advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

বাণিজ্যমেলা এবার স্থায়ী ঠিকানায়

আবু আলী
২৭ ডিসেম্বর ২০২১ ১২:০০ এএম | আপডেট: ২৭ ডিসেম্বর ২০২১ ০২:০৭ পিএম
পুরোনো ছবি
advertisement

শেরেবাংলা নগরের পরিবর্তে প্রথমবারের মতো রাজধানীর পূর্বাচলে বসতে যাচ্ছে ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলা (ডিআইটিএফ)। শেরেবাংলা নগর থেকে পূর্বাচলের দূরত্ব প্রায় ২৫ কিলোমিটার। পূর্বাচলে নবনির্মিত ‘বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিশন সেন্টারে’ বসবে এবারের মেলা। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভার্চুয়ালি আগামী ১ জানুয়ারি মেলা উদ্বোধন করবেন।

মেলায় নগরবাসীকে আনা-নেওয়ার জন্য থাকবে বিআরটিসির ৩০টি বাস। খাবারের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রথমবারের মতো ক্যাটারিং সার্ভিস চালু করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন। মেলায় পছন্দের পণ্য অগ্রিম ক্রয়াদেশ (অর্ডার) দিলে তা কোম্পানির নিজস্ব উদ্যোগে ক্রেতার ঠিকানায় পৌঁছে দেওয়া হবে।

বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি গতকাল আমাদের সময়কে বলেন, ‘প্রথমবারের মতো বাণিজ্যমেলা স্থায়ী ভেন্যুতে হতে যাচ্ছে- এটিই সবচেয়ে বড় বিষয়। দীর্ঘ এক যুগের বেশি সময় ধরে চেষ্টা চলছিল একটি স্থায়ী কমপ্লেক্স নির্মাণের। সেই লক্ষ্য পূরণ হয়েছে।’ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০০৯ সালে দায়িত্ব গ্রহণের পরই ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলা স্থায়ী কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন। পরে এ প্রকল্পে সহযোগিতার হাত বাড়ায় চীন। বাংলাদেশ ও চীনের যৌথ উদ্যোগে অবশেষে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের পূর্বাচল নতুন শহরে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে ‘বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিশন সেন্টার’। পূর্বাচল ৪ নম্বর সেক্টরে ২০ একর জমির ওপর ২০১৭ সালের ১৭ অক্টোবর মেলার অবকাঠামো নির্মাণ শুরু করে ‘চায়না স্টেট কনস্ট্রাকশন ইঞ্জিনিয়ারিং করপোরেশন’। গত বছরের ৩০ নভেম্বর নির্মাণকাজ সম্পন্ন করার ঘোষণা দেয় তারা। ‘চায়না-বাংলাদেশ ফ্রেডশিপ এক্সিবিশন সেন্টার’ নির্মাণে ব্যয় হয়েছে প্রায় ১ হাজার ৩০০ কোটি টাকা। এর মধ্যে চীনের অনুদান প্রায় ৬২৫ কোটি টাকা। ৩৩ হাজার বর্গমিটারের ‘ফ্লোর স্পেসের’ মধ্যে ভবন নির্মাণ করা হয়েছে ২৪ হাজার ৩৭০ বর্গমিটার জায়গা নিয়ে। এক্সিবিশন হলের আয়তন ১৫ হাজার ৪১৮ বর্গমিটার। এতে ৮০০টি স্টল রয়েছে।

দোতলা পার্কিং ভবনের আয়তন ৭ হাজার ৯১২ বর্গমিটার। গাড়ি পার্কিং করা যাবে ৫০০টি। এ ছাড়া এক্সিবিশন ভবনের সামনে খোলা জায়গায় আরও এক হাজার গাড়ি পার্ক করা যাবে। রয়েছে ৪৭৩ আসনের মাল্টি ফাংশনাল হল, ৫০ আসনের কনফারেন্স রুম, ৬টি নেগোশিয়েশন মিটিং রুম, ৫০০ আসনের রেস্তোরাঁ, শিশুদের খেলার জায়গা, নামাজের কক্ষ, ২টি অফিস কক্ষ, মেডিক্যাল বুথ, অতিথি কক্ষ, ১৩৯টি শৌচাগার, বিল্ট ইন পাবলিক অ্যাড্রেস সিস্টেম, নিজস্ব ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট, স্টোর রুম, সিএটিভি কন্ট্রোল রুম, অটোমেটেড সেন্ট্রাল এসি সিস্টেম, ইন বিল্ট ইন্টারনেট-ওয়াইফাই, আধুনিক অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা, আলাদা রেজিস্ট্রেশন হল, আধুনিক ফোয়ারা, ইন বিল্ট পতাকা স্ট্যান্ড এবং রিমোট কন্ট্রোল ইলেকট্রনিক ফটক।

‘মেড ইন বাংলাদেশ’ ব্র্যান্ড পৃথিবীর সব দেশে ছড়িয়ে দিতে একযুগ চেষ্টার পর অবশেষে বিশ্বমানের একটি স্থায়ী ‘পণ্য প্রদর্শনী কেন্দ্র’ তৈরি সম্পন্ন হয়েছে। বাণিজ্যমেলা শেষ হওয়ার পর এ ভেন্যুতে সারা বছর বিভিন্ন খাতভিত্তিক মেলা আয়োজনের সুযোগ থাকছে। এ কারণে নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ গুনতে হবে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে। এর বাইরে বিদেশি যে কোনো প্রতিষ্ঠান ও সংস্থা মেলা বসাতে পারবে। এ কারণে সারা বছর মেলা হবে স্থায়ী প্রদর্শনী কেন্দ্রে। এবার ছোট-বড় ২৩০টি স্টল ও প্যাভিলিয়ন থাকবে মেলায়। বাণিজ্যমেলায় ৬টি দেশ থেকে কয়েকটি প্রতিষ্ঠান অংশগ্রহণ করবে।

বিআরটিসির পাশাপাশি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানও মেলায় পরিবহন সেবা দিতে পারবে। নগরবাসী সহজেই যাতে মেলা প্রাঙ্গণে যেতে পারেন, সেই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে স্টল ও প্যাভিলিয়ন কমিয়ে আনা হয়েছে। এ ছাড়া আগের মতো বিশাল আকারের প্যাভিলিয়ন করার সুযোগ না থাকায় শুধু পণ্য প্রদর্শনী করা যাবে। এ কারণে ক্রেতারা পছন্দের পণ্যের অর্ডার দিয়ে পরবর্তী সময় তা সংগ্রহ করতে পারবেন।

বর্তমানে ১৯০টি দেশে বাংলাদেশের পণ্য রপ্তানি হয়। তৈরি পোশাক, চামড়া, ওষুধ, মৎস্য, জাহাজ, ইলেকট্রনিকস এবং আইটি খাতের সফটওয়্যারসহ কয়েক হাজার পণ্য রপ্তানি হয় বিভিন্ন দেশে। কিন্তু বাংলাদেশের পণ্য আমদানিকারক কিংবা ক্রেতাদের দেখানোর জন্য কোনো স্থায়ী প্রদর্শনীকেন্দ্র এতদিন ছিল না। এ অবস্থায় সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া ও দুবাইসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বিদেশি ক্রেতাদের সঙ্গে উদ্যোক্তারা নিয়মিত বৈঠক করে ক্রয়াদেশ আনতেন। স্থায়ী প্রদর্শনীকেন্দ্র হওয়ায় বিদেশিরা এখন বাংলাদেশমুখী হবেন।