advertisement
advertisement
advertisement
DBBL
advertisement
advertisement

প্লাস্টিক তৈরির বিকল্প সমাধান

প্রদীপ সাহা
১২ জানুয়ারি ২০২২ ১২:০০ এএম | আপডেট: ১২ জানুয়ারি ২০২২ ০৮:৫৬ এএম
পুরোনো ছবি
advertisement

দৈনন্দিন ও সহজ ব্যবহারের জন্য প্লাস্টিকের ব্যাগ খুবই প্রয়োজনীয়। জামাকাপড়, খাবার-দাবার, ওষুধপত্র- সবকিছুই এখন প্লাস্টিকের ব্যাগে করে বাড়িতে নিয়ে আসা হয়। তার পর এক সময় সেটি ফেলে দেওয়া হয়। আর যেখানে-সেখানে ফেলে দেওয়ার কারণে তা পরিবেশের জন্য হয়ে উঠছে হুমকিস্বরূপ। আলাদা করে অন্যান্য আবর্জনার সঙ্গে পোড়ানো না হলে ওই প্লাস্টিক বা প্লাস্টিকের ব্যাগ রাস্তায় গিয়ে পড়ে এবং শেষ পর্যন্ত একটা বিশাল অংশ চলে যায় সাগরে। সবচেয়ে ভয়ঙ্কর তথ্যটি হলো, প্লাস্টিক ক্ষয় হতে পাঁচশ থেকে এক হাজার বছর পর্যন্ত লাগে। প্রকৃতির কোলে প্রাকৃতিক উপাদানের ক্ষয় ঘটে- এটাই নিয়ম। ব্যাকটিরিয়া সেই ক্ষয় ঘটায় এবং উপাদানগুলো ভেঙে কার্বন, পানি, অক্সিজেনের মতো মৌলিক পদার্থে পরিণত হয়। কিন্তু যতই ছোট হোক না কেন, প্লাস্টিক প্লাস্টিকই থেকে যায়। প্লাস্টিকের বর্জ্য সহজে পচে মাটিতে মিশে যায় না। প্লাস্টিক ব্যাকটেরিয়ার থাবা থেকেও বেঁচে যায় বলে আমাদের কাছে অভিশাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বর্তমানে প্লাস্টিকের ব্যাগ একটা বিরাট জায়গা দখল করে আছে। কেনাকাটাসহ প্রতিটি ক্ষেত্রে সহজেই ব্যবহার হচ্ছে প্লাস্টিকের ব্যাগ। এখন প্রশ্ন হলো, আমাদের এই নিত্যপ্রয়োজনীয় ও ব্যবহার্য প্লাস্টিক ব্যাগের বিকল্প ও সহজ সমাধান কী? বিশেষজ্ঞদের মতে, এর সহজ সমাধান হলো বায়োপ্লাস্টিকের ব্যাগ। এ ব্যাগগুলো মিশ্র সারের উপাদান হিসেবে ব্যবহার করা যাবে। কেননা বায়োপ্লাস্টিকের ব্যাগ শেষ পর্যন্ত উদ্ভিদ পদার্থের মতোই পচে যায়। তা ছাড়া বায়োপ্লাস্টিক ফয়েল সহজে ছেঁড়ে না, তার ওপর ছাপা যায় এবং মেশিনে কাটছাঁট করা যায়। জার্মানের ওমার কোম্পানি লিমিটেডের সিইও এবং প্যাকিং বিশেষজ্ঞ হ্যার্বার্ট পিয়েডের মতে, ‘বায়োপ্লাস্টিক ব্যাগের কারণে শহরে আবর্জনার পরিমাণ বাড়ে না। সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো, এটি সাধারণ প্লাস্টিক ব্যাগের মতো সরানো বা পোড়ানোর কোনো দরকার পড়ে না। কাজেই বায়োপ্লাস্টিক রিসাইক্লিংয়ের জন্য আলাদা কোনো পদ্ধতির প্রয়োজন নেই। বায়োপ্লাস্টিকের ব্যাগ কিছুকাল পর নিজে থেকেই পচে যায়, আলাদা করে অপসারণ করতে হয় না।’ এ ছাড়া বায়োপ্লাস্টিক তৈরিতে অনেক কম ধাতব কিংবা খনিজ পদার্থ ব্যবহার করা হয়। বায়োপ্লাস্টিকের ব্যাগে রান্নাঘরের অর্গানিক জঞ্জাল জমিয়ে সবটাই নির্দিষ্ট অর্গানিক আবর্জনার জায়গায় ফেলা যায়। ব্যাগগুলো দেখে বোঝার উপায় নেই যে- ওটা একটা সাধারণ প্লাস্টিকের ব্যাগ, না বায়োপ্লাস্টিকের ব্যাগ।

জার্মানিতে শুরুর দিকে বায়োপ্লাস্টিক ব্যাগের খুব প্রচলন হওয়ার পর এক সময় সেটি আবার কমে আসে। কেননা সেই ব্যাগের দাম বেশি। ওমার কোম্পানি লিমিটেডের সিইও এবং প্যাকিং বিশেষজ্ঞ হ্যার্বার্ট পিয়েডে তার কারখানায় নীলপরী মার্কা ব্যাগ তৈরির ওপর জোর দেন। এ ধরনের ব্যাগের ৮০ শতাংশই রিসাইক্লিং সম্ভব। তার মতে- যেখানে ভালো রিসাইক্লিং পদ্ধতি আছে, সেখানে নীলপরী মার্কা ব্যাগ তৈরি করাটাই ভালো বিকল্প। যেখানে কোনো রিসাইক্লিং পদ্ধতি নেই, সেখানে বায়োপ্লাস্টিকের ব্যাগ ব্যবহার করার অর্থ আছে বৈকি! কাজেই জার্মানিতে না হলেও যেসব দেশে প্লাস্টিকের আবর্জনা ধীরে ধীরে একটা সমস্যা হয়ে দাঁড়াচ্ছে, সেখানে বায়োপ্লাস্টিকের ব্যাগ একটা সহজ সমাধান হতে পারে। আর সবচেয়ে সুখের খবর হলো, বায়োপ্লাস্টিক সত্যি সত্যিই কয়েক বছরের মধ্যে পানি আর কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্যাসে পরিণত হয়।

অর্গানিক প্লাস্টিক তৈরিতেও গবেষকদের তোড়জোড় বৃদ্ধি পেয়েছে। তেল ছাড়া অন্যান্য উপাদান থেকেও তৈরি হচ্ছে প্লাস্টিক। অবশ্য সংখ্যার হিসাবে এর পরিমাণ মাত্র ১ শতাংশ। তবে বিভিন্ন জৈবিক উপাদান থেকে প্লাস্টিক তৈরির উদ্যোগ ক্রমেই বাড়ছে বলে জানিয়েছেন গবেষকরা।

ফ্রাউনহোফার ইনস্টিটিউট ফর ইন্টারফেসিয়াল ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড বায়োটেকনোলজির গবেষক টোবিয়াস গ্যার্টনার একই ধরনের কাজ হাতে দিয়েছেন। তবে তার কাজ একটু ভিন্ন। তিনি কার্বন নয়, আর্বজনা থেকে প্লাস্টিক তৈরির কাজে হাত দিয়েছেন। কাঠের লিগনিনকে ভেঙে ছোট ছোট টুকরা করে সেটিকে পলিমারে পরিবর্তন করছেন তিনি। গ্যার্টনার যেসব পদার্থ নিয়ে কাজ করেন, তার মধ্যে রয়েছে কমলার খোসাও। তিনি বলেন, ‘প্রকৃতি এ উপাদানগুলোকে আগে থেকেই একটি কাঠামো দিয়েছে। ইউরোপে প্রতিবছর এসব আবর্জনা থেকে কয়েক হাজার টন প্লাস্টিক উৎপাদন হচ্ছে।’

বলা বাহুল্য, বিভিন্ন উৎস থেকে নানা রকম প্লাস্টিক উৎপাদন হয়। টেক্সাইল খাতেও ব্যবহার হচ্ছে এ পদ্ধতি। পোস্টডাম শহরের ফ্রাউনহোফার ইনস্টিটিউট ফর অ্যাপ্লায়েড পলিমার রিসার্চের প্রকৌশলী রাইনার রিম বলেন, ‘পুরনো পাউরুটি থেকে এক রকম ল্যাকটিক অ্যাসিড বের হয়। এটিকে পলিল্যাকটিক অ্যাসিডে রূপান্তর করে পাউরুটি রাখার জন্য এক ধরনের প্লাস্টিক ব্যাগ তৈরি করা যায়।’

প্রদীপ সাহা : কলাম লেখক

advertisement
advertisement