advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

বাংলাদেশ ব্যাংকের সিদ্ধান্তে রপ্তানি বন্ধের শঙ্কা বিজিএমইএর

চট্টগ্রাম ব্যুরো
২৬ নভেম্বর ২০২১ ১২:০০ এএম | আপডেট: ২৫ নভেম্বর ২০২১ ১১:১৭ পিএম
advertisement

পণ্য রপ্তানি কার্যক্রম সম্পন্ন করে ১৪ দিনের মধ্যে জাহাজীকরণের তথ্য অনলাইন এক্সপোর্ট মনিটরিং সিস্টেমে আপডেট না করলে রপ্তানি অনুমোদন দেবে না জানিয়ে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে চিঠি দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। গতকাল বৃহস্পতিবার পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়ে গত ১৫ নভেম্বর নোটিশ জারি করেছিল। এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে রপ্তানি কার্যক্রম বন্ধ হয়ে বহু প্রতিষ্ঠান বন্ধের আশঙ্কা করছে বিজিএমইএ। পরিস্থিতি বিবেচনায় আগামী ছয় মাস এ সিদ্ধান্ত স্থগিতের দাবি জানিয়েছেন বিজিএমইএ নেতারা।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, তথ্যসংক্রান্ত যেসব অসঙ্গতি রয়েছে, সেগুলো বাংলাদেশ ব্যাংক ও বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো সমাধান করতে পারে। যেসব রপ্তানি চালানের সমস্যা আছে, সেগুলোর শিপিং বিল সংগ্রহ করে সংশোধন করলেই সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। কিন্তু হুট করে ইএক্সপি (এক্সপোর্ট পারমিশন) বন্ধ করে দিলে রপ্তানিকারক

advertisement

প্রতিষ্ঠানগুলো বড় ধরনের সমস্যায় পড়বেন।

জানা গেছে, রপ্তানিপণ্যের বিপরীতে ব্যাংকের মাধ্যমে টাকা ছাড় দেওয়া হয়। এ জন্য রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান চালানের যাবতীয় তথ্যসংশ্লিষ্ট বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোতে দিতে হয়। এসব তথ্যের মধ্যে অধিকাংশ ক্ষেত্রে নানা ধরনের সমস্যা থেকে যায়। এসব সমস্যা ১৪ দিনের মধ্যে ঠিক করা যায় না। অনেক ক্ষেত্রে কয়েক মাসও লেগে যায়। এ ছাড়া চট্টগ্রাম কাস্টমসে প্রায় ১ হাজার শর্ট শিপমেন্টের তথ্য হালনাগাদ বাকি রয়েছে। পাশাপাশি প্রতিদিন শিপিং বিল সংশোধনের আবেদন আসছে। ফলে অসম্পূর্ণ তথ্য ব্যাংকে দেওয়া সম্ভব নয়।

পোশাক রপ্তানিকারকদের সংগঠন বিজিএমইএর সহসভাপতি মো. শহিদুল্লাহ আজিম আমাদের সময়কে বলেন, করোনার ধকল আমরা এখনো কাটিয়ে ওঠতে পারিনি। তখনকার অনেক ডকুমেন্ট এখনো হালনাগাদ হয়নি। ফলে এখন যদি ইএক্সপি বন্ধ করলে রপ্তানি বন্ধ হয়ে যাবে। বড় ধরনের সমস্যায় পড়ে যাবে রপ্তানি খাত। এ জন্য সময় দেওয়া প্রয়োজন। নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

তিনি বলেন, সরকার চাচ্ছে বাংলাদেশের রপ্তানি আদেশ বাড়ুক। আমাদের দেশের সুযোগ-সুবিধা ক্রেতাদের জানানোর কথা বলা হচ্ছে। একই সঙ্গে যদি নানা ধরনের জটিলতা তৈরি করা হয়, তা হলে ক্রেতারা তো আসবেন না। তারা চাইবেন জটিলতামুক্ত পরিবেশ।

চট্টগ্রাম চেম্বার পরিচালক অঞ্জন শেখর দাশ বলেন, বিষয়টি বাংলাদেশ ও বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো শিপিং বিলগুলো সংগ্রহ করে সমস্যার সমধান করতে পারে। এ ধরনের বিধিনিষেধের জন্য চাপাচাপি করলে রপ্তানি খাত বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়বে।

এদিকে বাংলাদেশ ব্যাংকের জারি করা নোটিশ ছয় মাস স্থগিত রাখার অনুরোধ জানিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের কাছে চিঠি বিজিএমইএ সভাপতি ফারুক হাসান। গত বুধবার দেওয়া ওই চিঠিতে তিনি বলেন, নোটিশটির কার্যক্রম স্থগিত না করে ইএক্সপি বন্ধ করা হলে বহু প্রতিষ্ঠানের পণ্য রপ্তানি ও কারখানা বন্ধ হয়ে যাবে। এতে শ্রমিক অসন্তোষ দেখা দেবে। দেশের আমদানি-রপ্তানি নির্বিঘ্ন রাখতে নোটিশের কার্যক্রম ছয় মাস স্থগিত রাখা প্রয়োজন।

advertisement