advertisement
advertisement
advertisement
DBBL
advertisement

শাবিপ্রবির আন্দোলনকারীদের সমর্থন দিলো রাবি শিক্ষক নেটওয়ার্ক

রাবি প্রতিনিধি
২৫ জানুয়ারি ২০২২ ০৪:৩৬ পিএম | আপডেট: ২৫ জানুয়ারি ২০২২ ০৪:৫৯ পিএম
রাবির শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিফলকে আয়োজিত অবস্থান কর্মসূচি থেকে শাবিপ্রবি শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে সমর্থন জানান ‘বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নেটওয়ার্ক’। ছবি : আমাদের সময়
advertisement

সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশি হামলার প্রতিবাদ এবং শিক্ষার্থীদের ন্যায়সঙ্গত দাবির প্রতি সমর্থন জানিয়েছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) শিক্ষকদের সংগঠন ‘বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নেটওয়ার্ক’। আজ মঙ্গলবার বেলা ১১টায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিফলকে আয়োজিত এক অবস্থান কর্মসূচি থেকে এই সমর্থন জানানো হয়।

কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া রাবির বাংলা বিভাগের অধ্যাপক সৌভিক রেজা বলেন, ‘আমরা এখানে অবস্থান নিয়েছি ভয় থেকে। সেই ভয় অনশনরত শিক্ষার্থীদের জন্য। যারা প্রায় ১২০ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে তারা আমরণ অনশন করছে। যেকোনো মুহূর্তে বড় দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে। যদি একটি শিক্ষার্থীরও কিছু হয়ে যায়, গোটা দেশের পরিস্থিতি কী হবে?’

তিনি আরও বলেন, ‘একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে সবকিছুর সঙ্গে শিক্ষার্থীদের আত্মিক সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এখানের একটি কাঠবিড়ালির সাথে তাদের সম্পর্ক গড়ে ওঠে, শিক্ষকদের সাথে তাদের আত্মিক সম্পর্ক গড়ে ওঠে। কিন্তু প্রশাসনের সাথে তাদের কোনো সম্পর্ক গড়ে ওঠে না। এর কারণ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে নির্বাচিত হন না। তারা বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উড়ে এসে জুড়ে বসেন।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘শাবিপ্রবিতে ন্যায্য দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর বিনা উসকানিতে যে হামলা চালিয়েছে, সেটার ক্ষমা চাওয়ার অপরাধ নয়, এটা ফৌজদারি অপরাধ। এরপর তার সেই পদে থাকার নৈতিক অধিকার নেই। তিনি যদি আজকের মধ্যেই পদত্যাগ করেন তাহলে সেটাই হবে মঙ্গল। এ ছাড়া দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যরা একটা সিন্ডিকেট তৈরি করেছেন। যার সাথে জড়িত ৩৪ জন ভিসি। তারা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত চাচ্ছে না বরং বলছে ফরিদ সাহেব পদত্যাগ করলে তারাও পদত্যাগ করবেন।’

পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক সালেহ হাসান নকীব বলেন, ‘শাবিতে খুব বড় কোনো ঘটনা ছিল না। প্রশাসন চাইলেই এটার খুব সুন্দর একটা সমাধান করতে পারত। কিন্তু তারা তা না করে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালায়। ফলে, যেটা আজ ভিসি-বিরোধী আন্দোলনে রূপ নিয়েছে। যারা তৃতীয় পক্ষের খোঁজ করছেন, সেই তৃতীয় পক্ষ কারা? সেই ছাত্রলীগ, সেই পুলিশ। তারা তো সরকারের সহায়ক শক্তি। এই সমস্যার সমাধানের ওপর নির্ভর করবে আগামীতে দেশের শিক্ষাঙ্গনগুলোতে কী ধরনের পরিস্থিতি ঘটবে। তাই এই সমস্যার একটা সুষ্ঠু ফয়সালা জরুরি। আমরা দ্রুত এ সমস্যার সমাধন চাই এবং গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে নির্বাচিত উপাচার্য চাই।’

কর্মসূচিতে রাকসু আন্দোলন মঞ্চের সমন্বয়ক আব্দুল মজিদ অন্তরের সঞ্চালনায় সংহতি জানিয়ে বক্তব্য রাখেন- শাখা ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি শাকিলা খাতুন, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের আহ্বায়ক রিদম শাহরিয়ার, ছাত্র ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক মহব্বত হোসেন মিলন, বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রীর রনজু হাসান প্রমুখ।