগই বিচারাধীন আছে। মামলা নিষ্পত্তির হার ৩.৯১ শতাংশ। অন্যদিকে মামলা হলেও দুর্বল তদন্ত ও আদালতে সাক্ষী হাজির করতে না পাড়ায় বেশিরভাগ অপরাধীর শাস্তি হয়নি। আইনে জামিন অযোগ্য হলেও অনেকে জামিন পেয়েছে। প্রশ্ন ওঠে, এত অনিশ্চিত ও যন্ত্রণাকর অভিজ্ঞতার পরও বাংলাদেশের তরুণরা কেন দলে দলে বিদেশে যাচ্ছেন? এর কারণ দেশে কর্মসংস্থানের অভাব।

তাই মানবপাচার বন্ধ করতে বহুমুখী পদক্ষেপ নিতে হবে। প্রথমত, পাচারকারী ও এদের নেপথ্যের হোতাদের সবাইকে আইনের আওতায় আনতে হবে। কেউ যাতে আইনের ফাঁক দিয়ে বেরিয়ে না যেতে পারে, সেটি নিশ্চিত করতে হবে। দ্বিতীয়ত, দেশে উন্নয়নকাঠামোকে এমনভাবে তৈরি করতে হবে, যাতে সর্বোচ্চসংখ্যক তরুণের কর্মসংস্থানের নিশ্চয়তা থাকবে। কর্মসংস্থানহীন উন্নয়ন দিয়ে মানবপাচার ঠেকানো যাবে না।

advertisement
advertisement