advertisement
advertisement
advertisement
DBBL
advertisement

আউয়াল কমিশনের প্রথম পরীক্ষা কুসিক নির্বাচন

নিজস্ব প্রতিবেদক
১৫ মে ২০২২ ১২:০০ এএম | আপডেট: ১৫ মে ২০২২ ০৮:৪৬ এএম
advertisement

কুমিল্লা সিটি করপোরেশন (কুসিক) নির্বাচন আগামী ১৫ জুন অনুষ্ঠিত হবে। হাবিবুল আউয়ালের নেতৃত্বাধীন নির্বাচন কমিশন দায়িত্ব গ্রহণের পর এটি হবে তাদের প্রথম ভোট। ফলে নতুন কমিশনের জন্য কুসিক নির্বাচনকে সব রাজনৈতিক দলের কাছে তাদের আস্থা অর্জনের প্রথম পরীক্ষা হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। যদিও এই নির্বাচনেও অন্যতম বড় রাজনৈতিক দল বিএনপি অংশগ্রহণ করবে কিনা তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। তারপরও এরই

মধ্যে জমে উঠেছে নির্বাচনী প্রচার। ইলেক্ট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) হতে যাওয়া এ নির্বাচনকে সামনে রেখে বেশ তৎপরতা শুরু করে দিয়েছে নবগঠিত ইসি। নির্বাচনী এলাকায় শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার লক্ষ্যে ইতোমধ্যে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোতায়েন করা হয়েছে। আজ রবিবার থেকে ভোটের মাঠে নামছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. শাহেদুন্নবী চৌধুরী বলেন, নতুন ইসি দায়িত্ব নেওয়ার পর সবচেয়ে বড় নির্বাচন হচ্ছে কুমিল্লা সিটিতে। বর্তমান ইসি একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠান করতে চায়। প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) প্রতিনিয়ত মোবাইল ফোনে আমাকে সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য বিভিন্ন দিকনির্দেশনা দিচ্ছেন। আমরা সততা ও নিরপেক্ষতা দিয়ে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন উপহার দিতে চাই। আমাদের চেষ্টার কোনো কমতি থাকবে না। কোথাও কোনো অনিয়ম হলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। এরই মধ্যে পাঁচ প্রার্থীকে শোকজ করা হয়েছে এবং তারা এর জবাবও দিয়েছেন। নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার পর ২৬ এপ্রিল থেকে ১০ মে পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সিটি করপোরেশন এলাকায় ২৩৭টি মোটরসাইকেল আটক করেছে। মামলা দিয়ে আদায় করা হয়েছে ৬ লাখ ৩০ হাজার টাকা জরিমানা। এ ছাড়া নির্বাচনী এলাকার পরিবেশ শান্তিপূর্ণ রাখতে নিয়মিত পদক্ষেপ রয়েছে। ভালো নির্বাচন করার জন্যই ইসির সব আয়োজন।

দুটি পৌরসভা নিয়ে ২০১১ সালের জুলাই মাসে কুসিক গঠিত হওয়ার পর এ পর্যন্ত দুটি নির্বাচন হয়েছে। ১০ বছর আগে এই সিটির প্রথম নির্বাচনে নির্দলীয় প্রতীকে ভোট হলেও ২০১৭ সালে দলীয় প্রতীকে মেয়র নির্বাচন হয়। দুই নির্বাচনেই ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থীকে পরাজিত করে মেয়র হন বিএনপির প্রার্থী মনিরুল হক সাক্কু। এবারের নির্বাচনে মেয়র প্রার্থী হিসেবে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন দলের কুমিল্লা মহানগরের সাধারণ সম্পাদক আরফানুল হক রিফাত। অপরদিকে বিএনপি দলীয়ভাবে প্রার্থী না দেওয়ার ঘোষণায় স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন বর্তমান মেয়র সাক্কু এবং মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি নিজাম উদ্দিন কায়সার।

নির্বাচন উপলক্ষে কুমিল্লা সিটিতে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার লক্ষ্যে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি আজ থেকে মোতায়েন থাকছে এক প্লাটুন বিজিবি। একই সঙ্গে গত ১২ মে থেকে তিনজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটও দায়িত্ব পালন করছেন। বিগত নির্বাচনের তুলনায় এবার সিটিতে দুটি কেন্দ্র বাড়লেও বুথ সংখ্যা একই থাকছে। রিটার্নিং কর্মকর্তা শাহেদুন্নবী চৌধুরী বলেন, গত শুক্রবার নির্বাচনের চ‚ড়ান্ত কেন্দ্র ও ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। এ ছাড়া প্রকাশ করা হয়েছে মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীদের ৯টি নির্দেশনা সংবলিত বিজ্ঞপ্তিও। নির্দেশনায় বলা হয়েছে- ১. মনোনয়নপত্র সংগ্রহ ও দাখিলের সময় মিছিল বা শোডাউন করা যাবে না। ২. প্রত্যেক প্রার্থী পাঁচজনের বেশি সমর্থক নিয়ে জমা দিতে পারবেন না মনোনয়নপত্র। ৩. প্রতীক বরাদ্দের আগে কোনো প্রকার নির্বাচনী প্রচার শুরু করতে পারবেন না প্রার্থীরা। ৪. প্রচারকালে পথসভা ও ঘরোয়া সভা ছাড়া কোনো প্রকার জনসভা বা শোভাযাত্রা করা যাবে না। ৫. প্রচারের জন্য নির্ধারিত পোস্টার সাদা-কালো হতে হবে এবং সেটির আয়তন ৬০ ও ৪৫ সেন্টিমিটারের বেশি হতে পারবে না। ৬. প্রচারণায় কোনো প্রার্থী পোস্টার বা লিফলেটে নিজ ছবি ও প্রতীক ছাড়া ব্যবহার করতে পারবেন না অন্য কারও নাম, ছবি বা প্রতীক। তবে রাজনৈতিক দলের মনোনীত প্রার্থী দলীয় প্রধানের ছবি পোস্টার বা লিফলেটে ছাপাতে পারবেন। ৭. মেয়র পদের প্রার্থীরা প্রত্যেক থানাধীন এলাকায় একটি করে সর্বোচ্চ দুটির অধিক নির্বাচনী ক্যাম্প বা অফিস স্থাপন করতে পারবেন না এবং কাউন্সিলর প্রার্থীরা একটির অধিক নির্বাচনী ক্যাম্প বা অফিস স্থাপন করতে পারবেন না। ৮. নির্বাচনী প্রচারে কোনো প্রকার গেট, তোরণ, আলোকসজ্জা ব্যবহার করতে পারবেন না প্রার্থীরা। ৯. সিটি করপোরেশন (নির্বাচনী আচরণ) বিধিমালা, ২০১৬-এর অন্যান্য বিধিবিধান অনুসরণ করে প্রার্থীদের প্রচার চালাতে হবে।

এদিকে কুসিক নির্বাচনে সব কেন্দ্রে-কক্ষে সিসি ক্যামেরা থাকবে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার মো. আলমগীর। গত ১২ মে রাজধানীর আগারগাঁও নির্বাচন ভবনে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, কুমিল্লা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে প্রতিটি ভোটকেন্দ্রের বাইরে একটি এবং প্রতিটি ভোটকক্ষে একটি করে সিসিটিভি থাকবে। যাতে সেখানে কোনো অনিয়ম হলে পরে পর্যালোচনা করে ব্যবস্থা নেওয়া যায়। রিটার্নিং কর্মকর্তা যখন নির্বাচনী মালামাল নিয়ে ভোটকেন্দ্রে যাবেন তখন বা তার আগে থেকেই সেখানে সিসি ক্যামেরা চালু থাকবে। ভোট গণনা হয়ে রেজাল্ট ঘোষণার পরও থাকবে সিসি ক্যামেরা।

জানা গেছে, ২০১৭ সালের ৩০ মার্চ অনুষ্ঠিত কুসিকের দ্বিতীয় নির্বাচনে মোট ১০৩টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ হয়েছিল। এবার দুটি বেড়ে মোট ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১০৫টি। আগামী ১৫ জুন ইভিএমের মাধ্যমে এসব কেন্দ্রের ৬৪০টি বুথে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। ২০১৭ সালে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ভোটার সংখ্যা ছিল ২ লাখ ৭ হাজার ৫৬৬ জন। তখনো বুথ সংখ্যা ছিল ৬৪০টি। এবার নগরীর ২৭টি ওয়ার্ডে মোট ভোটার সংখ্যা ২ লাখ ২৯ হাজার ৯২০ জন। এর মধ্যে নারী ভোটার ১ লাখ ১৭ হাজার ৯২ জন ও পুরুষ ১ লাখ ১২ হাজার ৮২৬ জন। আর তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন ২ জন।

গত ২৫ এপ্রিল কুসিক নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হয়। আগামী ১৭ মে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ তারিখ। মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই ১৯ মে। প্রত্যাহারের শেষ দিন ২৬ মে। প্রতীক বরাদ্দ ২৭ মে।