advertisement
advertisement
advertisement
DBBL
advertisement

চীনের চাপে সন্ত্রাসী হামলার জন্য ক্ষতিপূরণ দিচ্ছে পাকিস্তান

অনলাইন ডেস্ক
২৪ জানুয়ারি ২০২২ ১১:৫৩ পিএম | আপডেট: ২৪ জানুয়ারি ২০২২ ১১:৫৪ পিএম
advertisement

চীনের চাপের মুখে ২০২১ সালের জুলাইয়ের সন্ত্রাসী হামলার জন্য ক্ষতিপূরণ দিতে বাধ্য হচ্ছে পাকিস্তান। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ঘটনাটি যেহেতু একটি চীনা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ঘটেছে, সেটি সরকারি না বেসরকারি তা বিবেচ্য নয়, এ কারণেই ইসলামাবাদকে ক্ষমতার প্রভাব দেখিয়ে ক্ষতিপূরণ দিতে বাধ্য করছে তারা।

রোববার হংকং পোস্টের বরাতে এ খবর জানায় ভারতীয় সংবাদসংস্থা এএনআই। গত বছরের ১৪ জুলাই একটি সন্ত্রাসী হামলায় ৩৬ জন চীনা নাগরিক নিহত হন। এতে আহত হয়েছেন আরও ২৬ জন। এই হামলার জন্য পাকিস্তানকে দায়ী করা হয়। তাই দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের এই তিক্ততা দূর করার জন্য বেইজিংকে বড় অঙ্কের ক্ষতিপূরণ দিতে হবে ইসলামাবাদের যা পাকিস্তানি মুদ্রায় বিলিয়ন রূপিরও বেশি।

এর আগে পাকিস্তান সরকারের দেওয়া চারটি প্যাকেজের মধ্যে একটিকে বেছে নিয়েছিল দেশটির মন্ত্রিসভা। যার পরিমাণ ছিল ৪ দশমিক ৬ মার্কিন ডলার থেকে ২০ দশমিক ৩ মার্কিন ডলার পর্যন্ত।

অন্যদিকে, খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের কোহিস্তান জেলার দাসুতে জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের ক্ষতিপূরণ কৌশলগতভাবে চীন পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডোরের (সিপিইসি) আওতায় পড়ে না। যদিও সেখানে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে চীনের প্রতিষ্ঠান গেজুবা ৪ হাজার ৩২০ মেগাওয়াট দাসু জলবিদ্যুৎ প্রকল্পটি নির্মাণ করছে।

হংকং পোস্টের খবরে বলা হয়েছে, চীনের বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানটি এখন বলছে, ঘটনাটি চীনের মধ্যে ঘটায় জরিমানা হিসেবে তাদের কর্মচারীদের ছয় গুণ ক্ষতিপূরণ দিতে হবে পাকিস্তানকে। সিপিইসি চুক্তির আগে ২০০৪ সালের নিয়ম অনুযায়ী ক্ষতিপূরণ দিয়েছে পাকিস্তান। তবে বর্তমান ও ভবিষ্যতে প্রকল্পগুলোর ক্ষেত্রে চীন পাকিস্তানকে এমনভাবে শর্ত বেঁধে দিচ্ছে, তাতে করে বেইজিং অত্যধিক সুবিধা পাচ্ছে এবং পাকিস্তানকে তা বাধ্য হয়ে মেনে নিতে হচ্ছে। এর মাধ্যমে তারা ক্রমাগতভাবে চীনা চক্রে জড়িয়ে পড়ছে।

২০২১ সালের জুলাইয়ে একটি বাসে আত্মঘাতী সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে প্রভাবিত করেছিল। বাসটি চীনা শ্রমিকদের নিয়ে দাসু জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের দিকে যাচ্ছিল। পাকিস্তান সরকার প্রথমে এটিকে একটি দুর্ঘটনা বলে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে। তবে চীন এই বিষয়ে এক বিবৃতি দেয় এবং তদন্ত করে এই ঘটনাকে সন্ত্রাসী হামলা আখ্যায়িত করে। চীন তাৎক্ষণিকভাবে সমুচিত জবাব দেয় এবং সিপিইসির জয়েন্ট কোঅপারেশন কমিটির নির্ধারিত সভা বাতিল করে। চীনা ঠিকাদার তখন প্রকল্পের কাজ বন্ধ করে ৩৭ মিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ দাবি করেন।