advertisement
advertisement
advertisement
DBBL
advertisement
advertisement

কৃমি নিয়ন্ত্রণ সপ্তাহ
কৃমিনাশক খাবে প্রায় ৪ কোটি শিশু

রাশেদ রাব্বি
২০ অক্টোবর ২০২১ ১২:০০ এএম | আপডেট: ২০ অক্টোবর ২০২১ ০৯:৫০ এএম
advertisement

কৃমি মানুষের অন্ত্রে পরজীবী হিসেবে বাস করে এবং খাবারের পুষ্টিটুকু খেয়ে ফেলে। কৃমির আক্রমণ বয়স্ক মানুষের চেয়ে শিশুদের মধেই বেশি। তাই কৃমির শিকার শিশুরা বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই পুষ্টিহীনতায় ভোগে। সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হয় ৫ থেকে ১৪ বছর বয়সীরা। যাদের আক্রান্ত হওয়ার হার ৩২ শতাংশ। চিকিৎসকরা বলছেন, কখনো কখনো সামান্য এ কৃমি শিশুর মৃত্যুরও কারণ হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে আগামী ৩০ অক্টোবর থেকে ৫ নভেম্বর পর্যন্ত সারাদেশে একযোগে পালিত হবে ২৫তম জাতীয়

কৃমি নিয়ন্ত্রণ সপ্তাহ কর্মসূচি। এবারে কর্মসূচিতে প্রায় চার কোটি শিশুকে কৃমিনাশক খাওয়ানোর লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করা হয়েছে। লক্ষ্য পূরণে এক লাখ ২০ হাজার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে এ কার্যক্রমে অন্তুর্ভুক্ত করা হবে। ইতোমধ্যে কর্মসূচি সফল করতে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার ফাইলেরিয়াসিস নির্মূল, কৃমি নিয়ন্ত্রণ ও খুদে ডাক্তার কার্যক্রম। আগামীকাল ২১ অক্টোবর রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এ কর্মসূচি ঘোষণা করবেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক।

আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ও ইউজিসি অধ্যাপক ডা. এবিএম আবদুল্লাহ বলেন, কৃমি শিশুদের শরীরে অপুষ্টিসহ নানা জটিলতার সৃষ্টি করে। বিশেষ করে গ্রাম এবং শহরের বস্তি এলাকার শিশুরা এ সমস্যায় বেশি ভোগে। তাই শিশুদের সুস্থ এবং কৃমিমুক্ত রাখতে অবশ্যই কৃমিনাশক খাওয়াতে হবে। যেহেতু গতবার করোনার কারণে এ কর্মসূচি করা যায়নি, তাই এ বছর কর্মসূচি পালন করতে হবে। এখান থেকে যাতে একটি শিশুও বাদ না পড়ে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, সারা দেশের প্রায় এক লাখ ২০ হাজার প্রাথমিক পর্যায়ের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (সরকারি, বেসরকারি স্কুল, মাদ্রাসা, মক্তব) এবং প্রায় ৩৩ হাজার মাধ্যমিক পর্যায়ের (বিদ্যালয়, মাদ্রাসা) এ কর্মসূচির আওতাভুক্ত। শিশুদের মধ্যে ওষুধ সেবনের হার প্রত্যেক রাউন্ডেই ৯৫ থেকে ৯৮ শতাংশ। ২০০৫ সালে শিশুদের মল পরীক্ষায় কৃমির উপস্থিতি ছিল ৮০ শতাংশ। সেখানে ২০১৮-১৯ সালে এটি ৭.৯৫ শতাংশে নেমে এসেছে। এবার তিন কোটি ৯৪ লাখ ৩২ হাজার ৮০৪ শিশুকে কৃমিনাশক খাওয়ানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য বলছে, কৃমির সমস্যা বয়স্ক মানুষের চেয়ে শিশুদের মধ্যেই বেশি। বিশেষ করে শূন্য থেকে ৪ বছরের শিশুদের মধ্যে কৃমির আক্রমণের হার ৭ শতাংশ। পর্যায়ক্রমে ৫ থেকে ১৪ বছর বয়সীদের ক্ষেত্রে তা ৩২ শতাংশ। ১৫ থেকে ২৪ বছর বয়সীদের মধ্যে কৃমির আক্রমণের হার ১৫ শতাংশ। এ ছাড়া ২৫ থেকে ৪৪ বছর বয়সীদের ক্ষেত্রে ৭ শতাংশ। ৪৫ থেকে ৫৪ বছর বসয়ীদের ক্ষেত্রে ৫ শতাংশ। ৫৫ বছরের বেশি বয়সীদের ক্ষেত্রে ৪ শতাংশ কৃমির শিকার। এ তথ্যের ওপর ভিত্তি করেই বিভিন্ন দেশে শিশুদের মধ্যে এ কৃমি নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়। বাংলাদেশে কর্মসূচিটি ২০০৫ সালে প্রথম বাস্তবায়ন করা হয় ৩ জেলায়। পর্যায়ক্রমে জুন ২০০৭ পর্যন্ত ১৬ জেলায়, মে ২০০৮ পর্যন্ত ২৪ জেলায় ও নভেম্বর ২০০৮ থেকে ৬৪টি জেলায় কৃমি নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমটি সম্প্র্রসারিত করা হয়।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগনিয়ন্ত্রণ শাখা জানায়, এ কার্যক্রমের অধীনে দেশের প্রাথমিক পর্যায়ের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ৫-১১ বছর বয়সী শিশুদের এবং মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ১২-১৬ বছর বয়সী কিশোর-কিশোরীদের এক ডোজ কৃমিনাশক ওষুধ (মেবেন্ডাজল বা ভারমক্স ৫০০ মি.গ্রা.) ভরা পেটে সেবন করানো হবে। পাশাপাশি কৃমির পুনঃসংক্রমণ রোধে পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা ও স্বাস্থ্যসম্মত পায়খানা ব্যবহার সম্পর্কে তাদের সচেতন করা হবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃমিমুক্ত থাকতে পরিবারের সবাইকে একই সঙ্গে বছরে কমপক্ষে দুইবার (৬ মাস পর পর) ওষুধ সেবন করতে হবে। এ ছাড়া খালি পায়ে চলাফেরা না করা, পায়খানা ব্যবহারের সময় স্যান্ডেল পরা, পায়খানার পর সাবান পানি দিয়ে ভালোভাবে হাত পরিষ্কার করা, হাতের নখ ছোট রাখা আর এ জন্য সপ্তাহে কমপক্ষে একবার নখ কাটার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। একই সঙ্গে সব ধরনের খাদ্যদ্রব্য ঢেকে রাখা, খোলা বা অপরিচ্ছন্ন খাবার না খাওয়া, ফল-মূল খাওয়ার আগে নিরাপদ পানি দিয়ে ধোয়া, প্রতিবার খাবার গ্রহণের আগে হাত ধুতে হবে সাবান পানি দিয়ে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার পরিচালক অধ্যাপক ডা. নজমুল ইসলাম বলেন, কৃমি মানুষের অন্ত্র থেকে রক্ত শোষণ করে ফলে শিশুরা রক্ত স্বল্পতায় ভোগে। এ ছাড়া কৃমির কারণে বদহজম, ডায়রিয়া ও শ্বাসকষ্ট সৃষ্টি হতে পারে। কৃমি শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বৃদ্ধিরও ব্যাঘাত ঘটায়। এতে তাদের শিখন ক্ষমতা হ্রাস পায় ও শ্রেণিকক্ষে সক্রিয় থাকতে বাধা সৃষ্টি করে। কৃমি শিশুদের এপেন্ডিসাইটিস এবং অন্ত্রের অন্যান্য জটিলতা সৃষ্টি করে, ফলে অপারেশনের প্রয়োজন হয়। কৃমির অতি আক্রমণ শিশুর মৃত্যুর কারণও হতে পারে।

advertisement
advertisement