advertisement
advertisement
advertisement
DBBL
advertisement
advertisement

নিভৃতচারী সেই মানুষটি

ড. জাহাঙ্গীর মোহাম্মদ
২৬ নভেম্বর ২০২১ ১২:০০ এএম | আপডেট: ২৫ নভেম্বর ২০২১ ১১:১৮ পিএম
advertisement

নাজমুল হক নজীরের লেখালেখি বা কবিতা সম্পর্কে বলতে গেলে যে বিষয়টি সবচেয়ে বড় কথা সেটি হলো বাংলাদেশে আশির দশক বা তার আগেও যে অস্থির সময় চলছিল তখন তিনি অত্যন্ত সাহসী কবিতা লিখেছিলেন এবং পরে তার সেই ধারা অব্যাহত ছিল।

নাজমুল হক নজীরের লেখালেখি বা কবিতা সম্পর্কে বলতে গেলে যে বিষয়টি সবচেয়ে বড় কথা সেটি হলো বাংলাদেশে আশির দশক বা তার আগেও যে অস্থির সময় চলছিল তখন তিনি অত্যন্ত সাহসী কবিতা লিখেছিলেন এবং পরেও তার সেই ধারা অব্যাহত ছিল। এ ক্ষেত্রে কবির ‘স্বৈরণী স্বদেশ’ কাব্যগ্রন্থের ‘প্রেমের দাবিতে বলছি’ কবিতার স্মরণ নেওয়া যেতে পারে- পতাকা দুলছে বুনো হাওয়ায়/ নেতা যাচ্ছে শহীদ মিনারে /ঘোষণা হতে আর কতোক্ষণ /মীরজাফর জিন্দাবাদ, মীরজাফর জিন্দাবাদ! /বঙ্গভবনে আজ যত শকুনের আনাগোনা /কাকের প্রিয় বিপণিবিতান/কপট পরেছে আজ মানুষের ছদ্মবেশ, /এর রাত ভোর হবে /কোথাও নেই সেই অঙ্গীকার অথবা ‘ঘুরে দাঁড়াই স্বপ্ন পুরুষ’ কাব্যগ্রন্থের ‘ভোর হতে আর কতোক্ষণ’ কবিতায় কবি লিখেছেন-কমরেড, এই দেশে ভোর হতে আর কতোক্ষণ/পলাশী থেকে মুজিবনগর হেঁটে এলাম কতো পথ।/ তারপরও তো তিরিশ বছর কমরেড দেশজুড়ে কী কৃত্রিম আঁধার।/কমরেড এই দেশে ভোর হতে আর কতোক্ষণ/ধর্ষিতা আজ ডা. লুৎফর রহমানের উন্নত জীবন/শরৎচন্দ্র হয়ে যাচ্ছে সুন্দর চরিত্রহীন/আর কুরুক্ষেত্র আজ/জসীম উদদীনের নক্শী কাঁথার মাঠ।/এ দেশের কবিরা এখন শব্দ পতিতা/বুদ্ধিজীবীরা গোহাটার দালাল/নেতাজীরা তুখোড় বাচাল /পাঁচ আঙুলে ঠেলে আমলারা কলম।

স্বাধীনতা-পরবর্তী আশির দশকের শেষদিকে বাংলাদেশে যে শ্বাসরুদ্ধকর অবস্থা চলছিল তখনো তিনি তার সাহিত্যকর্মের মাধ্যমে এর প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন। আশির দশকের সেই সময়ে দুঃসাহসিকভাবে কথা বলার মানুষ একেবারেই কম ছিল, সেই দুঃসাহসিক বা বিরল প্রকৃতির মানুষদের মধ্যে একজন হলেন কবি নাজমুল হক নজীর। তার কবিতায় প্রতিবাদের পাশাপাশি দেশপ্রেম, সমাজ সচেতনতার বিষয়টি লক্ষণীয়। কবিতা বোহেমিয়ান এই কবি কবিতাতেই জীবন কাটিয়ে দিয়েছেন। তার কবিতায় বাঙালি সংগ্রামের চূড়ান্ত অধ্যায় মুক্তিযুদ্ধের নানা ঘটনা ও এর চিত্রকল্প উঠে এসেছে। বাঙালি জাতিসত্তার প্রশ্নে তার ‘বাঙালির ছাড়পত্র’ কবিতায় স্পষ্ট উচ্চারণ- আমার এই দেহে যতক্ষণ থাকবে প্রাণ/ততক্ষণ মুখে থাকবে বাংলা ভাষা/ আমি বলব অজস্রবার আমি বাঙালি/ আমি বলব মুজিব মানেই বাঙালি জাতি/মুজিব মানেই স্বাধীনতা/ বাংলাদেশ মানে/শেখ মুজিবুর রহমান। নজীর ভাইকে আমরা শুধু কবি ও সাংবাদিক হিসেবে চিনে থাকলেও তিনি একজন বড় মাপের ছড়াকারও।

নজীর ভাইয়ের এ পর্যন্ত ৩টি ছড়ার বই প্রকাশিত হয়েছে। অধিকাংশ ছড়ার শব্দচয়নে তার সচেতনতাবোধ ও শব্দের মাধুরতা বিশেষভাবে লক্ষণীয়। নাজমুল হক নজীরের কবিতা সম্পর্কে আরও বলা যেতে পারে, ছোট ছোট পঙ্্ক্তিতে লেখা কবিতাগুলো বেশ সাবলীল কিন্তু গভীর ভাবাবেগে ভরপুর। তার কবিতার একদিকে যেমন প্রকৃতি, প্রেম, বিরহ ও দ্রোহ চিন্তার কথা বারবার এসেছে, বাদ যায়নি অভিমানও।

নাজমুল হক নজীরের কবিতা যদি পাঠক ও আলোচকদের মাঝে পৌঁছায় তা হলে আমার মনে হয় জীবনানন্দ-পরবর্তী এই সময়ে নাজমুল হক নজীরের নাম বাংলা ভাষার কবিতায় বিশেষভাবে লেখা হবে।

advertisement
advertisement