advertisement
advertisement
advertisement
DBBL
advertisement

আব্বাসকে জেলা আ.লীগ থেকেও অব্যাহতি

পৌরসভার সাড়ে ৩ কোটি টাকা গায়েবের অভিযোগ

রাজশাহী ব্যুরো
২৭ নভেম্বর ২০২১ ১২:০০ এএম | আপডেট: ২৭ নভেম্বর ২০২১ ০২:৩৮ এএম
advertisement

রাজস্ব হিসেবে আদায় করা রাজশাহীর কাটাখালী পৌরসভার ফান্ডে প্রায় সাড়ে ৩ কোটি টাকা ছিল। সেই টাকা গায়েব করেছেন মেয়র আব্বাস আলী। বর্তমানে এই বিশাল অঙ্কের টাকার কোনো হিসাব নেই। ফলে এক কাপ চা খাওয়ার টাকাও পৌরসভার ফান্ডে নেই। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নিয়ে কটূক্তি ও বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল নির্মাণ প্রতিহতের ঘোষণা দেওয়া মেয়র আব্বাস আলীকে দ্রুত অপসারণের দাবিতে গতকাল সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মঞ্জুর রহমান। গতকাল সকালে পৌরভবনে এ সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করা হয়। এতে ১২ জন কাউন্সিলর উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে ‘বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল নির্মাণ ইসলামের দৃষ্টিতে পাপ’- এমন একটি প্রসঙ্গ তুলে কাটাখালী পৌরসভার সামনে বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল নির্মাণ করা হবে না মর্মে মেয়র আব্বাসের ১ মিনিট ৫১ সেকেন্ডের একটি অডিও ক্লিপ ফাঁস হয়ে যায়। সেখানে অশালীন ভাষায় তাকে কথা বলতেও শোনা যায়। তার এ অডিও ক্লিপটিকে কেন্দ্র করে সারাদেশে তোলপাড় চলছে। ইতোমধ্যেই কাটাখালী পৌর আওয়ামী লীগের আহ্বায়কের পদ থেকে তাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া জেলার সদস্যপদ বাতিলসহ আওয়ামী লীগ থেকে স্থায়ী বহিষ্কারের সুপারিশ করা হয়েছে।

এদিকে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে কটূক্তি করে বক্তব্য দেওয়া সেই অডিওটি নিজের বলে স্বীকার করেছেন রাজশাহীর কাটাখালী পৌরসভার মেয়র আব্বাস আলী। গতকাল শুক্রবার বিকাল ৪টা ৩৭ মিনিটে নিজের ফেসবুক পেইজ থেকে লাইভে এসে তিনি এ কথা স্বীকার করেন। এজন্য তিনি দেশবাসীর কাছে ক্ষমাও চেয়েছেন। ১৯ মিনিট ৫৯ সেকেন্ডের সেই ফেসবুক লাইভে তিনি শুধু তার ফাঁস হয়ে যাওয়া ১ মিনিট ৫১ সেকেন্ডের সেই অডিও বিষয়েই কথা বলেন।

এর আগে সংবাদ সম্মেলন কাউন্সিলর মঞ্জুর আরও বলেন, বৃহস্পতিবার পৌরসভার ১২ কাউন্সিলরের জরুরি সভায় সর্বসম্মতিক্রমে মেয়রকে অপসারণে অনাস্থা প্রস্তাব গৃহীত হয়। রাতেই সেটি জেলা প্রশাসক বরাবর দেওয়া হয়েছে। কাটাখালী পৌরসভার কাউন্সিলর ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা মেয়র আব্বাসের আগ্রাসন থেকে মুক্তি চান। তিনি আরও বলেন, হঠাৎ করে পৌরসভার ফান্ডের টাকা গায়েব হয়ে গেছে। বিষয়টি দ্রুত তদন্তের দাবি জানান তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে কাউন্সিলর মঞ্জুর বলেন, করোনাকালীন অনুদান দেওয়ার জন্য কাটাখালী বাজারের কাপড় ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে ৮০ লাখ টাকা চাঁদা নেন মেয়র আব্বাস। কিন্তু সে টাকা কাউকে দেওয়া হয়েছে বলে আমাদের জানা নেই। কারোনাকালে চা ব্যবসায়ীদের অনুদান দেওয়ার নামে কয়েক লাখ টাকা পৌরসভার ফান্ড থেকে হাতিয়ে নেন মেয়র আব্বাস। কিন্তু কোনো চায়ের দোকানদার করোনাকালে অনুদান পেয়েছেন তা কোনো কাউন্সিলর বলতে পারবেন না।

প্রতিবাদ সভায় ৮ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর আবদুল মজিদ বলেন, পৌরসভার কাউন্সিলর ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ৩৬ মাসের বেতন-ভাতা বকেয়া রয়েছে। ফান্ডে টাকা থাকার পরও মেয়র আব্বাস এই বেতন-ভাতা দেননি। তিনি আরও বলেন, মেয়র আব্বাস কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জোর করে বিভিন্ন কাগজে স্বাক্ষর করতে বাধ্য করেন। কেউ স্বাক্ষর না করলে তাকে চাকরিচ্যুতসহ নানাভাবে হুমকি দেন। এ ছাড়া তার কাজের কোনো প্রতিবাদ করলে কাউন্সিলর ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতেন মেয়র আব্বাস।

সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে ১ নম্বর প্যানেল মেয়র আনোয়ার সাদাত, ২ নম্বর প্যানেল মেয়র মো. সিরাজুল ইসলাম, ৩ নম্বর প্যানেল মেয়র মোসা. হোসনেয়ারা বেগম, ৪ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. ইয়াছিন মোল্লা, ৫ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর বোরহান উদ্দীন রাব্বানী, ৭ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মনিরুজ্জামান মনির, ৮ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর আবদুল মজিদ এবং ৯ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর এনামুল হক উপস্থিত ছিলেন।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে কাটাখালী পৌর মেয়র আব্বাস আলীর মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

ফেসবুক পেইজে লাইভে মেয়র আব্বাস বলেন, ‘কাটাখালী জামিয়া ওসমানিয়া মাদ্রাসার বড় হুজুর জামাল উদ্দিন মাহমুদ। ছোটবেলা থেকেই আমি তাকে দেখে এসেছি। আমার বিশ^াস তিনি একজন আল্লাহওয়ালা লোক। তিনি অনেক কষ্ট করে এই মাদ্রাসাটি নির্মাণ করেছেন। যেখান থেকে অনেক মুফতি, অনেক আলেম বের হয়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছেন।’

অডিও বিষয়ে তিনি বলেন, ‘অডিওটি তিন-চার মাস আগের। মাদ্রাসার পাশেই এক লোকের জানাজায় গিয়েছিলাম। জানাজা শেষে বড় হুজুরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করি। তার কয়েকদিন আগে কাটাখালী পৌরসভার গেটের সামনে বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল নির্মাণ করা হবে জানিয়ে আমি ফেসবুকে একটি পোস্ট করি। তার সঙ্গে দেখা সাক্ষাতের পর তিনি আমাকে এ বিষয়টি জানিয়ে বললেন, আমার এক ছাত্র এই ম্যুরাল নির্মাণ নিয়ে তোমার ফেসবুক পোস্টটি আমাকে দেখাল। পরে ম্যুরাল নির্মাণ ইসলামে পাপসহ অনেক তথ্য-উপাত্ত উপস্থাপন করলেন। বড় হুজুরের আপত্তির কারণেই আমি কাটাখালী পৌরসভা গেট নির্মাণস্থলে বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল নির্মাণ থেকে সরে আসি। আল্লাহর কথা আসলে, কোরআনের কথা আসলে কে না দুর্বল হবে। আমি গল্পের ছলে, আড্ডার ছলে ম্যুরালটা ওইখানে করব না বলেছিলাম।