advertisement
advertisement
advertisement
DBBL
advertisement
advertisement

মুনাফার ফাঁদে ইতিহাস-সাহিত্যের বিকৃতি

মযহারুল ইসলাম বাবলা
২৩ নভেম্বর ২০২১ ১২:০০ এএম | আপডেট: ২৩ নভেম্বর ২০২১ ১২:০২ এএম
advertisement

ইতিহাসের নানা পর্বের ঘটনাকেক্সিদ˜ক বা ঘটনাভিত্তিক ইতিহাস রচনার পাশাপাশি প্রচুর উপন্যাস রচিত হয়েছে, হয়েছে নাট্য রচনাও। নির্মিত হয়েছে ইতিহাসভিত্তিক চলচ্চিত্রও। বরেণ্য অজস্র সাহিত্যের কাহিনি নিয়েও নির্মিত হয়েছে প্রচুর চলচ্চিত্র। ইতিহাস ও সাহিত্যভিত্তিক চলচ্চিত্রে ইতিহাস এবং সাহিত্যের বিকৃতি বেদনাদায়ক হলেও তেমন ঘটনা অহরহ ঘটে চলেছে। অতীতে বাংলা সাহিত্য নিয়ে অজস্র চলচ্চিত্র নির্মিত হয়েছিল। সেসব চলচ্চিত্রের চিত্রনাট্যে সাহিত্যের মূল কাঠামোকে অক্ষুণœ রেখে কেবল চলচ্চিত্র নির্মাণের উপযোগী করতেই মূল কাহিনির কিছুটা হেরফের করা হতো। স্বীকার করছি চলচ্চিত্রশিল্পে বিশাল অঙ্কের পুঁজি বিনিয়োগের বাস্তবতা। অতীতের চলচ্চিত্রে বিনোদন নিশ্চয় ছিল। এর পাশাপাশি শিক্ষা ও সৃজনশীলতাও যে ছিল, সেটি অস্বীকার করা যাবে না। এখন চলচ্চিত্রশিল্প সম্পূর্ণরূপে মুনাফানির্ভর। পুঁজির লগ্নিকারকরা মুনাফার জন্য নির্মমভাবে ইতিহাস-সাহিত্য বিকৃতি করতে দ্বিধা ও সংকোচ করছে না। স্থূল বাণিজ্যিক নানা উপাদানে সন্নিবদ্ধ চলচ্চিত্রশিল্পের বিন্দু-বিসর্গ সৃজনশীলতা এখন খুঁজে পাওয়ার উপায় নেই। ইতিহাস-সাহিত্যের চরম বিকৃতি আমরা চলচ্চিত্রে হরহামেশা দেখে চলেছি।

আমাদের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক অনেক চলচ্চিত্র নির্মিত হয়েছে। হাতে গোনা দুই-তিনটি ছাড়া সবই গতানুগতিক বাণিজ্যিক চলচ্চিত্রের আদলে ব্যক্তির বীরত্ব, সুখ, দুঃখ, প্রেম, ভালোবাসা, বেদনা ইত্যাদি সন্নিহিত। আমাদের মুক্তিযুদ্ধ ছিল সামষ্টিক যুদ্ধ। ব্যক্তির ভূমিকা সেখানে অপ্রধান। অথচ ব্যক্তিবীরের বীরত্ব মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্রে সর্বাধিক স্থান পেয়েছে। অপ্রাসঙ্গিক বাণিজ্যিক স্থূল উপাদান যুক্ত হয়েছে গতানুগতিক চলচ্চিত্রের আদলে, স্রেফ মুনাফার প্রয়োজনে। চলচ্চিত্র মাত্রই ব্যক্তি বীরত্বনির্ভর। মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্র পর্যন্ত সেই বৃত্ত অতিক্রম করতে পারেনি। চলচ্চিত্রের নায়করা সবাই বীর। এ বীর নিজেরাই ইতিহাস সৃষ্টি করে। পার্শ্বচরিত্রগুলো বীরের স্তাবক। ব্যক্তিবীরের তৎপরতায় অশুভশক্তির নিষ্ঠুর বিনাশে নিষ্ক্রিয় দাসসুলভ চলচ্চিত্রে অংশ নেওয়া জনগণ তামাশা দেখে এবং ভিড় জমায়। স্থূল সংস্কারবাদ, অর্থনীতিবাদ চলচ্চিত্রের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। দেশপ্রেমী বীর ও দেশদ্রোহী, শেষ পর্যন্ত বীরের জয়যুক্ত হওয়া। খলচরিত্রকে হত্যা করে সমাজের মঙ্গলসাধন। চলচ্চিত্রে ব্যক্তিবীরের নেতৃত্বে রাষ্ট্র-সমাজে সংস্কারের লড়াই। চলচ্চিত্রের কাহিনিগুলো এভাবেই সাজানো। ইতিহাস ও সাহিত্যভিত্তিক চলচ্চিত্র পর্যন্ত একই পন্থায় নির্মিত হওয়াটা দুঃখজনকই বটে। এ ধরনের উদ্যোগের একমাত্র লক্ষ্য মুনাফা। মুনাফার প্রয়োজনেই ইতিহাস ও সাহিত্যের বিকৃতি অসঙ্গতি বেদনার সঙ্গে প্রত্যক্ষ করতে হচ্ছে।

বিখ্যাত ‘গান্ধী’ চলচ্চিত্র বিশ্বজুড়ে প্রশংসিত ও পুরস্কৃত হয়েছে। অথচ গান্ধী চলচ্চিত্র পর্যন্ত ইতিহাস বিকৃতি থেকে মুক্ত হতে পারেনি। দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে ১৯১৫ সালে গান্ধী স্বদেশ প্রত্যাবর্তন করেন। বম্বের নৌবন্দরে গান্ধীকে স্বাগত জানাতে ভারতীয় রাজনীতিকরা উপস্থিত হন। তাদের মধ্যে নেহরু, সর্দার প্যাটেল, মাওলানা আজাদ, জিন্নাহ প্রমুখের উপস্থিতি দেখানো হয়েছে। জিন্নাহর উপস্থিতি ইতিহাসের চরম অসঙ্গতি। কেননা জিন্নাহ তখন ভারতে ছিলেন না, ছিলেন লন্ডনে। ১৯১৯ সালের ১০ এপ্রিল পাঞ্জাবের অমৃতসরের জননন্দিত দুই নেতা সৈফুদ্দিন কিচলু ও সত্য পালকে বহিষ্কারে পাঞ্জাবজুড়ে তীব্র প্রতিবাদ, বিক্ষোভ, হরতাল পালিত হয়। ১৩ এপ্রিল বিক্ষোভরত নিরস্ত্র নর-নারীর ওপর ব্রিটিশ জেনারেল ডায়ারের নেতৃত্বে ব্রিটিশ সেনাবাহিনীর নির্বিচারে গুলিবর্ষণে জালিয়ানওয়ালাবাগ ময়দানে এক হাজার মানুষ প্রাণ হারায় এবং দুই হাজার মানুষ আহত হয়। ইতিহাসে এই নিষ্ঠুর ‘জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাø’ ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসকদের চরম বর্বরতা ও নৃশংসতার দৃষ্টান্তরূপে খ্যাত। জেনারেল ডায়ার হত্যাকাøের পরমুহূর্তে পুরো এলাকায় কারফিউ জারি করায় আহত অনেকে বিনা চিকিৎসায় প্রাণ হারান। ব্রিটিশ শাসকরা পাঞ্জাবজুড়ে সামরিক আইন জারি করে। গণগ্রেপ্তার অভিযান ও অবাধ নির্যাতন চালায়। জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাøের প্রতিবাদে রবীন্দ নাথ ব্রিটিশদের দেওয়া ‘নাইট’ খেতাব বর্জন করেছিলেন। গান্ধী চলচ্চিত্রে জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাøের দৃশ্য দেখানো হয়েছে। দেখানো হয়েছে জালিয়ানওয়ালাবাগ পরিদর্শন করছেন গান্ধী। তা ইতিহাসের আরেক অসঙ্গতি। গান্ধী পাঞ্জাব যাওয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করলেও ব্রিটিশ সরকারের কঠোর নিষেধাজ্ঞার কারণে পাঞ্জাব যেতে পারেননি।

বাংলা সাহিত্যের সাড়া জাগানো শরৎচক্সেদ˜র দেবদাস কাহিনি নিয়ে বাংলা ভাষায় কালের ব্যবধানে বেশ কয়েকটি চলচ্চিত্র নির্মিত হয়েছিল। হিন্দিসহ ভারতের বিভিন্ন ভাষাতেও দেবদাস কাহিনি নিয়ে চলচ্চিত্র নির্মিত হয়েছে। মুম্বাই চলচ্চিত্রশিল্পে হিন্দি ভাষায় দেবদাস কাহিনি নিয়ে চরম বিকৃত চলচ্চিত্র নির্মিত হয়েছে। মূল কাহিনির ভিত্তিমূলে অস্বাভাবিক অসঙ্গতি ঘটিয়ে এবং স্থূল বাণিজ্যিক উপাদানের সংমিশ্রণে শরৎ সাহিত্যকে কলুষিত করা হয়েছে। মুনাফাবাণিজ্যের কবল থেকে রক্ষা পায়নি সাহিত্যভিত্তিক চলচ্চিত্র পর্যন্ত। ওই মুম্বাই চলচ্চিত্রশিল্পে হিন্দি ভাষায় সম্রাট অশোকের জীবনীভিত্তিক চলচ্চিত্র ‘অশোকা’ নির্মিত হয়েছে। মুনাফালাভে অশোকের জীবনীভিত্তিক চলচ্চিত্রটিও চরমভাবে ইতিহাস বিকৃত ও স্থূল বাণিজ্যিক উপাদানে ঠাসা। ইতিহাসের বিকৃতি ঘটিয়ে রূপক বা কল্পিত কাহিনি জুড়ে অবাধ বাণিজ্য করেছে চলচ্চিত্রটি। প্রকৃত ইতিহাস কলঙ্কিত করার মূলে মুনাফা। পুঁজিবাদীব্যবস্থা মুনাফা ছাড়া কিছু বোঝে না। পুঁজিবাদের নিকৃষ্ট আগ্রাসন চলচ্চিত্রশিল্পকে বাহুবন্দি করে ফেলেছে।

প্রাচীন মৌর্য রাজবংশের প্রথম রাজা চন্দ গুপ্ত। ২৪ বছর রাজত্বের পর চন্দ গুপ্তের মৃত্যুবরণে পুত্র বিন্দুসার সিংহাসনে আরোহণ করেন। সম্রাট বিন্দুসার ২৫ বছর রাজ্য শাসনের পর মৃত্যুবরণ করেন। বিন্দুসারের মৃত্যুর পর সিংহাসনের অধিকার নিয়ে পুত্রদের মধ্যে তুমুল বিরোধ, বিবাদ ও প্রতিদ্বন্দ্বিতার সৃষ্টি হয়। এই বিরোধ-লড়াইয়ে ভাইদের পরাজিত করে সিংহাসন অধিকার করেন সম্রাট বিন্দুসারের পুত্র প্রিয়দর্শী। প্রিয়দর্শী অশোকা নাম ধারণ করে ২৬৮ খ্রিস্টপূর্বাব্দে মৌর্য সাম্রাজ্যের সম্রাটরূপে সিংহাসনে আরোহণ করেন। ভাইদের সঙ্গে বিদ্যমান বিরোধ নিষ্পত্তি না হওয়ার কারণে ক্ষমতালাভের চার বছর পর রাজ্যাভিষেক পালন করেছিলেন। সম্রাট অশোকের শাসন আমলে মৌর্য সাম্রাজ্যের ব্যাপক বিস্তৃতি ঘটে। প্রাচীনকালে প্রাচ্যদেশীয় বৃহত্তর সাম্রাজ্যের অন্যতম মৌর্য সাম্রাজ্য। হিমালয় থেকে কন্যাকুমারী পর্যন্ত বিস্তৃত। কাশ্মীরের শ্রীনগর সম্রাট অশোকের শাসন আমলে শহররূপে গড়ে উঠেছিল। সম্রাট অশোকের শাসন আমলে একমাত্র রাজনৈতিক ঘটনাটি ছিল কলিঙ্গ যুদ্ধ। কলিঙ্গ সমৃদ্ধ, শক্তিশালী ও সম্ভ্রান্ত রাজ্য ছিল। শিক্ষা, সংস্কৃতি, স্থাপত্য- সব ক্ষেত্রেই ছিল অগ্রবর্তী। সম্রাট অশোক কলিঙ্গ আক্রমণ করে তীব্র প্রতিরোধে পিছু হটতে বাধ্য হন। দ্বিতীয়বার আক্রমণে কলিঙ্গ জয় করেন। কলিঙ্গ যুদ্ধে এক লাখ মানুষ প্রাণ হারায় এবং দেড় লাখ মানুষকে অশোক বন্দি করেন। কলিঙ্গ জয়ে মৌর্য সাম্রাজ্যের আরও বিস্তৃতি ঘটে। বঙ্গদেশ পর্যন্ত মৌর্য সাম্রাজ্যের অধীন হয়ে যায়। কলিঙ্গের অভিজাত শ্রেণি মৌর্যদের শাসনের প্রবল বিরোধী ছিল। শুরুতে নানা নিপীড়নমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করলেও কলিঙ্গের জনগণের প্রবল প্রতিরোধের মুখে সে ব্যবস্থা বাতিলে বাধ্য হন অশোক। কলিঙ্গের জনগণের প্রতি সদয় আচরণের নির্দেশ প্রদান করে কূটনৈতিক পন্থা অবলম্বন করেন। যুদ্ধ এড়িয়ে কূটনৈতিক পন্থা অবলম্বনে বিচক্ষণতার পরিচয় দিয়েছিলেন অশোক। সম্রাট অশোকের শাসন আমলকে ভারতবর্ষে বৌদ্ধ ধর্মের স্বর্ণযুগ বলা হয়।

কলিঙ্গ যুদ্ধের বহু আগে বৌদ্ধ ধর্ম গ্রহণ করেছিলেন অশোক। কলিঙ্গ যুদ্ধের পর গৌতম বুদ্ধের শিক্ষা, নীতিবোধ ইত্যাদি অধিক গুরুত্বে ধারণ করেছিলেন। সিংহলিদের (শ্রীলংকা) সঙ্গে অশোকের ঘনিষ্ঠতার মূলে বৌদ্ধ ধর্ম। বৌদ্ধ ধর্ম প্রচারে অশোক নিজ পুত্র মহেক্সদ˜র নেতৃত্বে বৌদ্ধ ধর্ম প্রচারক দল সিংহলে পাঠিয়েছিলেন। তবে অশোক রাজ্যভার অন্যকে অর্পণ করে কখনো মঠবাসী ভিক্ষু হননি। বৌদ্ধ ধর্ম প্রচার-প্রসারে অশোক সর্বপ্রকার সহায়তা করেছেন। কিন্তু নিজ সাম্রাজ্যকে ধর্মরাষ্ট্রে পরিণত করেননি। পরমতসহিষ্ণু অশোক অন্য ধর্মকে আঘাত না করে অসাম্প্রদায়িকতার পরিচয় দিয়েছিলেন সত্য। তবে অশোকের সেই অসাম্প্রদায়িক দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন ঘটে। রাজত্বের শেষ বছরগুলোয় পরমতসহিষ্ণুতার নীতি ত্যাগ এবং অন্য ধর্মাবলম্বীদের ওপর যথেচ্ছ পীড়ন পর্যন্ত করেছিলেন। সেটি সম্রাট অশোকের জন্য শুভফল বয়ে আনেনি। ধর্মীয় বিভাজন সৃষ্টি ও বৌদ্ধপ্রীতির রাষ্ট্রনীতির কারণে ব্রাহ্মণ্য, অজীবিক, জৈন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ বৃদ্ধি পায় এবং সম্রাট অশোকবিরোধী মনোভাব গড়ে ওঠে। বৌদ্ধ ধর্ম প্রসারে অঢেল অর্থ অপচয়ে রাজকোষে ঘাটতি দেখা দেয়। অন্তিম সময়ে সম্রাট অশোক কার্যত ক্ষমতাচ্যুত হয়েছিলেন। উত্তরাধিকারী পৌত্র সম্পাদি বৌদ্ধ ধর্মের পৃষ্ঠপোষকতা বন্ধ করে দেয়। পুত্র দশরথ ও পৌত্র সম্পাদির সিংহাসন লাভের ক্ষেত্রে দুই ধরনের তথ্য রয়েছে। অশোকের অবর্তমানে মৌর্য সাম্রাজ্য স্থায়ী হয়নি। পূর্বাঞ্চল ও তক্ষশিলা পশ্চিমাঞ্চল দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে যায়। মৌর্য সাম্রাজ্যের সম্রাট বৃহদ্রথ নিজ সেনাপতি কর্তৃক নিহত হলে মৌর্য সাম্রাজ্যের পতন ঘটে এবং শৃঙ্গবংশ ভারতবর্ষের শাসকরূপে আবির্ভূত হয়।

সম্রাট আশোকের জীবনীভিত্তিক ‘অশোকা’ হিন্দি চলচ্চিত্রটি ইতিহাস বিকৃতি ও রুচির বিকৃতি মোটা দাগে জাজ্বল্যমান। কল্পিত ঘটনা ফেঁদে মুনাফা লাভই ছিল মূল লক্ষ্য। পুঁজিবাদ এমন একটি অর্থনৈতিক ব্যবস্থা ও মুনাফার কারণে কোনো কিছু ছাড় দেয় না। পুঁজির দৌরাত্ম্যে আমাদের সাহিত্য-সংস্কৃতি, ইতিহাস হুমকির কবলে। পুঁজিবাদ মুনাফার গন্ধ পেলেই ছুটে আসে, হানা দেয়। কোনো কিছুর বাছবিচার করে না। পুঁজিবাদের আদর্শ হচ্ছে মুনাফা। একমাত্র মুনাফার কারণে এমন কোনো অপকীর্তি নেই- যা পুঁজিবাদ না করে। চলচ্চিত্রের মতো সৃজনশীল মাধ্যমটি পুঁজিবাদী আগ্রাসনে হারিয়েছে তার শৈল্পিক আবেদন। সাংস্কৃতিক সব মাধ্যমের চর্চাকে কেবলই বিনোদনে সীমাবদ্ধ করার কারণে সাংস্কৃতিক চেতনা নিম্নমুখী। মননশীলতার পরিবর্তে রুচি ও চিন্তার বিকৃতি ঘটিয়ে চলেছে। চলচ্চিত্রের মতো শিল্পমাধ্যম স্রেফ বিনোদননির্ভর হয়ে পড়েছে, এমনকি বিকৃত বিনোদনে পরিণত। এর নানা কুপ্রভাব আমাদের সমাজজীবনে আমরা দেখে থাকি। সন্দেহ নেই- স্থূল-অশ্লীল, বিকৃত রুচির চলচ্চিত্র আমাদের নীতিবোধ, নৈতিকতা ও সংস্কৃতিতে ভয়াবহ বিরূপ প্রভাব ফেলেছে। ইতিহাসজ্ঞান আমাদের দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করে। সেই ইতিহাস যদি বিকৃতরূপে প্রকাশ পায়, তা হলে আমাদের ইতিহাসজ্ঞানে অসঙ্গতি ও বিকৃতি অনিবার্য। তাই পুঁজিবাদী অপতৎপরতা ঠেকানো এখন আশুকর্তব্য। এ ক্ষেত্রে পুঁজিবাদবিরোধী ঐক্য ও প্রতিরোধই আমাদের একমাত্র রক্ষাকবচ। এ জন্য সর্বাগ্রে জরুরি পুঁজিবাদবিরোধী সংগ্রাম। পুঁজিবাদবিরোধী সংগ্রামে সব দেশপ্রেমিক এবং গণতান্ত্রিক শক্তির ঐক্য ও সংহতির বিকল্প কিছু আছে বলে জানা নেই।

মযহারুল ইসলাম বাবলা : নির্বাহী সম্পাদক, নতুন দিগন্ত

advertisement
advertisement