advertisement
advertisement
advertisement
DBBL
advertisement
advertisement

লাবণ্যের মৃত্যুতে স্বামীসহ আসামি ৬

কলমাকান্দা (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি
১৭ অক্টোবর ২০২১ ১২:০০ এএম | আপডেট: ১৭ অক্টোবর ২০২১ ০২:৩৪ এএম
advertisement

স্বামীর যৌতুকের দাবিতে নির্যাতনের কারণে নিজ গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন দিয়ে দগ্ধ কলমাকান্দার সুরাইয়া নেওয়াজ লাবণ্য ঢাকায় শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন গত বৃহস্পতিবার রাতে মৃত্যুবরণ করেছেন। এর আগে ওই দিন সকাল সাড়ে ৭টার দিকে লাবণ্য একটি মৃত সন্তানের জন্ম দেন। এ ঘটনায় গতকাল শনিবার সকালে লাবণ্যের চাচা শাহ মোস্তফা মো. সাঈদুল ইসলাম বাদী হয়ে স্বামী মো. শাহীনুর আলম শাহীনসহ ছয়জনের নাম উল্লেখ করে কলমাকান্দা থানায় একটি মামলা করেন।

লাবণ্য কলমাকান্দা উপজেলার নাজিরপুর ইউনিয়নের গাখাজোড়া গ্রামের শাহ মোস্তফা আরিফুল ইসলামের একমাত্র সন্তান ও ময়মনসিংহের ধোপাউড়া উপজেলার দক্ষিণ মাইজপাড়া ইউনিয়নের ঘাগগড়া গ্রামের মো. শাহীনুর আলম শাহীনের স্ত্রী।

মামলা এজাহার সুত্রে জানা গেছে, এক বছর আগে লাবণ্যের বিয়ে হয়। বিয়ের কয়েক মাস পর তার গর্ভে আসে সন্তান। বিয়ের পর দুই লাখ টাকা যৌতুক চান লাবণ্যের স্বামী শাহীন। যৌতুক না দেওয়ায় তার স্বামী, শ্বশুর, শাশুড়ি, ননদ ও ভাসুর মানসিকভাবে নিপীড়ন করত। গত আগস্টে লাবণ্য তার বাবার বাড়িতে আসে। গত ৯ অক্টোবর বিকালে লাবণ্যের স্বামী শ্বশুরবাড়িতে এসে ফের যৌতুকের জন্য চাপ দেয়। এ নিয়ে তাদের মধ্যে কথার কাটাকাটি হয়। যৌতুকের না দিলে তাকে (লাবণ্য) স্বামীর বাড়িতে নেবে না। একপর্যায়ে গালাগাল করে মারপিট করে চলে যায় শাহীন। মানসিক নিপীড়নে অতিষ্ঠ হয়ে গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন দেন লাবণ্য। প্রথমে তাকে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরের দিন তাকে নেওয়া হয় ঢাকার শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে। চিকিৎসাধীন পাঁচ দিন পর গত বৃহস্পতিবার রাতে মৃত্যু বরণ করে লাবণ্য।

লাবণ্যের বাবা শাহ মোস্তফা আরিফুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, লাবণ্য আমার একমাত্র সন্তান। বিয়ের পর তার স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন যৌতুকের দাবিতে মেয়ের ওপর অনেক মানসিক নিপীড়ন চালায়। অতিষ্ঠ হয়ে সে গায়ে কোরোসিন দিয়ে আগুন দেয়। তিনি আরও বলেন, আমার মেয়েকে তার স্বামী বা শ্বশুরবাড়ি কেউ দেখতে আসেননি। কোনো খোঁজও নেননি কেউ।

এ ব্যাপারে কলমাকান্দা থানার ওসি মোহাম্মদ আবদুল আহাদ খান জানান, এ ঘটনা মামলার এজাহারভুক্ত আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

advertisement
advertisement