advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

সুরের ভুবনে অনন্য

তারেক আনন্দ
২২ জানুয়ারি ২০২২ ১২:০০ এএম | আপডেট: ২১ জানুয়ারি ২০২২ ১১:২২ পিএম
advertisement

প্রখ্যাত সংগীত পরিচালক খন্দকার নুরুল আলম ও আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুলের মৃত্যুবার্ষিকী আজ। চলে যাওয়ার এই দিনে গুণী দুই সংগীতজ্ঞের প্রতি শ্রদ্ধা।

লিখেছেন- তারেক আনন্দ

খন্দকার নুরুল আলম

দীর্ঘ সংগীতজীবনে ছয় শতাধিক গানের সুর ও সংগীত পরিচালনা করেছেন। কণ্ঠশিল্পী হিসেবে চলচ্চিত্রাঙ্গনে প্রবেশ করলেও খন্দকার নুরুল আলম জনপ্রিয়তা লাভ করেন সংগীত পরিচালক হিসেবে। অনবদ্য কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেন এই সংগীতকার। এ ছাড়া সংগীতে বিশেষ অবদান রাখার জন্য দেশের রাষ্ট্রীয় সর্বোচ্চ সম্মাননা একুশে পদক পেয়েছেন খন্দকার নুরুল আলম। ১৯৩৯ সালের ১৭ আগস্ট ভারতের আসামে জন্মগ্রহণ করা প্রথিতযশা এই সংগীত পরিচালক ২০১৬ সালের আজকের দিনে না ফেরার দেশে চলে যান। তার কর্মজীবন শুরু হয় বাংলাদেশ বেতারের সঙ্গে। ১৯৫৯ সালে বেতার আয়োজিত ‘নব মঞ্জুরী’ নামক অনুষ্ঠান প্রযোজনা ও পরিচালনা করেন তিনি। বাংলাদেশ টেলিভিশনের সূচনালগ্ন থেকেই তার পরিচালিত ‘সুরবিতান’ অনুষ্ঠানটি ব্যাপক জনপ্রিয় ছিল। খন্দকার নুরুল আলম চলচ্চিত্রাঙ্গনে আসেন ‘অগ্নিপরীক্ষা’ চলচ্চিত্রের ‘জীবন নদীর জোয়ার ভাটা’ গানে কণ্ঠ দিয়ে। সংগীত পরিচালনা শুরু উর্দু ছবি দিয়ে। তার প্রথম সুরকৃত চলচ্চিত্র ‘ইস ধরতি পার’। এ ছাড়া ঊর্দু ছবি ‘উজালা’র সুর ও সংগীত পরিচালনা করেন তিনি। বাংলা চলচ্চিত্রে খন্দকার নুরুল আলম সুর ও সংগীত পরিচালনা শুরু করেন ১৯৬৮ সালে ‘অন্তরঙ্গ’ ও ‘যে আগুনে পুড়ি’ দিয়ে। ‘যে আগুনে পুড়ি’ চলচ্চিত্রের ‘চোখ যে মনের কথা বলে’ গানটি এখনো শ্রোতা-দর্শকদের কাছে বেশ জনপ্রিয়। চলচ্চিত্রের গান ছাড়াও খন্দকার নুরুল আলম আধুনিক, ফোক, দেশের গানের সুরারোপ করেছেন। তার সুরাপিত উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্রের মধ্যে রয়েছে- ‘যে আগুনে পুড়ি’, ‘জলছবি’, ‘জীবন তৃষ্ণা’, ‘ওরা ১১ জন’, ‘চোখের জলে’, ‘দেবদাস’, ‘আঁধারে আলো’, ‘চন্দ্রনাথ’, ‘বিরাজ বৌ’, ‘পদ্মা মেঘনা যমুনা’, ‘শাস্তি’ প্রমুখ।

আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুল

অসংখ্য কালজয়ী গানের ¯্রষ্টা আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুল। ১৯৭৮ সালে ‘মেঘ বিজলি বাদল’ সিনেমায় সংগীত পরিচালনার মাধ্যমে চলচ্চিত্রাঙ্গনে কাজ শুরু করেন তিনি। এর পর আমৃত্যু তিনি নিজেকে নিয়োজিত রেখেছিলেন সংগীতের সাধনায়।

৭০-এর দশকে বাংলাদেশ টেলিভিশনে দেশাত্মবোধক গান দিয়ে সুরকার হিসেবে যাত্রা শুরু করেন আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুল। ১৯৮৪ সালে ‘নয়নের আলো’ চলচ্চিত্রে তার লেখা, সুর ও সংগীতে ‘আমার সারাদেহ খেয়ো গো মাটি’, ‘আমার বাবার মুখে’, ‘আমার বুকের মধ্যেখানে’, ‘আমি তোমার দুটি চোখের দুটি তারা হয়ে’সহ ৬টি গানই তুমুল জনপ্রিয়তা পায়। গানের বুলবুলকে আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। একে একে ‘লক্ষ্মীর সংসার’, ‘মাতৃভূমি’, ‘অন্ধ প্রেম’, ‘রাঙ্গা বউ’, ‘প্রাণের চেয়ে প্রিয়’, ‘পড়েনা চোখের পলক’, ‘তোমাকে চাই’, ‘লাভ স্টোরি’, ‘ভুলোনা আমায়’, ‘আজ গায়ে হলুদ’, ‘মন মানে না’, ‘প্রেমের তাজমহল’, ‘অবুঝ দুটি মন’, ‘আম্মাজান’, ‘মাটির ঠিকানা’সহ দুই শতাধিক চলচ্চিত্রের সংগীত পরিচালনা করেন। ‘প্রেমের তাজমহল’ সিনেমার জন্য ২০০১ সালে এবং ‘হাজার বছর ধরে’ সিনেমার জন্য ২০০৫ সালে তিনি শ্রেষ্ঠ সংগীত পরিচালকের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পান। দেশীয় সংগীতে অসামান্য অবদানের জন্য ২০১০ সালে বাংলাদেশ সরকার আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুলকে একুশে পদকে ভূষিত করে। চলচ্চিত্রের জন্য সংগীতায়োজনের পাশাপাশি দেশের সমকালীন শিল্পীদের নিয়ে আলাদাভাবে কাজ করেছেন বুলবুল। তার কথা আর সুরের গান নিয়ে সাবিনা ইয়াসমিন, রুনা লায়লা, সৈয়দ আবদুল হাদী, এন্ড্রু কিশোর, খালিদ হাসান মিলু, কনকচাঁপা, সামিনা চৌধুরী, আগুনসহ দেশের বহু জনপ্রিয় শিল্পীর অ্যালবাম বের হয়েছে। গানের বুলবুল সুরের ভুবনে অনন্য। ২০১৯ সালের আজকের দিনে দেশীয় সংগীতের এই অন্যতম পুরোধা ব্যক্তিত্ব হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে ইন্তেকাল করেন।