advertisement
advertisement
advertisement
DBBL
advertisement
advertisement

কৃষিপণ্যে রপ্তানির ধারা অব্যাহত রাখতে হবে

দিলীপ কুমার আগরওয়ালা
১৫ অক্টোবর ২০২১ ১২:০০ এএম | আপডেট: ১৪ অক্টোবর ২০২১ ১০:৫৩ পিএম
advertisement

বাংলাদেশ কৃষিপ্রধান দেশ। বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের কৃষিপণ্য রপ্তানি হচ্ছে। বর্তমান সরকার পণ্য সংরক্ষণ ও পণ্য রপ্তানিতে কিছু সুযোগ বৃদ্ধি করেছে। আর এই খাতের ব্যবসায়ীদের যুগোপযোগী উদ্যোগে কৃষিপণ্য রপ্তানির পরিমাণ দ্রুত বাড়ছে। গত চার বছরে এই খাতে রপ্তানির পরিমাণ প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। এই ধারা অব্যাহত থাকলে আগামী তিন বছরের মধ্যে কৃষিপণ্য রপ্তানির পরিমাণ পাঁচ থেকে ছয়গুণ বৃদ্ধি পেতে পারে এবং রপ্তানি আয়ের দিক থেকে তৈরি পোশাক খাতের পরই স্থান হতে পারে কৃষি খাতের।

কৃষিপণ্য রপ্তানির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, ইউরোপ ও আমেরিকার বিভিন্ন দেশসহ বর্তমানে ১৪৪টি দেশে বাংলাদেশের কৃষিজাত পণ্য রপ্তানি হয়। একই সঙ্গে বাড়ছে রপ্তানিকৃত পণ্যের তালিকাও। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর তথ্য মতে, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে কৃষিপণ্য রপ্তানি হয়েছিল মাত্র ৫৫ কোটি ডলারের। ২০২০-২১ অর্থবছরে বাংলাদেশ কৃষিপণ্য রপ্তানি থেকে আয় করেছে ১০৩ কোটি ডলার। চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে (জুলাই-আগস্ট) কৃষিপণ্য রপ্তানি হয়েছে ২১ কোটি ডলারের। গত অর্থবছরের একই সময়ে আয় হয়েছিল ১৭ কোটি ৮২ লাখ ডলার। অর্থাৎ রপ্তানি প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১৬ শতাংশের বেশি। ওই হিসাবে বছর শেষে এই খাতের রপ্তানি আয় ১২৫ কোটি ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে। ফলে ব্যবসায়ীরা তিন বছরে বাজার ছয়গুণ করার যে সম্ভাবনা দেখছেন, তা মোটেও অবাস্তব নয়। এ জন্য সরকারকে নীতি-সহায়তা জোরদার করতে হবে। পুঁজির জোগান নিশ্চিত করতে ব্যাংকিং খাতকে এগিয়ে আসতে হবে। অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক পথে উন্নততর পরিবহন সুবিধা বৃদ্ধি করতে হবে। রপ্তানিযোগ্য কৃষিপণ্যের যে তালিকা রয়েছে, তা এখনো খুবই সংকীর্ণ। এটিকে সম্প্রসারণের অনেক সুযোগ রয়েছে এবং তা করতে হবে। বিদেশে বাংলাদেশ মিশনগুলোকে অনেক তৎপর হতে হবে। বিভিন্ন দেশে এখনো শুল্ক-অশুল্ক যেসব বাধা রয়েছে, সেগুলো দূর করার উদ্যোগ নিতে হবে। পণ্যের গুণগত মান বৃদ্ধির ওপর আরও জোর দিতে হবে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্র জানায়, বাংলাদেশ বেশ কয়েকটি কৃষিপণ্য উৎপাদনে বিশ্বে শীর্ষ দশে রয়েছে। সবজি উৎপাদনে বাংলাদেশ বিশ্বে তৃতীয়। বছরে উৎপাদন হয় ১ কোটি ৬০ লাখ টন। তবে মান নিয়ে কড়াকড়ির কারণে ২০১৭ সালের মার্চে ইউরোপীয় ইউনিয়নে (ইইউ) সবজি রপ্তানি প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। এর পর ২০১৮ সালের জুলাইয়ে ওই নিষেধাজ্ঞা শিথিল হয়। আলু উৎপাদনে বাংলাদেশ এখন বিশ্বে ষষ্ঠ। ৫০ বছরে আলু উৎপাদন বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১১ গুণ। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) হিসাবে গত অর্থবছরে আলু উৎপাদিত হয়েছে ১ কোটি ২ লাখ টন। সরকারের পরামর্শে এবার কৃষক প্রচুর ব্রোকলি উৎপাদন করেও দাম পাননি। দাম না পেয়ে বিভিন্ন স্থানে তা গরুকে খাওয়ানো হয়েছে। ফল উৎপাদনে বিশ্বে বাংলাদেশের অবস্থান ষষ্ঠ। বছরে ফল চাষের জমি বাড়ছে ১০-১১ শতাংশ হারে। কাঁঠাল উৎপাদনে বিশ্বে দ্বিতীয় ও আমে সপ্তম স্থানে আছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বারি) ফলের রপ্তানি বৃদ্ধিতে গত জুনে একটি পরিকল্পনা তৈরি করে। রপ্তানির জন্য উৎপাদিত শস্যের গুণগত মানের অভাব, নিরাপদ শস্য উৎপাদনের অভাব, অতিরিক্ত রাসায়নিক ব্যবহার, চুক্তিভিত্তিক কৃষক না থাকা, অ্যাক্রেডিটেশন ল্যাবরেটরি না থাকা, তদারকি ও মান সনদের দুষ্প্রাপ্যতা, রপ্তানির জন্য বিশেষ অঞ্চল না থাকাসহ ২০ ধরনের প্রতিবন্ধকতা চিহ্নিত করেছেন তারা।

বাংলাদেশ থেকে বিদেশে সবজি রপ্তানি বৃদ্ধি করতে হলে বিষমুক্ত সবজি উৎপাদনে নজর দিতে হবে। বাংলাদেশ থেকে পাঠানো কয়েকটি সবজিতে কীটনাশক থাকায় কয়েকটি দেশ সবজি নেওয়া বন্ধ করে দেয়। কীটনাশকমুক্ত সবজি উৎপাদনের মাধ্যমে ওই সংকট কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হয়েছে। সবজি রপ্তানি বৃদ্ধি করতে বিমানভাড়া সহনশীল করার তাগিদ দিয়েছেন রপ্তানিকারকরা। কীভাবে তা সম্ভব হবে, এ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করা দরকার।

বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ কৃষির ওপর নির্ভরশীল। প্রযুক্তির উৎকর্ষে বাংলাদেশের কৃষিতে বিপ্লব ঘটেছে। কৃষি উৎপাদন বেড়েছে কয়েকগুণ। ১৯৭২ সালের কৃষি উৎপাদনের চেয়ে এখনকার উৎপাদন ২৫ গুণেরও বেশি। এখন আমাদের কৃষকদের ৮০-৯০ শতাংশই প্রযুক্তিনির্ভর। খাদ্যশস্য উৎপাদনে আমরা পেছনে ফেলে দিয়েছি অনেক বড় বড় দেশকে। কৃষিপণ্য রপ্তানিতেও বাংলাদেশ দ্রুত সফলতা অর্জন করছে। ২০১৮ সালে বাংলাদেশ ৬৭৮ মিলিয়ন ডলার কৃষিপণ্য রপ্তানি করেছে।

করোনার ক্ষতি পুষিয়ে নিতে কৃষকের জন্য তিন হাজার কোটি টাকার বিশেষ পুনর্অর্থায়ন তহবিল গঠন করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এ তহবিল থেকে জামানতবিহীন সহজ শর্তে মাত্র ৪ শতাংশ সুদে ঋণ নিতে পারবেন কৃষক। সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংকের কৃষিঋণ বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত নীতিমালা দিয়ে একটি সার্কুলার জারি করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, দ্বিতীয় পর্যায়ে বিশেষ প্রণোদনায় পুনর্অর্থায়ন স্কিমের আওতায় কৃষি খাতের জন্য তিন হাজার কোটি টাকার তহবিল গঠন করা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের নিজস্ব এই তহবিলের মেয়াদ হবে আগামী বছরের ৩০ জুন পর্যন্ত। এই স্কিমের আওতায় অংশগ্রহণকারী ব্যাংক নিজস্ব নেটওয়ার্কের মাধ্যমে কৃষক ও গ্রাহক পর্যায়ে ঋণ বিতরণ নিশ্চিত করবে। কৃষকের জন্য স্বল্পসুদে ঋণ- এ উদ্যোগটি নিঃসন্দেহে কল্যাণমুখী। এই উদ্যোগের সাফল্য কামনা করি।

দিলীপ কুমার আগরওয়ালা : পরিচালক, এফবিসিসিআই এবং সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক, ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ড লিমিটেড

advertisement
advertisement