advertisement
advertisement
advertisement
DBBL
advertisement

পলিটেকনিকের শিক্ষকরা বেতন পান না ১৮ মাস

রাজস্ব খাতে চাকরি স্থানান্তরের দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক
১৯ জানুয়ারি ২০২২ ১২:০০ এএম | আপডেট: ১৯ জানুয়ারি ২০২২ ০৮:৩৮ এএম
advertisement

রাজস্ব খাতে চাকরি স্থানান্তর ও বকেয়া বেতন পরিশোধের দাবিতে গতকাল মঙ্গলবার সারাদেশে মানববন্ধন করেছেন ৪৯টি সরকারি পলিটেকনিকের প্রকল্পভুক্ত শিক্ষকরা। শিক্ষকদের সংগঠন বাংলাদেশ পলিটেকনিক টিচার্স ফেডারেশন (বিপিটিএফ) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায়। কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরাধীন স্কিলস অ্যান্ড ট্রেনিং এনহ্যান্সমেন্ট প্রজেক্টের (স্টেপ) আওতায় তারা এখন চাকরি করছেন। প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ায় এই শিক্ষকরা ১৮ মাস ধরে বেতন পাচ্ছেন না।

বিপিটিএফের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, কারিগরি শিক্ষার মানোন্নয়নে ২০১০ সালে স্টেপ প্রকল্পের শুরু হয়। দুই দফায় জুনিয়র ইনস্ট্রাক্টর (টেক/নন-টেক), ইনস্ট্রাক্টর (টেক/নন-টেক) এবং ওয়ার্কশপ সুপার পদে ১ হাজার ১৫ শিক্ষককে নিয়োগ দেয় সরকার। প্রকল্পটি শেষ হয় ২০১৯ সালের ৩০ জুন। যদিও প্রকল্প শেষে এই শিক্ষকদের চাকরি রাজস্ব খাতে নেওয়ার প্রস্তাব ২০১৯ সালের ২২ মে অনুমোদন করেন প্রধানমন্ত্রী। সে অনুযায়ী ২০১৯-২০২০ অর্থবছরে রাজস্ব খাত থেকেই তাদের বেতন দেওয়া হয়। কিন্তু ২০২০ সালের জুলাই থেকে ২০২১ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত ১৮ মাস এই শিক্ষকদের বেতনভাতা বন্ধ। বর্তমানে ৭৭৭ শিক্ষক কর্মরত আছেন, যারা বেতন না পেয়ে পরিবার-পরিজন নিয়ে চরম মানবেতর জীবনযাপন করছেন। মানববন্ধনে শিক্ষকরা বলেন, আমাদের কয়েকজন সহকর্মী টাকার অভাবে সঠিক সময়ে চিকিৎসা না করাতে পেরে

মারাও গেছেন। বহু সহকর্মী মানসিক ও শারীরিক অসুস্থতা নিয়ে জীবন অতিবাহিত করছেন। প্রকল্পভুক্ত ওই নিয়োগের মধ্যে বীর মুক্তিযোদ্ধার সন্তান আছেন ৪৭৭ জন। তাই এসব পরিবারের কথা বিবেচনায় নিয়ে, স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে দীর্ঘদিনের অবর্ণনীয় দুর্ভোগের অবসানের জন্য দ্রুত বকেয়া বেতনভাতা দেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন শিক্ষকরা।

তারা বলেন- সরকার দেশের কারিগরি শিক্ষার হার ২০২০ সালে ২০ শতাংশ, ২০৩০ সালে ৩০ শতাংশ এবং ২০৪১ সালে ৪০ শতাংশ উন্নতি করার লক্ষমাত্রা নির্ধারণ করেছে। কারিগরি শিক্ষার উন্নয়নে এই প্রকল্পের শিক্ষকদের অবদান ও প্রয়োজনীয়তা বিবেচনায় নিয়েই প্রকল্প শেষে আমাদের চাকরি রাজস্ব খাতে স্থানান্তরের প্রস্তাবনা অনুমোদন করেন প্রধানমন্ত্রী। এর পর কর্মরত শিক্ষকদের সাময়িকভাবে বহাল রেখে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার জন্য লিখিত নির্দেশনাও দেয় সরকার। সেই নির্দেশনার আলোকেই পলিটেকনিক শিক্ষকরা এখনো পর্যন্ত তাদের সব কার্যক্রম যথাযথভাবে পালন করে আসছেন। তবে দুঃখের বিষয়, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও রাজস্ব খাতে স্থানান্তর প্রক্রিয়া দীর্ঘসূত্রতার কারণে বেতনভাতা থেকে বঞ্চিত এসব শিক্ষক।

রাজশাহীতে শিক্ষকদের মানববন্ধন

স্কিলস অ্যান্ড ট্রেনিং এনহ্যান্সমেন্ট প্রজেক্টের (ঝঞঊচ) আওতায় কর্মরত দেশের ৪৯টি পলিকেটনিক ইনস্টিটিউটের মোট ৭৭৭ জন শিক্ষক ১৯ মাসের বকেয়া বেতন ভাতা ও চাকরি রাজস্ব খাতে স্থানান্তরের দাবিতে আন্দোলনে নেমেছেন। গতকাল মঙ্গলবার (১৮ জানুয়ারি) কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে রাজশাহী পলিকেটনিক ও মহিলা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের মোট ২৮ জন শিক্ষক মানববন্ধন করেছেন।

মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রাজশাহী পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের শহীদ মিনারের পাদদেশে তারা এ কর্মসূচি পালন করেন। এ সময় তাদের সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করে কর্মসূচিতে যোগ দেন বাংলাদেশ পলিটেকনিট ইনস্টিটিউট টিচার্স ফেডারেশন শাখার শিক্ষক ও সাধারণ শিক্ষার্থীরাও। মানববন্ধনে তারাও বক্তব্য রাখেন।