advertisement
advertisement
advertisement
DBBL
advertisement
advertisement

গণতন্ত্রের জয়যাত্রা অব্যাহত রাখতে একটি প্রস্তাব

আসলাম সরকার
৫ জানুয়ারি ২০২২ ১০:১১ পিএম | আপডেট: ৫ জানুয়ারি ২০২২ ১০:১১ পিএম
advertisement

একশ্রেণির মানুষের কাছে ময়না পাখির বিশেষ কদর রয়েছে। অন্যসব পাখির চেয়ে ময়নার কদর কেন বেশি, তা একটি উদাহরণ দিয়ে বোঝানো যাক : সুসজ্জিত একটি খাঁচা তৈরি করে এর ভেতরে ময়নাসহ বিভিন্ন প্রজাতির পাখি তাদের পছন্দের খাবার-দাবার দিয়ে পুষতে থাকলে সেগুলো কয়েকদিনের মধ্যেই পোষণকারীর ভক্ত হয়ে উঠবে। কদিন পর থেকে পোষণকারীকে দেখামাত্রই পাখিগুলো কিচিরমিচির করতে শুরু করবে। পাখিগুলোর এমন আচরণে মনে হবে, এরা রীতিমতো ‘প্রভুভক্ত’ হয়ে উঠেছে।

তবে পাখিগুলোর এই ‘প্রভুভক্তি’ কতোটা সত্যি, তা একটু পরীক্ষা করলেই বোঝা যাবে। কোনও একসময় পাখির খাঁচার দরজাটা খুলে দিলে চোখের সামনে দিয়েই পাখিগুলো উড়ে পালাবে; ওই ময়না পাখিটা ছাড়া আর কোনো পাখি সেই সুসজ্জিত খাঁচায় তাদের পছন্দের সেসব খাবার খেতে ফিরে আসবে না।

এ থেকে কী বোঝা যায়?

স্বাধীনতার অনুভুতিহীন ময়না পাখিটিই শুধু মানুষের বানানো খাঁচায় বসবাস করে আর তাদের দেওয়া খাবার খেয়ে শেখানো বুলিতে কথা বলতে পছন্দ করে। তাহলে বুঝতে হবে, ময়না ছাড়া অন্য সব পাখির স্বাধীনতাবোধ এত বেশি যে মুক্ত আকাশে মুক্তভাবে চলাফেরা করে অর্ধাহারে-অনাহারে দিনাতিপাত করেও যে আনন্দটুকু এরা পায়, সুসজ্জিত খাঁচায় বন্দি থেকে সুস্বাদু খাবার খেয়েও সেই আনন্দটুকু এরা পায় না। এখন প্রশ্ন হলো, প্রাণিজগতের মধ্যে শ্রেষ্ঠ স্থানে থাকা মানুষের স্বাধীনতাবোধের তাড়না কি পাখিদের চেয়ে কম? নিশ্চয়ই না!

প্রথমে সমাজপতি এরপর রাষ্ট্র সৃষ্টির উষালগ্ন থেকেই সর্বোচ্চ ক্ষমতাধর ব্যক্তির দ্বারা মানুষ শাসিত হয়ে আসছিল। তখন মানুষের স্বাধীনতাবোধের তাড়না এত তীব্র ছিল না। কালক্রমে শিক্ষা বিস্তারের ফলে যখনই মানুষের জ্ঞানের বিকাশ ঘটতে শুরু করে তখন থেকেই মানুষের স্বাধীনতাবোধের তাড়না জেগে উঠতে শুরু করে যার একটি লক্ষণ হলো রাষ্ট্রের নাগরিক হিসেবে মানুষ তার নিজের শাসক নিজে নির্ধারণ করতে চায়। এর ফলস্বরূপ আধুনিক রাষ্ট্রের জনপ্রিয় শাসন ব্যবস্থা তৈরি হয়েছে যার নাম ‘গণতন্ত্র’।

তবে এর যাত্রাপথ অনেক কঠিন। ঐক্যবদ্ধ সাধারণ জনগোষ্ঠীর ভেতর থেকে নেতৃত্ব তৈরি হয়ে ক্ষমতাধর একনায়ক শাসকের বিরুদ্ধে কঠিন সংগ্রামে বিজয় অর্জন করেই গণতন্ত্র কালক্রমে অগ্রসর হচ্ছে। আর এই গণতন্ত্র পৃথিবীতে যতদিন টিকে থাকবে, একনায়কের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করেই টিকে থাকতে হবে। কোনো জাতিগোষ্ঠি একনায়কের বাঁধন ছিন্ন করে গণতন্ত্রে ফিরে এলেও তা যে দীর্ঘস্থায়ী হবে, এর কোনো নিশ্চয়তা নেই। একে দীর্ঘস্থায়ী করতে হলে  প্রয়োজন পাহারাদার। আর এই পাহারাদার হলো  বিরোধী রাজনৈতিক পক্ষ, যাকে আমরা গণতন্ত্রের প্রধান শর্ত বলতে পারি। আবার, সেই বিরোধী দল যত বেশি শক্তিশালী হবে, রাষ্ট্রে মানুষের মৌলিক অধিকারগুলোও তত বেশি সুরক্ষিত হবে। দুর্বল বিরোধী দল কখনও গণতন্ত্রকে সুরক্ষা দিতে পারে না। এ ক্ষেত্রে গণতন্ত্রের পতাকাধারী শাসকরাও গণতন্ত্রের লেবাস পরে সেই ময়না পাখির মতো স্বভাবের লোকেদের সহায়তায় গণতন্ত্রের আবরণের ভেতর আরও কঠিন একনায়কতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করে।

সুদীর্ঘ ঔপনিবেশিক কিংবা একনায়ক শাসনের যাত্রাপথে ব্রিটিশ শাসনের শেষ দিকে যখন এ দেশের মানুষের মাঝে শিক্ষার প্রসার ঘটতে শুরু করে, তখন থেকেই মানুষের স্বাধীনতাবোধের চিরাচরিত তাড়না ক্রমেই আরও প্রবল হতে শুরু করে। এরই ধারাবাহিকতায় তৎকালীন নেতৃত্ব যখন এ দেশের মানুষকে স্বাধীনতার স্বপ্ন দেখালেন, তখনই সমস্ত মুক্তিকামী সাধারণ মানুষ ব্যাপকভাবে সাড়া দিয়ে রাজপথ রক্তে রঞ্জিত করে এবং এভাবে পাকিস্তান নামক রাষ্ট্রের সৃষ্টি হয়। এরপর স্বপ্ন পূরণের পালা। কিন্তু বাস্তবে দেখা গেল, যে নেতৃত্ব এ দেশের মানুষকে স্বপ্ন দেখালেন গণতন্ত্রের, তারাই আবার প্রতিষ্ঠা করে ফেললেন নতুন একনায়কতন্ত্রের। অর্থাৎ সাধারণ মানুষ প্রতিশ্রুত গণতন্ত্র না পেয়ে পেল শাসক শ্রেণির পরিবর্তন; শুরু হলো ব্রিটিশ শাসনের পরিবর্তে পাকিস্তানি শাসন। জনগণ তৎকালীন নেতৃত্বের এমন প্রতারণা মেনে নিতে পারেনি। অবশেষে এই হতাশ জনগণকে আবারও গণতন্ত্রের স্বপ্ন দেখালেন বঙ্গবন্ধু। হতাশ জনগণ আবারও আশাবাদী হয়ে উঠল। একনায়কের ময়নার স্বভাবের তাঁবেদার ছাড়া সমস্ত মানুষ বঙ্গবন্ধুর মিছিলে যোগ দিয়ে একনায়কের বিরুদ্ধে তুমুল প্রতিবাদ গড়ে তোলে।  অবশেষে এক রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রের সৃষ্টি হয়; শুরু হয় প্রজাতন্ত্রের শাসন- যার নেতৃত্বে বঙ্গবন্ধু, যার পাহারাদার বঙ্গবন্ধু। জনগণ ভাবতে শুরু করেছিল, যার নেতৃত্বে এই প্রজাতন্ত্রের সৃষ্টি, গণতন্ত্রের প্রতি যার বজ্রকঠিন অঙ্গীকার, তার জীবদ্দশায় অন্তত এই জনগোষ্ঠীকে গণতন্ত্রের জন্য আর ভাবতে হবে না। তবে মানুষের সেই ভাবনাও বেশি দূর এগোয়নি।

বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে নৃশংসভাবে হত্যার মধ্য দিয়ে আবারও শুরু হয় সামরিক একনায়কতন্ত্র। এরপর সুদীর্ঘ ১৫ বছর কখনও সরাসরি সামরিক একনায়ক, আবার কখনও গণতন্ত্রের মোড়কে একনায়কতন্ত্র চলতে থাকে। পরে রাজনৈতিক দলগুলোর নেতৃত্ব জনগণ আবারও গণতন্ত্রের স্বপ্ন দেখতে শুরু করে; গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে সেই স্বৈরাচার একনায়কের পতন ঘটে। একনায়কের বিরুদ্ধে সংগ্রামের মাঠ থেকে উঠে আসা রাজনৈতিক নেতৃত্ব দ্বারা আবারও জনগণকে স্বপ্ন দেখালেন, অঙ্গীকার করলেন গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করার, প্রতিশ্রুতি দিলেন তাদের করা অঙ্গীকার থেকে সরে না আসার; সে রাজনৈতিক দলগুলোর এক পক্ষ বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণের সমর্থনে সরকার গঠন করে যার মধ্য দিয়ে শুরু হয় গণতন্ত্রের নতুন যাত্রা যার পাহারাদার হিসেবে আমরা পাই শক্তিশালী প্রতিপক্ষ আওয়ামী লীগ নামক শক্তিশালী দলকে। এই বিরোধী দলটি গণতন্ত্রের পাহারাদারের সত্যিকারের প্রমাণ রেখেছে মাগুরা উপনির্বাচনে কারচুপির প্রতিবাদের মধ্য দিয়ে। সেই নির্বাচনে জনগণের মালিকানার জায়গাটিতে সামান্য আঁচর লাগা মাত্রই পাহারাদার হিসেবে তার দায়িত্ব পালনে দ্রুত এগিয়ে আসে; শুরু হয় বিএনপি সরকারের বিরুদ্ধে তুমুল প্রতিবাদ। দাবি ওঠে নির্বাচনকালীন দল-নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতির। ক্ষমতাসীনদের অতি-ক্ষমতালোভী মনোভাব এবং পারস্পরিক অবিশ্বাস আর আস্থাহীনতার কারণে সংবিধান পরিপন্থি হওয়া সত্বেও নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতির ধারণা এ দেশের সব মানুষের কাছে ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করে এবং তৎকালীন বিএনপি সরকার গণদাবির মুখে এই পদ্ধতি সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করতে বাধ্য হয়।

যদিও পদ্ধতিটি পুরোপুরি ত্রুটিমুক্ত ছিল না, তবুও পরবর্তী কোনো সরকারই এসব ক্রুটি সংশোধনের চিন্তা না করে তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি সম্পর্কে বিচারপতি খায়রুল হক-এর রায়ের অজুহাতে তা বাতিল করে দেয়। বহু সংগ্রাম আর ত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতিটি কোনো পক্ষের দাবি কিংবা জনমত যাচাই ছাড়াই একতরফাভাবে বাতিল করে দেওয়ায় জনগণের ক্ষমতায়নের জায়গাটি সংকুচিত হয়েছে।

এভাবে আসলে বর্তমান পরিস্থিতিতে একদিকে যেমন বিরোধী দল গণতন্ত্র পাহারায় ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে, অন্যদিকে জনগণের সঙ্গে ক্ষমতাসীন দলের দূরত্ব বাড়ছে। এতে দলটিকে ক্ষমতায় টিকে থাকার ভিত্তি হিসেবে জনসমর্থনের পরিবর্তে বরং নিজেদের সাংগঠনিক শক্তি এবং বিভিন্ন কলাকৌশলের ওপর নির্ভরশীল হতে হচ্ছে।

এমন পরিস্থিতিতে সরকারি দল নিজেদের সমালোচনার সত্যতা যাচাই বা ভুল সংশোধন না করে বিরোধী দলের অতীতের উদাহরণ টেনে তা এড়িয়ে যাচ্ছে, আর দুর্বল বিরোধী দল গণতন্ত্র উদ্ধারের অজুহাতে জনসমর্থন আদায় করে সরকারবিরোধী আন্দোলনে নামতে চাইছে। অর্থাৎ রাজপথে কুস্তি করে জিততে পারলেই যেন দাবি আদায় হবে। এখন প্রশ্ন হলো, গণতন্ত্রের যাত্রা চলমান রাখতে জনগণকে আর কতকাল ধরে মাঠে নামতে হবে? জনগণ আন্দোলন করেছে ব্রিটিশ তাড়াতে, আন্দোলন করেছে পাকিস্তানিদের তাড়াতে, আন্দোলন করেছে স্বৈরাচার তাড়াতে, আন্দোলন করেছে ক্ষমতা পালাবদলের সুরক্ষা দিতে। আর প্রতিটি আন্দোলনে ত্যাগ স্বীকার করেছে সাধারণ মানুষ; শহীদ হয়েছে লাখো নূর হোসেন। এতগুলো আন্দোলন-সংগ্রাম পেরোনোর পরও এ দেশের মানুষের ভাগ্যে নিরবচ্ছিন্ন গণতান্ত্রিক ধারার জয়যাত্রার দেখা মিলছে না।

সরকারি দলকে বুঝতে হবে, জনসমর্থন থেকে দূরে সরে গেলে চলবে না। ময়না পাখির মতো স্বভাবের চাটুকারদের ফাঁদে ধরা না দিয়ে সরকারি পক্ষকে বিরোধী দলগুলোর সঙ্গে আলোচনার দ্বারও তাদের উন্মুক্ত রাখতে হবে। আর বিরোধী দলগুলোকেও কেবল সরকারবিরোধী তৎপরতায় লিপ্ত থেকে জনগণকে প্রতারণার মাধ্যমে দলে ভেড়ানোর অপচেষ্টা থেকে বেরিয়ে এসে জনসম্পৃক্তা গড়ে তুলতে হবে। সাধারণ মানুষের ব্যক্তিস্বাধীনতার জায়গাটি সংকুচিত হয়ে গেলে তা সরকার কিংবা বিরোধী দল - কারও জন্যই শেষ পর্যন্ত মঙ্গলজনক হবে না।

মানুষ এমন জনবিচ্ছিন্নতা চায় না; এ দেশের সাধারণ মানুষ সবসময়ই সোহরাওয়ার্দী-ভাসানী-বঙ্গবন্ধুর দেখানো গণতন্ত্র চেয়েছে। এ গণতন্ত্রের জন্যই তারা এ দেশ স্বাধীন করেছেন। গণতন্ত্র জনগণের অধিকার আর অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন একরকম উৎসব। স্বাধীনতার সুদীর্ঘ ৫০ বছরেও সর্বসম্মতভাবে গ্রহণযোগ্য একটি নির্বাচনের রূপরেখা তৈরি করা যায়নি। নির্বাচনকালীন সরকার সম্পর্কে এ যাবৎ বহু মানুষ বহু ধরনের প্রস্তাব উপস্থাপন করেছেন, কিন্তু কোনো প্রস্তাবই এখন পর্যন্ত স্থায়ীভাবে গ্রহণযোগ্যতা পায়নি। গণতন্ত্রকামী জনগণের একজন হিসেবে এ ব্যাপারে আমিও একটি প্রস্তাব উপস্থাপন করছি ভেবে দেখার জন্য।

আমার প্রস্তাব হলো, সরকারি পক্ষ তাদের সংসদ সদস্যদের মধ্য থেকে ১২ জনের নামের তালিকা নির্ধারণ করে বিরোধী পক্ষের কাছে বিবেচনার জন্য প্রস্তাব পেশ করবে। বিরোধী দল প্রস্তাবিত ওই তালিকা থেকে একজন প্রধান উপদেষ্টা এবং ৫ জন উপদেষ্টা চূড়ান্তভাবে মনোনীত করবে। একইভাবে বিরোধী পক্ষ ১০ জনের নামের তালিকা নির্ধারণ করে সরকারি পক্ষের কাছে বিবেচনার জন্য উপস্থাপন করবে। এ তালিকা থেকে সরকারি দল ৫ জন উপদেষ্টা চূড়ান্তভাবে মনোনীত করবে। এভাবে চূড়ান্ত মনোনীত একজন প্রধান উপদেষ্টা এবং অন্য ১০ জন উপদেষ্টার সমন্বয়ে নির্বাচনকালীন সরকার গঠিত হয়ে নির্বাচনের দায়িত্ব পালন শেষে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করবেন।

এ ব্যবস্থায় একদিকে বিরোধী দলের তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতির দাবি মেনে নেওয়া সম্ভব হবে, অন্যদিকে সরকারি দলের সংবিধানের বাইরে না যাওয়ার ঘোষণাও ঠিক রাখা সম্ভব হবে। এ ছাড়া বিভিন্ন দলের মধ্যে ব্যক্তিকেন্দ্রিক সম্পর্ক উন্নয়নের চর্চা তৈরি হবে। একজন পড়ুয়া শিক্ষার্থী যেমন নকলমুক্ত সুষ্ঠু পরিবেশে পরীক্ষা দিতে ভয় পায় না, তেমনি জনপ্রিয় এবং উন্নয়নের দাবিদার বর্তমান ক্ষমতাসীন দলও নিশ্চয়ই গণদাবি মেনে নিয়ে নির্বাচনের গ্রহণযোগ্য ব্যবস্থা নির্মাণ করে জনগণের মুখোমুখি হতে ভয় পাবে না।

লেখক : আসলাম সরকার : উদ্যোক্তা ও সমাজকর্মী, জয়বাংলা বাজার, সদর, ময়মনসিংহ।

advertisement
advertisement