advertisement
advertisement
advertisement
DBBL
advertisement
advertisement

বিলীয়মান প্রাণীটি রক্ষায় সমন্বিত উদ্যোগ চাই

নির্বিচারে হাতি হত্যা!

২৪ নভেম্বর ২০২১ ১২:০০ এএম
আপডেট: ২৩ নভেম্বর ২০২১ ১০:১৩ পিএম
advertisement

বাংলাদেশের সৌভাগ্য যে, এ দেশ এশীয় হাতির বাসস্থান। কিন্তু ক্রমাগত বন ধ্বংসের ফলে হাতির আবাসভূমি সংকুচিত হচ্ছে। আবার ২০১৭ সাল থেকে উখিয়া-টেকনাফের পাহাড়ি বনাঞ্চলে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের আবাসন তৈরি করার ফলে এশীয় হাতি চলাচলের অনেক করিডর বন্ধ হয়ে গেছে। বাংলাদেশে হাতির আবাস মোটামুটি দুটি অঞ্চলে- ময়মনসিংহ বিভাগের সীমান্তবর্তী শেরপুর জেলা এবং দক্ষিণ-পূর্বে পার্বত্য চট্টগ্রামের তিন জেলা ও কক্সবাজার জেলার সমন্বয়ে গড়ে ওঠা বনাঞ্চল। শেরপুরের হাতি ভারতের আসাম অঞ্চলে চলাচল করে আর বৃহত্তর চট্টগ্রাম অঞ্চলের হাতির যাতায়াত মিয়ানমারে। তবে আশঙ্কাজনক খবর হলো বাংলাদেশে মানুষের হাতে হাতির মৃত্যু ক্রমাগত বেড়েই চলেছে। অতীতে ২০০৩ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত বছরে তিন-চারটি হাতি মানুষের হাতে মারা পড়ত। কিন্তু চলতি বছর এরই মধ্যে মানুষের হাতে হাতি মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩৩-এ। এটি কেবল আশঙ্কাজনক নয়। এভাবে চললে অচিরেই বাংলাদেশ হাতিশূন্য হয়ে যাবে।

বাংলাদেশে বর্তমানে কোনোমতে টিকে রয়েছে ২৬২টি হাতি। সরকার ২০১৮ সালে একটি মহাপরিকল্পনা তৈরি করে ২০২৭ সালের মধ্যে দেশে হাতির সংখ্যা দ্বিগুণ করার পরিকল্পনা নিয়েছিল। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বর্তমান ধারা অব্যাহত থাকলে ২০২৭ সাল নাগাদ উল্টো বাংলাদেশ হাতিশূন্য হয়ে পড়াই স্বাভাবিক। জানা যাচ্ছে, শেরপুর অঞ্চলে একশ্রেণির বন দখলকারী বনের মূল্যবান গাছ কেটে কৃষিকাজ করছে। তার ক্ষেতের চারদিকে তারের বেড়া দিয়ে সেটি বিদ্যুৎসঞ্চালন করে হাতি মারার ফাঁদ তৈরি করেছে। চট্টগ্রাম অঞ্চলেও একইভাবে বন কাটা হচ্ছে। কোথাও মূল্যবান গাছের জন্য অবৈধ পথে কাঠ সংগ্রহ চলছে। তৃতীয়ত, রোহিঙ্গাদের বসতির কারণেও মানুষের সঙ্গে হাতির সংঘাত বাধছে। সব মিলিয়ে হাতিনিধন চলছে দেশে। বেড়া বিদ্যুতায়িত করা ছাড়াও সরাসরি গুলি করে হাতি হত্যা করা হচ্ছে।

পরিবেশবাদী সংগঠনের পক্ষে একটি রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে উচ্চআদালত হাতি হত্যা বন্ধে অবিলম্বে যথাযথ পদক্ষেপ নিতে সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও দপ্তরকে নির্দেশ দিয়েছেন। এতে কাজের অগ্রগতি আদালতকে অবহিত করার কথাও বলা হয়েছে। বন বিভাগ হাতি রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বপ্রাপ্ত হলেও দখলদার ও হাতি হত্যাকারীদের ধরা এবং তাদের অপতৎপরতা বন্ধে তারা একা সফল হবেন না। এ কাজে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ সরকারের সংশ্লিষ্ট অন্যান্য দপ্তরের সহযোগিতাও প্রয়োজন হবে। আমাদের মনে হয়, সরকার যেহেতু আন্তর্জাতিক সংস্থার সহযোগিতায় হাতি সংরক্ষণ ও এর সংখ্যা বৃদ্ধির প্রকল্প হাতে নিয়েছে, সেহেতু তাদের উচিত হবে সংশ্লিষ্ট মহাপরিকল্পনায় হত্যা বন্ধ এবং হাতি চলাচলের করিডর উন্মুক্ত রাখার একটি সমন্বিত ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত করা। আমাদের ধারণা, এ ধরনের কাজে আন্তর্জাতিক মহলের সার্বিক সহযোগিতা পাওয়া যাবে। এখন প্রয়োজন হলো যথাযথ পরিকল্পনা প্রণয়ন ও সঠিক সংস্থার সঙ্গে যথাসময়ে যোগাযোগ করা। সঠিক উদ্যোগে নিশ্চয় ফল পাওয়া যাবে।

advertisement
advertisement