advertisement
advertisement
advertisement
DBBL
advertisement
advertisement

কুমিল্লায় কাউন্সিলর হত্যা
নজরদারিতে কিলিং মিশনে অংশ নেওয়া অপরাধীরা

আরও এক আসামি গ্রেপ্তার। সন্ত্রাসীদের গুলির ফুটেজ ভাইরাল। মেয়র, কাউন্সিলর ও কর্মকর্তাদের মানববন্ধন

নিজস্ব প্রতিবেদক,কুমিল্লা
২৬ নভেম্বর ২০২১ ১২:০০ এএম | আপডেট: ২৬ নভেম্বর ২০২১ ০৮:৫৫ এএম
কাউন্সিলর সৈয়দ মো. সোহেল ও শ্রমিকলীগ নেতা হরিপদ সাহা। পুরোনো ছবি
advertisement

কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের (কুসিক) কাউন্সিলর সৈয়দ মো. সোহেল ও শ্রমিকলীগ নেতা হরিপদ সাহা হত্যা মামলার আরও এক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ নিয়ে মামলার এজহারভুক্ত দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হলো। কিলিং মিশনে অংশ নেওয়া আরও অনেকেই পুলিশের নজরদারিতে রয়েছে। এ ছাড়া এলাকাটি সীমান্তবর্তী হওয়ায় পুরো এলাকায় নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। পুলিশ ছাড়াও একাধিক সংস্থা মাঠে কাজ করছে।

পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তারকৃত মাসুম (৩৯) মামলার ৯ নম্বর এজহারভুক্ত আসামি। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে কুমিল্লার চান্দিনা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশের অ্যান্টি টেররিজম ও কাউন্টার টেররিজম ইউনিট। মাসুম তার হাতে থাকা অস্ত্র দিয়ে কাউন্সিলরের সহযোগী হরিপদ সাহার পেটে গুলি করেন বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ আছে। মাসুম নগরীর সংরাইশ এলাকার মঞ্জিল মিয়ার ছেলে। এর আগে বুধবার এ মামলায় কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থা থেকে এজাহারভুক্ত ৪ নম্বর আসামি মো. সুমনকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব। সুমন শহরের সুজানগর পূর্ব পাড়া বৌবাজার এলাকার মৃত কানু মিয়ার ছেলে।

কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) সোহান সরকার বলেন, ঘটনার পরপর মাসুম চান্দিনায় পালিয়ে যায়। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। তাকে বিকালে কোতোয়ালি থানায় আনা হয়। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক টিম কাজ করছে।

এদিকে কাউন্সিলরসহ জোড়া খুনের ঘটনার একটি সিসিটিভি ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। এতে দেখা গেছে কাউন্সিলর সোহেলের অফিস থেকে প্রায় ৫০ গজ পশ্চিমে মুখোশ পরা দুই অস্ত্রধারী আশপাশের বাসাবাড়িতে এলোপাতাড়ি গুলি ছাড়ছে।

২ মিনিট ৪৯ সেকেন্ডের ভিডিওটিতে দেখা যায়, কাউন্সিলর কার্যালয় থেকে পশ্চিম দিকে সুজানগর-পাথুরিয়াপাড়া সড়কে মুখোশ পরা দুই যুবক প্রকাশ্যে গুলি করছে। এ সময় আশপাশের সব দোকানপাট বন্ধ ছিল। পুরো রাস্তায় কালো পোশাক পরা অস্ত্রধারী ওই দুই সন্ত্রাসী ছাড়া কেউ নেই।

ভিডিও ফুটেজে এক যুবকের হাতে দুটি এবং আরেক যুবকের হাতে একটি পিস্তল দেখা যায়। ফুটেজে অনেককে দোকানপাট বন্ধ করে লুকিয়ে থাকতে দেখা গেছে। সন্ত্রাসীরা চলে গেলে দলবেঁধে লোকজন রাস্তায় বের হয়ে ছোটাছুটি করে। পরে অনেক নারী-পুরুষ রাস্তায় নামেন এবং কাউন্সিলর সোহেলের কার্যালয়ের দিকে যান।

এ বিষয়ে কুমিল্লা র‌্যাব-১১, সিপিসি ২-এর অধিনায়ক মেজর মোহাম্মদ সাকিব হোসেন জানান, ঘটনার পর সুজানগর ও পাথুরিয়াপাড়া এলাকার থেকে সব সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। এসব ফুটেজ পর্যালোচনা করে অস্ত্রধারীদের চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে।

অপরদিকে বৃহস্পতিবার দুপুরে কাউন্সিলর সোহেলের বাড়িতে যান কুমিল্লা-৬ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা আ ক ম বাহাউদ্দিন বাহার। তিনি সোহেলের পরিবারের সদস্যদের সান্ত্বনা দেন। এ সময় এমপি বাহার বলেন, সন্ত্রাসীর কোনো দলীয় পরিচয় নেই। সে যে দলেরই হোক। এমনকি আমাদের দলের কেউ এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকলে তাকেও আইনের আওতায় আনা হবে। তিনি বলেন, পলাতক আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে বিচার নিশ্চিত করা হবে।

মেয়র, কাউন্সিলর ও কর্মকর্তাদের মানববন্ধন

কাউন্সিলর সোহেল হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও বিচার দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে কুমিল্লা প্রেসক্লাবের সামনে এ মানববন্ধনের আয়োজন করে কুমিল্লা সিটি করপোরেশন।

এ সময় কুসিক মেয়র মনিরুল হক সাক্কু বলেন, ‘এ নৃশংস হত্যাকাণ্ডের দৃষ্টান্তমূলক সাজা দিতে হবে। তার আগে অতিদ্রুততম সময়ে সব আসামিকে গ্রেপ্তার করতে হবে। আসামিরা সবাই চিহ্নিত সন্ত্রাসী। সবাই তাদের চিনে। হত্যাকাণ্ডের এতদিন পরও আশানুরূপ গ্রেপ্তার না থাকায় সবাই হতাশায় আছে। আমরা সবাই আজ নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছি। আমাদের জীবনের নিশ্চয়তা কে দেবে? যেখানে জনপ্রতিনিধিদের নিরাপত্তা নেই সেখানে সাধারণ জনগণের উপায় কী?

মানববন্ধনে বিভিন্ন ওয়ার্ড কাউন্সিলরা বক্তব্য রেখে হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার করা না হলে সিটি করপোরেশনের সব সেবামূলক কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়ার ঘোষণা দেন। কাউন্সিলররা বলেন, দিন-রাত জনগণের সেবায় নিয়োজিত থাকি। প্রকাশ্য দিবালোকে যেভাবে একজন কাউন্সিলরকে হত্যা করা হয়েছে তাতে সবাই আতঙ্কে রয়েছে।

আয়োজনে নগর ভবনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা উপস্থিত হন। কুমিল্লা সার্কিট হাউস মোড় থেকে গণপূর্ত ভবন পর্যন্ত দীর্ঘ মানববন্ধনে কয়েকশ মানুষ অংশ নেন।

এ সময় আরও বক্তব্য রাখেন প্যানেল মেয়র জমিরুদ্দিন খান জরিপ, রুমা আক্তার, কাউন্সিলর মাসুদুর রহমান, সরকার মো. জাবেদ প্রমুখ। পরে স্থানীয় সংসদ সদস্য, জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের কাছে এ বিষয়ে স্মারকলিপি দেওয়া হয়।

হত্যা মামলার আসামি ৩ কাউন্সিলর মানববন্ধনে

এদিকে দুটি আলোচিত ও চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের আসামি কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের তিন কাউন্সিলর মানববন্ধনে অংশ নিয়েছেন। বৃহস্পতিবার দুপুরে কুমিল্লা প্রেসক্লাবের সামনে অনুষ্ঠিত কাউন্সিলর সোহেল ও শ্রমিকলীগ নেতা হরিপদ সাহা হত্যার আসামিদের বিচার দাবিতে আয়োজিত মানববন্ধনে অংশ নেন তারা। ওই তিন কাউন্সিলরকেই তাদের দলীয় পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। হত্যা মামলার বিচার দাবির মানবন্ধনে তাদের দেখে অনেকেই অবাক হন। এ ঘটনায় কুমিল্লাজুড়ে আলোচনার ঝড় বইছে।

জানা গেছে, নগরের চাঙ্গিনী এলাকার ব্যবসায়ী আক্তার হোসেন হত্যা মামলার প্রধান আসামি কুমিল্লা মহানগর যুবলীগের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ও কুসিকের ২৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর আলমগীর হোসেন। হত্যার অভিযোগ ওঠার পর তাকে যুবলীগ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। তিনি অংশ নেন মানববন্ধনে।

নগরীর চৌয়ারায় চাঞ্চল্যকর যুবলীগ নেতা জিল্লুর রহমান চৌধুরী ওরফে জিলানী হত্যা মামলার দ্বিতীয় আসামি ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা আবদুস সাত্তার। গত ২৬ জানুয়ারি ঢাকার শাহবাগ এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে মামলার তদন্ত সংস্থা পিবিআই। বর্তমানে তিনি জামিনে রয়েছেন। এ ছাড়া যুবলীগ নেতা জিলানী হত্যা মামলার প্রধান আসামি কুসিকের ২৭ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর আবুল হাসান ওই মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারেও ছিলেন। এই দুই কাউন্সিলরকেও দেখা গেছে মানববন্ধনে।

উল্লেখ্য, গত সোমবার বিকালে নগরীর পাথুরিয়াপাড়ায় ১৭ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও সিটি করপোরেশনের প্যানেল মেয়র সৈয়দ মো. সোহেলের কার্যালয়ে গুলি করে মুখোশধারী সন্ত্রাসীরা। গুলিতে সোহেল ও তার সহযোগী হরিপদ সাহা নিহত হন। এ সময় আহত হন আরও অন্তত পাঁচজন।

এ ঘটনায় গত মঙ্গলবার রাত ২টায় সোহেলের ছোট ভাই সৈয়দ মো. রুমন বাদী হয়ে থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলায় শহরের সুজানগর বৌবাজার এলাকার মৃত জানু মিয়ার ছেলে ‘শীর্ষ সন্ত্রাসী ও মাদককারবারি’ শাহ আলমকে প্রধান করে ১১ জনের নাম উল্লেখ এবং আরও ৮-১০ অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে আসামি করা হয়।

advertisement
advertisement