advertisement
advertisement
advertisement
DBBL
advertisement
advertisement

পাঠকের লেখা
সুরক্ষিত হোক নৌপথের যাত্রীদের জীবন

আসাদ বিন সফিক
১৩ জানুয়ারি ২০২২ ১২:০০ এএম | আপডেট: ১৩ জানুয়ারি ২০২২ ১২:৫৭ এএম
advertisement

বাংলাদেশের বুক চিরে বয়ে গেছে প্রায় ৭০০ নদী। এজন্য এ দেশকে নদীমাতৃক দেশ বলা হয়। এক সময় মানুষ নৌপথে জানমালের ও ভ্রমণের সুযোগ-সুবিধার জন্য বেশি যাতায়াত করত। এখন সড়কপথ উন্নত হওয়ার ফলে মানুষ নৌপথে চলাফেরা কিছুটা কমিয়ে দেয়। তার পরও শতকরা ১৪-১৫ শতাংশ লোক এখনো নৌপথে চলাফেরা করে। বিশেষ করে উত্তরবঙ্গের লোকরা নৌপথে বেশি যাতায়াত করে। এর মধ্যে পদ্মা ও মেঘনাপারের মানুষরা বেশি।

সম্প্রতি, ২৩ ডিসেম্বর গভীর রাতে লঞ্চে আগুন লেগে ৪২ জন মারা যায়। তাদের আশপাশে প্রচুর পানি থাকা সত্ত্বেও আগুন থেকে বাঁচতে পারেনি। আহত হয়েছে ৮০ জনের ওপরে। নিখোঁজের কথা তো বলাই হয়নি। কত স্বপ্ন অপূরণ থেকে যায় মৃত্যুর সঙ্গে সঙ্গে। নৌপথে দুর্ঘটনা এটাই প্রথম নয়। বিভিন্ন তথ্যমতে জানতে পারি, বিগত ৫০ বছরে প্রায় আড়াই হাজার নৌদুর্ঘটনা ঘটেছে। এতে মৃতের সংখ্যা প্রায় একুশ হাজারের বেশি। এত মৃত্যুর কাছে আহত ও নিখোঁজের তথ্য অজানাই রয়ে গেছে। সাধারণত ঈদের ছুটিতে মানুষ যখন বাড়িতে যেতে চায়, তখন খুব গাদাগাদি করে বাড়িও যেতে হয়। সেই সময় লঞ্চে অতিরিক্ত যাত্রী তোলে অধিক মুনাফার জন্য। ফলে দুর্ঘটনার কবলে পড়তে হয়।

গবেষকরা এত দুর্ঘটনার কারণ উল্লেখ করেন যে, অতিরিক্ত যাত্রী বহন করা, মাস্টার-চালকদের অবহেলা, প্রবল স্রোত উপেক্ষা করে যাতায়াত করা, ত্রুটিপূর্ণ ইঞ্জিন থেকে আগুন লাগা ও বিরূপ আবহাওয়া উপেক্ষা করা। দেখা যায় যে, বেশিরভাগ ক্ষেত্রে আবহাওয়া বার্তা সমুদ্রঝড়ের সঙ্কেত দিলেও সেই বার্তা উপেক্ষা করেই নৌ স্টাফরা লঞ্চে যাত্রী বহন করে। ফলে ঘূর্ণিঝড়ের কবলে কত মানুষ নৌপথে মৃত্যুবরণ করেছে তার কোনো ইয়ত্তা আছে?

সম্প্রতি ঘটনার জন্য ত্রুটিযুক্ত ইঞ্জিন দায়ী। লঞ্চ কর্তৃপক্ষ জানত যে, ইঞ্জিনের সমস্যার কথা। তার পরও অবহেলা করে যাত্রী বহন করেছে। তা ছাড়া নৌপথে দুর্ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেশি হওয়ার কারণ হচ্ছে পর্যাপ্ত পরিমাণ লাইফ জ্যাকেট নেই। অনেক নৌযানে বা লঞ্চে লাইফ জ্যাকেট নেই বললেই চলে। শুধু স্টাফদের জন্য লাইফ জ্যাকেট সংরক্ষণ করে রাখে। অতিরিক্ত মুনাফা পাওয়ার আশায় কোনো ধরনের নিয়ম-কানুন না মেনেই নৌযান চলাচল করে। তা হলে এত অনিয়মের কারণ কী? মামলা তো করা হয় শুধু নামমাত্র। দুর্ঘটনার জন্য মামলা হলেও এক-তৃতীয়াংশের বিচার হয় না। জামিনে বা রাজনৈতিক কারণে মুক্তি পেয়ে যায়। এ রকম ছাড় পেলে তো কেউ সতর্ক হবে না বরং দিন দিন অবহেলার কারণে দুর্ঘটনা বৃদ্ধি পাবে। তাই আসুন, দুর্ঘটনায় আর অবহেলা নয়। নৌযান দুর্ঘটনার হাত থেকে বাঁচতে হলে, নৌযান মালিকের ওপর যদি দুর্ঘটনার দায়ে সাধারণ মানুষের ক্ষয়ক্ষতি বিবেচনা করে পর্যাপ্ত পরিমাণের অর্থ জরিমানা আরোপ করতে হবে। তা হলেই লঞ্চের মালিক সতর্ক হয়ে যাবে। ফলে স্টাফরাও নিয়ম মেনে যত্নসহকারে সেবা প্রদান করে লঞ্চ পরিচালনা করবে। আর এজন্যই প্রয়োজন অনিয়মের দায়ে কঠোর আইনি ব্যবস্থা। তা হলেই হয়তো নৌপথে অনেকটা স্বস্তি ফিরে আসবে।

আসাদ বিন সফিক : জামালগঞ্জ, সুনামগঞ্জ

advertisement
advertisement