advertisement
advertisement
advertisement
DBBL
advertisement

নির্বাচনী সহিংসতায় ঝরল আরও ৩ জনের প্রাণ

চার প্রার্থীর অফিসে অগ্নিসংযোগ

আমাদের সময় ডেস্ক
২৭ নভেম্বর ২০২১ ১২:০০ এএম | আপডেট: ২৭ নভেম্বর ২০২১ ১১:০৮ এএম
প্রতীকী ছবি
advertisement

ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন কেন্দ্র করে সংঘর্ষে আরও তিনজন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে টাঙ্গাইলের নাগরপুরে আওয়ামী লীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষে একজন নিহত এবং গুলিবিদ্ধসহ চারজন আহত হয়েছেন। ভোলার দৌলতখানে নির্বাচনপরবর্তী সহিংসতায় গুলিবিদ্ধ হয়ে একজন নিহত হয়েছেন। গতকাল শুক্রবার বিকালে এ সংঘর্ষ হয়। শরীয়তপুর সদর উপজেলায় আওয়ামী লীগ প্রার্থীর এক সমর্থককে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে বিদ্রোহী প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকদের বিরুদ্ধে। শুক্রবার ভোর ৫টার দিকে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি। এ নিয়ে নির্বাচনী সহিংসতায় এ পর্যন্ত নিহত হয়েছেন ৪৪ জন।

অন্যদিকে পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জে দুই সদস্য প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে আহত হয়েছেন অন্তত ১০ জন। মাদারীপুরে একে অপরের বিরুদ্ধে সমর্থকদের ওপর হামলার অভিযোগ করেছেন দুই চেয়ারম্যান প্রার্থী। কুমিল্লার বরুড়ায় তিন প্রার্থীর নির্বাচনী অফিসে অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুর করা হয়েছে। এ ছাড়া কিশোরগঞ্জে নৌকা প্রার্থীর নির্বাচনী কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগের অভিযোগ পাওয়া গেছে। আমাদের প্রতিনিধিরা আরও জানান-

দৌলতখান (ভোলা) : দৌলতখানের মদনপুর ইউনিয়নের দুই প্রার্থীর সমর্থকদের সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে খোরশেদ আলম টিটু (৩৫) নামে একজন নিহত হয়েছেন। শুক্রবার বিকালে ভোলা সদরের নাছির মাঝিসংলগ্ন মেঘনা নদীতে স্বতন্ত্র প্রার্থী জামাল উদ্দিন সকেট ও বর্তমান চেয়ারম্যান নাসির উদ্দিন নান্নু গ্রুপের মধ্যে এ সংঘর্ষ হয়। নিহত টিটু ভোলা সদরের ধনিয়া ইউনিয়নের কানাইনগর গ্রামের মৃত তছির আহমেদের ছেলে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, মদনপুর ইউনিয়নের বিজয়ী চেয়ারম্যান নাছির উদ্দিন নান্নুর সংবর্ধনা অনুষ্ঠান হয়। নান্নু ও তার লোকজন অনুষ্ঠান থেকে ভোলা শহরে ফেরার পথে নাছির মাঝি এলাকায় পৌঁছলে দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। নিহত টিটু চেয়ারম্যান পক্ষের সমর্থক এবং ছাত্রলীগকর্মী ছিলেন বলে জানা গেছে। ভোলা সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্তকর্তা (ওসি) এনায়েত হোসেন বলেন, গুলিবিদ্ধ একজনকে হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে তিনি মারা যান।

নাগরপুর (টাঙ্গাইল) : দপ্তিয়র ইউনিয়নে পাইকাল গ্রামে দুপক্ষের সংঘর্ষে একজন নিহত এবং গুলিবিদ্ধসহ চারজন আহত হয়েছেন। নিহত তোতা শেখ (৪০) ওই গ্রামের আক্কেল মেম্বারের ছেলে। গুলিবিদ্ধসহ দুজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।

গুলিবিদ্ধ আক্কেল মেম্বারের ছেলে রফিক শেখ বলেন, আমরা পারিবারিকভাবে আওয়ামী লীগের সমর্থক এই নির্বাচনে নৌকা প্রার্থীর পক্ষে কাজ করছিলাম। ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি সাইফুদ্দীন আমাদের বিরুদ্ধে নির্বাচনে কাজ না করার অভিযোগ আনেন। এ নিয়ে শুক্রবার বিকালে আমাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। সন্ধ্যায় সাইফুদ্দীন সদলবলে অস্ত্রসস্ত্র নিয়ে আমাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এ সময় আমার পায়ে গুলি লাগে, পাইকাল গ্রামের মিনহাজ মণ্ডলের ছেলে বাচ্চু মণ্ডল, সুমন, কবীর ও আমার ভাই তোতা শেখ গুরুতর আহত হন। পরে লোকজন আমাদের উদ্ধার করে দৌলতপুর হাসপাতালে নিলে আমার ভাই মারা যান। নাগরপুর থানার ওসি সরকার আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, সংঘর্ষের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। আমি নিজেও সেখানে যাচ্ছি।

শরীয়তপুর : সদর উপজেলায় সংঘর্ষে নিহত আবদুর রাজ্জাক মোল্লা (৬০) আংগারিয়া ইউনিয়নের চরযাদবপুর গ্রামের মৃত নাজির মোল্লার ছেলে। গত ৭ নভেম্বর ইউনিয়নের চরপাতাং পাকার মাথা এলাকায় বিদ্রোহী প্রার্থী আনোয়ার হোসেন হাওলাদারের কর্মী-সমর্থকদের হামলায় আহত হন রাজ্জাক মোল্লা।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, গত ১১ নভেম্বর অনুষ্ঠিত নির্বাচনে আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান প্রার্থী ছিলেন আসমা আক্তার। তার প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য আনোয়ার হোসেন হাওলাদার। তাকে আওয়ামী লীগ থেকে বহিষ্কার করা হয়। নির্বাচনে বিজয়ী হন আনোয়ার। ভোটের আগে ৭ নভেম্বর সন্ধ্যায় দুই পক্ষের সমর্থকদের মধ্যে বাগবিতণ্ডা ও ধাওয়া পাল্টা-ধাওয়া হয়। এক পর্যায়ে আনোয়ারের কর্মী-সমর্থকরা নৌকার সমর্থক আবদুর রাজ্জাক মোল্লা, আক্তার মোড়ল ও বাবু মোল্লাকে কুপিয়ে আহত করে।

পালং মডেল থানার ওসি আক্তার হোসেন বলেন, ওই সংঘর্ষের ঘটনায় মামলা হয়েছিল। আমরা আট আসামিকে গ্রেপ্তারও করেছি। আহত রাজ্জাক মোল্লা মারা গেছেন। এখন হত্যামামলা হবে।

মির্জাগঞ্জ (পটুয়াখালী) : দেউলী সুবিদখালী ইউপির ২নং ওয়ার্ডে বৃহস্পতিবার রাতে দুই সদস্য প্রার্থী কবির জোমাদ্দার ও ইউসুফ আলী খানের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এতে এক প্রার্থীর স্ত্রী-ছেলেসহ কমপক্ষে ১০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে ফারুক জোমাদ্দার, জালাল জোমাদ্দার ও ইব্রাহিম নামে তিনজনকে উপজেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ছাড়া গুরুতর আহত মো. ইব্রাহিম ও মমতাজ বেগমকে বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। মির্জাগঞ্জ থানার ওসি আনোয়ার হোসেন তালুকদার বলেন, এ ব্যাপারে কোনো লিখিত অভিযোগ পাননি। পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মাদারীপুর : সমর্থকদের ওপর হামলার জন্য একে অপরের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন দুই চেয়ারম্যান প্রার্থী। বৃহস্পতিবার রাতে শিরখাড়া ইউনিয়ন বল্লভদী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী হেলাল খান বলেন, রাত ১১টার দিকে আমি আমার বাড়ির কাছেই ছিলাম। হঠাৎ মজিবর ও তার কর্মীরা এসে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করে। এ সময় মজিবর আমার দিকে অস্ত্র ঠেকিয়ে তুলে নেওয়ার চেষ্টা করলে আমার কর্মীরা বাধা দেয়। এতে তারা ক্ষিপ্ত হয়ে আমার বাড়িঘরে হামলা করে এবং আমার নেতাকর্মীদের আহত করে।

এদিকে অভিযোগ অস্বীকার করে হেলালের বিরুদ্ধে পাল্টা হত্যাচেষ্টার অভিযোগ তুলেছেন বর্তমান চেয়ারম্যান ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মজিবর রহমান হাওলাদার। তিনি বলেন, ‘আমি নির্বাচনী প্রচার শেষে রাতে বাড়ি ফিরছিলাম। পথে হেলাল খানের এলাকায় তার সমর্থিত সন্ত্রাসীরা আমার গাড়িতে এলোপাতাড়ি কোপায় এবং ভাঙচুর করে। এ সময় আমাকে হত্যারও চেষ্টা করে।

মাদারীপুর সদর থানার ওসি কামরুল ইসলাম মিঞা বলেন, খবর পেয়ে রাতেই ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। দুই পক্ষই থানায় এসেছিল। তাদের লিখিত অভিযোগ দিতে বলা হয়েছে।

কিশোরগঞ্জ : সদর উপজেলার মহিনন্দ ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের প্রার্থী সাদেকুর রহমানের নির্বাচনী কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগ করেছে দুর্বৃত্তরা। গতকাল শুক্রবার ভোরে সদর উপজেলার মহিনন্দ ইউনিয়নের জালালপুর এলাকায় অগ্নিসংযোগের এ ঘটনা ঘটে।

সাদেকুর রহমানের ছেলে চিত্রনায়ক সায়মন সাদিক জানান, কে বা কারা জালালপুর বাজারের পাশে নৌকার কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগ করে। এ সময় পোস্টার ও আসবাব পুড়ে যায়। সকালে নৌকার সমর্থকরা কার্যালয়ে গিয়ে এ অবস্থা দেখতে পায়। কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানার ওসি আবুবকর সিদ্দিক জানান, পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করছে এবং ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

বরুড়া (কুমিল্লা) : বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় আগানগর ইউনিয়নের সরাফতি গ্রামে বিদ্রোহী প্রার্থী সাবেক চেয়ারম্যান মাজহারুল ইসলাম মিঠুর নির্বাচনী অফিস ভাংচুরের অভিযোগ ওঠেছে নৌকার সমর্থদের বিরুদ্ধে। অন্যদিকে মধ্যরাতে আড্ডা ইউনিয়নে নৌকার অফিস পুড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ করেছেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী জাকির হোসেন বাদল। এ ছাড়া একই রাতে আদ্রা ইউনিয়নের বিদ্রোহী প্রার্থী রাকিবুল হাসান লিমনের অফিসে অগ্নিসংযোগ করা হয়।