advertisement
advertisement
advertisement
DBBL
advertisement
advertisement

এইডস প্রতিরোধে প্রয়োজন সচেতনতা

সুব্রত বিশ্বাস
১ ডিসেম্বর ২০২১ ১২:০০ এএম | আপডেট: ৩০ নভেম্বর ২০২১ ১১:০৬ পিএম
advertisement

আজ ১ ডিসেম্বর বিশ্বজুড়ে পালিত হচ্ছে বিশ্ব এইডস দিবস। এই রোগ সম্পর্কে বিশেষভাবে সচেতন করার জন্যই এদিনটি পালন করা হয়। এইডস বা এইচআইভি ‘মানব প্রতিরক্ষা অভাব সৃষ্টিকারী ভাইরাস’ নামক ভাইরাসের কারণে সৃষ্ট একটি রোগ লক্ষণ সমষ্টি। তা মানুষের দেহে রোগ প্রতিরোধের ক্ষমতা বা প্রতিরক্ষা হ্রাস করে।

বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও প্রতিবছর বিশ্ব এইডস দিবস পালন করা হয়। ১৯৮৮ সালে গঠন করা হয় আন্তর্জাতিক এইডস সোসাইটি এবং সে বছরই ১ ডিসেম্বরকে বিশ্ব এইডস দিবস হিসেবে ঘোষণা করা হয়। সেই থেকে এ দিবস পালনের সূচনা। প্রতিবছর বিশ্ব এইডস দিবসের একটি প্রতিপাদ্য নির্ধারণ হয়ে থাকে। এ বছর দিবসটির প্রতিপাদ্য হচ্ছে- ঊহফরহম ঃযব ঐওঠ ঊঢ়রফবসরপ: ঊয়ঁরঃধনষব অপপবংং, ঊাবৎুড়হব’ং ঠড়রপব. এইডস (অ্যাকোয়ার্ড ইমিউনো ডেফিয়েন্সি সিনড্রোম) হলো এক প্রকার ভাইরাস দ্বারা গঠিত রোগ। এ রোগ এইচআইভি নামক ভাইরাসের কারণে হয়ে থাকে। এইচআইভি একটি ভাইরাস। তা মানুষের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে নষ্ট করে দেয়। তা ছাড়া এ ভাইরাসটি রক্তের সাদা কোষ নষ্ট করে দেয়। ফলে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা অকার্যকর হয়ে পড়ে। এইচআইভিতে আক্রান্ত হওয়ার চূড়ান্ত পরিণতি হচ্ছে এইডস রোগে আক্রান্ত হওয়া। তবে এইচআইভি এবং এইডস একই বিষয় নয়। এইচআইভি একটি ভাইরাস এবং এইডস একটি অসুস্থতা। তা এইচআইভির কারণে হয়।

এইচআইভি সংক্রমণের সঙ্গে সঙ্গেই সর্বদা এইডস হয় না। শুরুতে ক্ষেত্রবিশেষ ইনফ্লুয়েঞ্জাজাতীয় উপসর্গ দেখা যেতে পারে। এর পর বহুদিন কোনো উপসর্গ দেখা যায় না। এইচআইভি ভাইরাসের আক্রমণ বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে দেহের প্রতিরক্ষাতন্ত্র দুর্বল হতে থাকে এবং আক্রান্ত ব্যক্তির সাধারণ সংক্রমক ব্যাধিতে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা বৃদ্ধি পায়। এমনকি সংক্রামক ব্যাধি বা টিউমারের শিকারও হতে পারেন। এগুলো কেবল সেসব লোকেরই হয়- যাদের দেহে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কাজ করে না। এইচআইভি সংক্রমণের এ পর্যায়টিকে এইডস বলা হয়।

এইচআইভি ভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত বেশিরভাগ রোগীই কোনো লক্ষণ ছাড়া এই রোগ বহন করেন। তবে কখনো কখনো এই ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার ৬ থেকে ৭ সপ্তাহ পর কিছু নির্দিষ্ট লক্ষণ দেখা দিতে পারে- জ্বর, গলাব্যথা, মাথাব্যথা, মুখের অভ্যন্তরে ঘা, দীর্ঘমেয়াদি কাশি, স্বাস্থ্যের অবনতি, লসিকাগ্রন্থি ফুলে ওঠা ইত্যাদি। এসব লক্ষণ কোনো চিকিৎসা ছাড়াই সেরে যায়। এ কারণে রোগী এই ভাইরাস সম্পর্কে বুঝতে পারেন না। এইচআইভি ভাইরাস কোনো রকম লক্ষণ ছাড়াই সর্বোচ্চ ১০ বছর মানুষের শরীরে বাস করতে পারে।

বর্তমানে এইডস একটি ভয়াবহ রোগ হিসেবে বিশ্বব্যাপী আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। সর্বপ্রথম ১৯৮১ সালে আমেরিকায় এই রোগ আবিষ্কৃত হয়। ১৯৮৫ সাল থেকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা রক্ত পরিসঞ্চালনের আগে রক্তে এইচআইভি ভাইরাস জীবাণুমুক্ত কিনা, তা স্ক্রিন করে নিশ্চিত হওয়ার পরই কেবল রক্ত সরবরাহ করার পরামর্শ দেয়। এইডস আক্রান্ত ব্যক্তির মৃত্যু অনিবার্য ছিল এক সময়। তখন এ রোগকে ঘাতক রোগ বলা হতো।

এইচআইভি নামক ভাইরাস সর্বপ্রথম আমেরিকায় বিজ্ঞানীদের মধ্যে ধরা পড়লেও রোগটি আফ্রিকা থেকেই বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়ে বলে ধারণা করা হয়। এইডসের বিস্তার ইতোমধ্যে মহামারী রূপ নিয়েছে বলে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা রিপোর্ট প্রকাশ করেছে। বাংলাদেশের সীমান্ত সংলগ্ন দেশ ভারত, মিয়ানমার ও নেপালে ইতোমধ্যে এইডস মহামারী আকারে ছড়িয়ে পড়ার তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। আক্রান্তের দিক থেকে বাংলাদেশ এখনো মৃদু আক্রান্তের দেশ হিসেবে বিবেচিত। তবুও প্রতিবেশী দেশ ভারত ও মিয়ানমারে এ রোগের দ্রুত বিস্তার লাভ করছে। সেই হিসেবে বাংলাদেশও ঝুঁকিপূর্ণ।

এইডস থেকে নিজেকে, সমাজকে ও মানবসভ্যতাকে টিকিয়ে রাখতে হলে সামাজিক আন্দোলন জোরদার করতে হবে। এ জন্য ব্যক্তি সচেতনতার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সরকারি ও বেসরকারি সংস্থাগুলোকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে। আমরা আমাদের আবাসভূমি নতুন প্রজন্মের জন্য সব ধরনের রোগব্যাধি থেকে মুক্ত রাখব- এই হোক আগামীর অঙ্গীকার।

সুব্রত বিশ্বাস : সমন্বয়ক, মিডিয়া সেল টু ভাইস চ্যান্সেলর এবং কাউন্সিলর, ট্রান্সফিউশন মেডিসিন বিভাগ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়

advertisement
advertisement