advertisement
advertisement
advertisement
DBBL
advertisement
advertisement

এসএমই ফাউন্ডেশন এবং উদ্যোক্তাদের প্রত্যাশা

ড. মো. মফিজুর রহমান
২ ডিসেম্বর ২০২১ ১২:০০ এএম | আপডেট: ২ ডিসেম্বর ২০২১ ০৯:৩০ এএম
advertisement

 

শিল্প মন্ত্রণালয়ের পৃষ্ঠপোষকতায় বরাবরের মতো এবারও আগামী ৫-১২ ডিসেম্বর ২০২১ ৮ দিনব্যাপী বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে (বিআইসিসি) ৯ম জাতীয় এসএমই পণ্যমেলা অনুষ্ঠিত হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রধান অতিথি হিসেবে আগামী ৫ ডিসেম্বর রবিবার সকাল ১০টায় গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি মেলার শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করবেন। মেলা চলবে প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত এবং এটি সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে। মেলায় প্রবেশের জন্য কোনো ধরনের ফি প্রয়োজন হবে না। একই সঙ্গে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জাতীয় এসএমই উদ্যোক্তা পুরস্কার ২০২১ প্রদান করা হবে।

এসএমই ফাউন্ডেশন ২০১২ সাল থেকে প্রতিবছর (২০১৪ সাল ছাড়া) জাতীয় এসএমই মেলা আয়োজন করে আসছে। ৬ষ্ঠ এবং ৮ম জাতীয় এসএমই মেলায় প্রধানমন্ত্রী প্রধান অতিথি ছিলেন। ৮ম মেলার উদ্বোধন হয় ৪ মার্চ ২০২০। মেলা চলাকালীন বাংলাদেশে করোনা রোগী ধরা পড়ায় কোনোরকমে তাড়াহুড়ো করে মেলা শেষ করতে হয়। জাতীয় মেলা ছাড়াও ফাউন্ডেশন আঞ্চলিক মেলা আয়োজন করে থাকে। প্রতিবছরের ধারাবাহিকতায় ৯ম এসএমই মেলা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল এ বছরের মার্চ মাসে, কিন্তু করোনার প্রভাব চলতে থাকায় সময় পরিবর্তন করে প্রথমে নভেম্বর মাসে এবং পরে ডিসেম্বর মাসে নির্ধারণ করা হয়। এবারের এসএমই মেলাটি নানা কারণে বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে। বাংলাদেশের এসএমই উদ্যোক্তাদের জন্য ধর্মীয় বা সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের কারণে কয়েকটি বিশেষ উৎসব অথবা পার্বণ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। যেমন পহেলা বৈশাখ, দুই ঈদ, পূজা, বড়দিনের অনুষ্ঠান ইত্যাদি। এসব উৎসব ঘিরে নানারকম পণ্যের কেনাবেচা হয়ে থাকে। করোনা অতিমারীর কারণে ২০২০ সালের মার্চ থেকে এ পর্যন্ত অনেকগুলো উৎসব তেমনভাবে পালনের সুযোগ না পাওয়ায় এসএমই উদ্যোক্তারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেসব ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার জন্য আসন্ন ৯ম জাতীয় এসএমই মেলা একটি উল্লেখযোগ্য উপাখ্যান হতে পারে।

জাতীয় বা আঞ্চলিক মেলা উদ্যোক্তাদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। মেলা আয়োজনের প্রধান প্রধান উদ্দেশ্য হচ্ছে এসএমই উদ্যোক্তাদের উৎপাদিত পণ্য প্রদর্শন, বিক্রয়, নতুন ক্রেতা সৃষ্টি, ক্রেতা-বিক্রেতাদের মধ্যে সেতুবন্ধ রচনা করা। তা ছাড়া আমাদের দেশের এসএমই উদ্যোক্তারা কী কী ধরনের পণ্য উৎপাদন করতে সক্ষম অর্থাৎ সেটি প্রদর্শন করা, বড় বড় শিল্পকারখানার জন্য ব্যাকওয়ার্ড এবং ফরোয়ার্ড লিংকেজ শিল্প স্থাপনের সম্ভাবনা নিরূপণ করাও মেলার অন্যতম উদ্দেশ্য।

মেলায় অংশগ্রহণের মাধ্যমে উদ্যোক্তা, ক্রেতা এবং দর্শনার্থীরা সবাই বেনিফিটেড বা সুবিধাভোগী হবেন। মেলায় অংশগ্রহণকারী উদ্যোক্তাদের সুবিধা বলতে সত্যিকার অর্থে সারাদেশের ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তারা এ মেলার জন্য সারা বছর অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করেন। প্রথমত, উদ্যোক্তারা তাদের পণ্য মেলায় ক্রেতাসাধারণের কাছে বিক্রয়ের মাধ্যমে সরাসরি লাভবান হন। কোনো কোনো উদ্যোক্তার ক্ষেত্রে মেলায় বিক্রয়ের পরিমাণ তাদের সারা বছরের বিক্রয়ের প্রায় অর্ধেক বা তারও বেশি হতে পারে। মেলায় উদ্যোক্তারা তাদের সম্ভাব্য ক্রেতাদের সঙ্গে পরিচিত হতে পারেন। ক্রেতা-বিক্রেতাদের মধ্যে সংযোগ স্থাপন, ক্রেতাদের কাক্সিক্ষত পণ্য, গুণাগুণ ও পছন্দ বিষয়ে অবহিত হতে পারেন এবং অনেক ক্ষেত্রে ক্রেতাদের কাছ থেকে পণ্য বিক্রয় বা সরবরাহের জন্য সরাসরি ওয়ার্ক-অর্ডার বা কার্যাদেশপ্রাপ্ত হন, যা পরে উদ্যোক্তারা সরবরাহ করে থাকেন। এতে করে উদ্যোক্তাদের সঙ্গে ক্রেতাদের একটি নিবিড় সম্পর্ক তৈরি হয়, যাতে তাদের ব্যবসার পরিধি বৃদ্ধি পেতে পারে।

মেলায় উদ্যোক্তারা তাদের নিজস্ব পণ্যের সঙ্গে সমজাতীয় অন্যান্য উদ্যোক্তার পণ্যের তুলনা করতে পারেন। পাশাপাশি নতুন নতুন পণ্য, পণ্যের বহুমুখী ডিজাইন এবং বিকল্প অন্য ব্যবসা সম্পর্কে ধারণা অর্জন করতে পারেন। মেলায় সারাদেশ থেকে উদ্যোক্তারা অংশগ্রহণ করেন বিধায় তাদের মধ্যে নেটওয়ার্ক সৃষ্টি হয়। এতে করে উদ্যোক্তারা স্বল্প খরচে কাঁচামাল সংগ্রহ, পণ্য বিক্রয় ও বাজারজাতকরণ ইত্যাদি বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করতে পারেন।

মেলায় ব্যাংকসহ উদ্যোক্তাদের সেবা প্রদানকারী অন্যান্য সংস্থার স্টল থাকে বিধায় উদ্যোক্তারা ওইসব সংস্থার সেবাসমূহের বিষয়ে অবহিত হতে পারেন এবং সেবাপ্রাপ্তির লক্ষ্যে সংস্থার কর্মকর্তা বা প্রতিনিধিদের সঙ্গে যোগাযোগ ও আলোচনা করতে পারেন। মেলায় অংশগ্রহণের মাধ্যমে উদ্যোক্তাদের অভিজ্ঞতা ও আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি পায়। এতে করে তারা চ্যালেঞ্জ ও প্রতিবন্ধকতার মধ্যেও ব্যবসা পরিচালনার মনোবল ও সাহস সঞ্চয় করেন- যা তাদের ব্যবসায় সফলতা আনতে অনুকূল ভূমিকা রাখে।

চাহিদা অনেক বেশি থাকা সত্ত্বেও ৯ম জাতীয় এসএমই মেলায় সারাদেশ থেকে মোট ৩০০ জন উদ্যোক্তা অংশগ্রহণ করার সুযোগ পাবে। যাদের মধ্যে নারী উদ্যোক্তা প্রায় ৬০ শতাংশ। এর আগেকার মেলাতেও নারী উদ্যোক্তার অংশগ্রহণ বেশি ছিল। সেসব মেলায় ফ্যাশন ডিজাইন ও ব্লক-বাটিক-বুটিকস সামগ্রীর প্রাধান্য থাকলেও এবার মেলায় অগ্রাধিকারভুক্ত সব এসএমই খাতের উদ্যোক্তারা অংশগ্রহণ করছে। মেলা বাস্তবায়ন কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এবার মোট ১১টি সেক্টরের যেমন লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং, ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক্স/ঘড়ি, প্লাস্টিক পণ্য/খেলনা, আইটি/সেবা, পাটজাত ও চামড়াজাত, খাদ্য/কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ, কসমেটিক্স/হারবাল, হ্যান্ডিক্রাফট, ফ্যাশন ডিজাইন/ ইমিটেশন জুয়েলারি, স্যানিটারি ফিটিংস, প্রিন্টিং ও প্যাকেজিংসহ অন্যান্য খাতের পণ্য উৎপাদনকারী উদ্যোক্তারা অংশগ্রহণ করবেন। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে অবস্থিত এসএমই ক্লাস্টার এবং ঐতিহ্যবাহী পণ্য যেমন- মণিপুরী, খাদি, কাঁসা-পিতল, শতরঞ্জি ইত্যাদি খাতও এবারের মেলায় অংশগ্রহণ করবে। এ ছাড়া আইটি, কুরিয়ার সার্ভিস ইত্যাদি সেবা খাতের উদ্যোক্তাও মেলায় অংশগ্রহণ করবেন। এত বৈচিত্র্য আগের মেলাগুলোতে তেমন একটা ছিল না।

করোনা-১৯ এর প্রভাব বিবেচনায় নিয়ে এবারের মেলার স্টল ফি আগের মতো পনেরো হাজার টাকা রাখা হয়েছে। ব্যতিক্রম হচ্ছে, যেসব ছোট ছোট ক্লাস্টার বা ঐতিহ্যবাহী পণ্য উৎপাদক স্টল ফি দিয়ে মেলায় অংশগ্রহণ করতে পারবে না তাদের বিশেষ ব্যবস্থায় মেলায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। মেলায় এসএমই ঋণ বিতরণকারী প্রায় ১০টি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান অংশগ্রহণ করবে- যাদের কাছ থেকে উদ্যোক্তারা এসএমই ঋণ বিষয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ এবং স্পষ্টীকরণসহ ব্যাংকারদের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা ও পরামর্শ করার সুযোগ পাবেন।

মেলায় এসএমই ফাউন্ডেশনের একটি নিজস্ব স্টল/বুথ থাকবে। এখান থেকে নতুন উদ্যোক্তা হওয়ার জন্য করণীয় বিষয়ে পরামর্শ প্রদান করা হবে, ছোট পরিসরে একাধিক উন্মুক্ত প্রশিক্ষণ ও গ্রুপ ডিসকাশনের ব্যবস্থা থাকবে। মেলায় এসএমই ফাউন্ডেশনের কার্যক্রমসহ উদ্যোক্তাদের জন্য ফাউন্ডেশনের বিভিন্ন সেবার বিষয়ে ধারণা প্রদান করা হবে এবং আগামীতে অনুষ্ঠিতব্য প্রশিক্ষণ ও অন্যান্য কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারী আগ্রহী উদ্যোক্তাদের নিবন্ধন করা হবে।

সম্প্রতি এসএমই ফাউন্ডেশনের তত্ত্বাবধানে ঢাকায় একটি বিজনেস ইনকিউবিশন সেন্টার চালু করা হয়েছে। মেলায় ওই ইনকিউবিশন সেন্টার সম্পর্কে ধারণা প্রদানের পাশাপাশি ইনকিউবিশন সেন্টার ব্যবহারের জন্য আগ্রহী স্টার্টআপ বা নতুন উদ্যোক্তাদের প্রাথমিক নিবন্ধন করা হবে। মেলায় সন্ধানীর সহযোগিতায় একটি রক্তদান কেন্দ্র থাকবে। যে কোনো ব্যক্তি এখানে রক্তদান করতে পারবেন। মেলায় উদ্যোক্তাবহির্ভূত নিম্নোক্ত সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান অংশগ্রহণ করবে- বিসিক, বিটাক, বিএসটিআই, বিসিএসআইআর, জেডিপিসি, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ ইত্যাদি ছাড়াও ব্র্যাক ব্যাংক, ইস্টার্ন ব্যাংক, ব্যাংক এশিয়া, জনতা ব্যাংক, ঢাকা ব্যাংক, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক তাদের স্টল নিয়ে হাজির থাকবে। মেলায় ভিজিটর এবং বিক্রয় বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিভিন্ন স্টলে ইনফ্লুয়েন্সারের মাধ্যমে পণ্যের প্রচারের ব্যবস্থার সুযোগ রাখা হবে। তবে ইনফ্লুয়েন্সার নিয়োগের খরচ সংশ্লিষ্ট স্টলকে বহন করতে হবে। এবারের মেলায় অধিক ক্রেতা দর্শনার্থী আকর্ষণ করার লক্ষ্যে মেলা প্রাঙ্গণে শিশুদের খেলার জায়গাসহ বিভিন্ন বিনোদনের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। তা ছাড়া মেলার প্রতিদিনকার খবরাখবর প্রচারের জন্য মিডিয়া সেন্টার স্থাপনসহ অন্যান্য কিছু জরুরি সার্ভিস রাখা হয়েছে।

প্রতিবারের মতো এবারের ‘৯ম জাতীয় এসএমই পণ্য মেলা-২০২১’র উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ‘জাতীয় এসএমই উদ্যোক্তা পুরস্কার-২০২১’ প্রদান করা হবে। এবার পুরস্কারের জন্য আবেদন আহবান করা হলে নির্ধারিত সময়ে মোট ১০০টি আবেদনপত্র জমা পড়ে। প্রাথমিক যাচাই-বাছাই কমিটি কর্তৃক বাছাইকৃত ২৫টি প্রতিষ্ঠান পরিদর্শনের জন্য এসএমই ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে গঠিত ১১টি টিম মোট ১৩টি জেলায় পরিদর্শন করে এবং প্রতিবেদন জমা দেয়। পরিদর্শনের পর প্রাপ্ত তথ্য পর্যালোচনা এবং মূল্যায়ন করে প্রাথমিক যাচাই-বাছাই কমিটি কর্তৃক ১১ জন উদ্যোক্তা ও তাদের প্রতিষ্ঠানের তথ্য জুরি বোর্ডের সভায় উপস্থাপন করে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিনের নেতৃত্বে গঠিত জুরি বোর্ড চুলচেরা বিশ্লেষণ করে মাত্র চারজন উদ্যোক্তাকে ‘জাতীয় এসএমই উদ্যোক্তা পুরস্কার-২০২১’ প্রদানের জন্য মনোনীত করে। পুরস্কারের জন্য চূড়ান্তভাবে মনোনীত উদ্যোক্তা সম্পর্কে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে সিআইবি রিপোর্ট সংগ্রহ করা হয়েছে। সিআইবি রিপোর্টে কোনো ধরনের নেগেটিভ মতামত না আসায় নির্বাচিত চারজন উদ্যোক্তাকে আগামী ৫ ডিসেম্বর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে পুরস্কৃত করা হবে।

মেলা আয়োজনের বিষয়টি নিয়ে মেলা শুরুর আগে বিটিআরসির মাধ্যমে সব মোবাইল ফোনে মেসেজ প্রদান করা হবে। তাছাড় মেলা শুরুর দু-একদিন আগে সংবাদ সম্মেলন, রেডিও টেলিভিশনে খবর, বেশ কয়েকটি টেলিভিশনের স্ক্রল বারে মেসেজ প্রদান করা হবে। এসএমই ফাউন্ডেশনের প্রত্যাশা এবারের ৯ম জাতীয় এসএমই পণ্য মেলায় বহু দর্শনার্থীর আগমন ঘটবে, বিক্রয় ও অর্ডারের পরিমাণও আগের তুলনায় বহুলাংশে বৃদ্ধি পাবে। এসএমই ফাউন্ডেশনের পরিকল্পনা হচ্ছে ক্রমান্বয়ে জাতীয় এসএমই পণ্যমেলাকে ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক এসএমই মেলায় রূপান্তরিত করা। এসএমই ফাউন্ডেশন এবং উদ্যোক্তাদের প্রত্যাশা ৯ম জাতীয় এসএমই পণ্য মেলা ২০২১ প্রত্যাশার চেয়েও অনেক বেশি সফল হবে। এ মেলাকে সফল করার জন্য এসএমই ফাউন্ডেশন সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা কামনা করছে।

 

ড. মো. মফিজুর রহমান : ব্যবস্থাপনা পরিচালক, এসএমই ফাউন্ডেশন

advertisement
advertisement