advertisement
advertisement
advertisement
DBBL
advertisement

যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্কবার্তা চীনের
তাইওয়ানের মায়ায় পড়ো না

গণতন্ত্র সম্মেলনে চীনকে বাদ দিয়ে তাইওয়ানকে আমন্ত্রণ জানিয়েছে বাইডেন প্রশাসন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
২৭ নভেম্বর ২০২১ ১২:০০ এএম | আপডেট: ২৭ নভেম্বর ২০২১ ০৮:৪৮ এএম
প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র উও কিয়ান। পুরোনো ছবি
advertisement

তাইওয়ান নিয়ে কোনো প্রকার বিভ্রম বা মায়ার মধ্যে পড়া যুক্তরাষ্ট্রের উচিত হবে না বলে সতর্কবার্তা দিয়েছে চীন। দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র উও কিয়ান বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে এই হুশিয়ারি দিয়েছেন।

সংবাদ সম্মেলনে উও কিয়ান বলেন, ‘কয়েক বছর ধরে তাইওয়ান নিয়ে প্রচুর দায়িত্বহীন কথাবার্তা বলেছে যুক্তরাষ্ট্র, বেশ কিছু উসকানিমূলক কাজও করেছে। এসব কাজের মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে দক্ষিণ চীন সাগরে দেশটির সামরিক নৌযান ও যুদ্ধজাহাজের উপস্থিতি।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা স্পষ্টভাবে বলতে চাই, বিশেষ করে তাইওয়ান ইস্যুতে চীন কোনো প্রকার আপস কখনো করবে না। সুতরাং যুক্তরাষ্ট্রেরও উচিত হবে না তাইওয়ানের মায়ায় পড়া, বা এ সংক্রান্ত কোনো বিভ্রান্তিকে প্রশ্রয় দেওয়া।’

তবে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর সঙ্গে চীনের সেনাবাহিনী সুসম্পর্ক বজায় রাখতে চায় বলে সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন উও কিয়ান। দুই দেশের সরকারের ঐকমত্যের ভিত্তিতে মার্কিন সেনাবাহিনীর সঙ্গে যুগপৎভাবে চীনের সেনাবাহিনীও একত্রে কাজ করতে পারে বলেও আশা প্রকাশ করেছেন তিনি।

এ সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘চীন নীতিগতভাবে দুই দেশের সামরিক বাহিনীর মধ্যে সুসম্পর্ক বজায় রাখতে আগ্রহী। আমরা একসঙ্গে কাজও করতে পারি। তবে অবশ্যই উভয়ের মধ্যকার এই সম্পর্কের ভিত্তি হতে হবে সার্বভৌমত্ব, মর্যাদা ও উভয়পক্ষের মূল স্বার্থগত বিষয়গুলোতে ঐকমত্য।’ যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন সম্প্রতি বিশ্ব গণতন্ত্র সম্মেলনের আহ্বান করেছেন। ৯ ও ১০ ডিসেম্বর ভার্চুয়াল মাধ্যমে এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে।

সম্মেলনে ১১০টি দেশকে আমন্ত্রণ জানানো হলেও এই তালিকায় নেই চীনের নাম। উপরন্তু চীনকে টপকে তাইওয়ানকে সম্মেলনে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ জানিয়েছে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এ ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই ক্ষুব্ধ চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ঝাও লিজিয়ান বুধবার বেইজিংয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের গণতন্ত্র বরাবরই ‘একচোখা’।

১৫ নভেম্বর ভার্চুয়াল মাধ্যমে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে বসেছিলেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। দুই দেশের অর্থনীতি ও বাণিজ্য, জলবায়ু, জিনজিয়াংয়ে মানবাধিকার পরিস্থিতি, তাইওয়ানের স্বাধীনতা সংগ্রামসহ বিভিন্ন ইস্যুতে আলোচনা হয় দুই রাষ্ট্রনেতার মধ্যে।

এসব ইস্যুর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর ইস্যু ছিল তাইওয়ানের স্বাধীনতা সংগ্রাম, যাকে ‘বিচ্ছিন্নতাবাদী তৎপরতা’ বলে উল্লেখ করে আসছে চীন এবং অভিযোগ করে আসছে- যুক্তরাষ্ট্র নানা কৌশলে এই ‘বিচ্ছিন্নতাবাদী তৎপরতাকে’ মদদ দিচ্ছে।

বৈঠকে চীনের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে সতর্ক করে বলেন, তাইওয়ানের ‘বিচ্ছিন্নতাবাদী তৎপরতাকে’ মদদ দেওয়া ‘আগুন নিয়ে খেলা’ করার মতো ব্যপাার এবং এটি অব্যাহত রাখলে যুক্তরাষ্ট্রের ‘হাত পুড়বে’।

জবাবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বলেছিলেন, তাইওয়ানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের যে চুক্তি রয়েছে, তা-ই মেনে চলতে ইচ্ছুক তার দেশ। তার বাইরে অন্য কোনো কিছুতে জড়ানোর আগ্রহ যুক্তরাষ্ট্রের নেই। দুই রাষ্ট্রনেতার বৈঠকের এক সপ্তাহের মাথায় তাইওয়ানকে বিশ্ব গণতন্ত্র সম্মেলনের আমন্ত্রণ জানাল যুক্তরাষ্ট্র।