advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

চট্টগ্রাম টেস্টের প্রথম দিন
ব্যাটিং উইকেটে বোলারদের সাফল্য

এম.এম. মাসুক, চট্টগ্রাম থেকে
১৬ মে ২০২২ ১২:০০ এএম | আপডেট: ১৬ মে ২০২২ ০১:১১ এএম
advertisement

প্রথম দিন শেষে চট্টগ্রাম টেস্টে বাংলাদেশ নাকি শ্রীলংকা এগিয়ে? অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুসের ব্যাটিং বীরত্বের (অপরাজিত ১১৪) সুবাদে ৪ উইকেট হারিয়ে স্কোর বোর্ডে ২৫৮ রান জমা করেছে শ্রীলংকা। তারাই তো এগিয়ে! কিন্তু জহুর আহমেদ চৌধুরীর ব্যাটিংবান্ধর উইকেটের বিবেচনায় ভালো করেছে বাংলাদেশ। শ্রীলংকাকে ৩০০ রানের মধ্যে আটকে রেখেছেন বোলাররা। সাকিব আল হাসানের সমন্বয়ে গড়া বোলিং আক্রমণ নৈপুণ্য দেখিয়েছে। সকালে নাঈম-ঝলকের পর শেষ সেশনে সাকিব ও তাইজুল উইকেট শিকার করেছেন। আজ দ্বিতীয় দিন লংকানদের চারশর মধ্যে আটকানোর লক্ষ্য বাংলাদেশের। যত দ্রুত সম্ভব অপরাজিত থাকা ম্যাথুস ও চান্দিমালের উইকেট দুটি তুলে নেওয়ার চেষ্টায় থাকবেন সাকিবরা। এমনটিই দিনশেষে জানালেন টাইগারদের স্পিন বোলিং কোচ রঙ্গনা হেরাথ।

advertisement

বোলারদের ধীরগতির বোলিংই সাফল্যের মন্ত্র। এ ক্ষেত্রে নিজেকে আলাদা করেই রাখলেন সাকিব। কোভিড থেকে সেরে ওঠার পর কোনো রকম অনুশীলন ছাড়া সাগরিকার মাঠে সরাসরি ম্যাচে নেমে দারুণ বোলিং উপহার দিয়েছেন এ অলরাউন্ডার। ১ উইকেট শিকার করলেও প্রথম দিন শেষে দলের পক্ষে সবচেয়ে কম খরচে বোলার হলেন তিনি। হেরাথ জানালেন, সাকিবকে ঘিরে শতভাগ আত্মবিশ্বাসী ছিলেন। তার প্রতি আস্থা

ছিল। প্র্যাকটিস ছাড়া প্রথম বল থেকেই মাঠে সেই আত্মবিশ্বাসী সাকিবকে দেখা গেছে। সাকিব থাকায় দল ব্যালান্স হয়েছে। বিকল্প কাউকে খুঁজতে হয়নি যে ব্যাটিং ও বোলিং করতে পারে। সাকিবের সঙ্গে তাইজুল ও নাঈমও ধীরগতির বোলিং করে সফল হয়েছেন।

প্রথম দিন তিন স্পিলে মোট ১৯ ওভার বোলিং করেছেন সাকিব। ইনিংসের ৩৬তম ওভারে বোলিং আক্রমণে আসেন সাকিব। ম্যাচের আগে মাত্র আধঘণ্টা ব্যাটিং-অনুশীলন করলেও বোলিং করেননি তিনি। অনুশীলন ছাড়া সরাসরি বল হাতে নিয়ে চমৎকার বোলিং করেছেন। প্রথম স্পেলে ১০ ওভারে মাত্র ৯ রান দেন। পরের স্পেলে ৬ ওভারে ১৩ রান দিয়ে শিকার করেন ১ উইকেট। দিনের অন্তিম মুহূর্তে করেছেন তিন ওভার। দিনশেষে সাকিবের বোলিং বিশ্লেষণ- ১৯-৭-২৭-১। তৃতীয় সেশনের প্রথম ওভারেই কুশল মেন্ডিসের উইকেট শিকার করেন তাইজুল ইসলাম। তার বলে নাঈম হাসানের হাতে ক্যাচ দেন মেন্ডিস। ১৩১ বল খেলে ৫৪ রানের ইনিংস খেলেন তিনি। প্রতিনিয়ত বল করতে যাওয়া তাইজুল আরেকটি উইকেট পেতে পারতেন। সিøপে অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুসের ক্যাচ ছেড়ে দেন মাহমুদুল হাসান জয়। হতাশায় পুড়ে বাংলাদেশ। তবে পরের ওভারেই নিজের দ্বিতীয় স্পেলে বল হাতে নিয়ে সফল হন সাকিব। তার বল ধনঞ্জয়ার ব্যাট ছুঁয়ে স্পিলে থাকা মাহমুদুলের হাতে জমা পড়ে। এ সময় বাংলাদেশের আবেদনে সাড়া দেননি আম্পায়ার। আত্মবিশ্বাসী সাকিব রিভিউ চান। দুটি রিভিউ ব্যর্থ হওয়ার পর সফল হন অধিনায়ক মুমিনুল। সাজঘরমুখী হন ধনঞ্জয়া। এর পর দিনের শেষ দিকে আক্রমণে এলেও সফল হননি সাকিব। দ্বিতীয় সেশনটি খুবই হতাশায় কেটেছে টাইগারদের। হাড় খাটুনি পরিশ্রম করেও ফল আসেনি। দ্বিতীয় সেশনে কোনো উইকেট না হারিয়ে ৮৫ রান তোলেন লংকানরা।

চট্টগ্রাম টেস্টে দুই পেসার খালেদ ও শরিফুলকে নিয়ে খেলতে নেমেছে বাংলাদেশ। দক্ষিণ আফ্রিকা সফরের পারফরম্যান্স বিবেচনায় এবাদত হোসেনকে বাদ দিয়ে খালেদকে দলে নেওয়া হয়েছে। দিনের শুরুটা এই দুজন করলেও সফল হতে পারেননি। ইনিংসের অষ্টম ওভারেই স্পিনারের হাতে বল তুলে দিতে হয়েছে অধিনায়ক মুমিনুলকে। অবশ্য প্রথম ওভারেই ব্রেক থ্রো এনে দেন অফস্পিনার নাঈম হাসান। লংকান অধিনায়ক দিমুথ করুনারতেœকে এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলেন তিনি। রিভিউ নিয়েও বাঁচতে পারলেন না ওপেনার করুনারতেœ। নাঈমের বল সরাসরি আঘাত হানে তার প্যাডে। আরেক ওপেনার ওশাসা ফার্নান্দোর উইকেটটি তুলে নেন নাঈম। তার বলে উইকেটরক্ষক লিটনের কাছে ক্যাচ দেন ফার্নান্দো। প্রথম সেশনে এই দুটি উইকেট শিকার করে দলে স্বস্তি এনে দেন চট্টগ্রামের ‘লোকাল বয়’ নাঈম। এ সেশনে ২৪ ওভারে ৭৩ রান সংগ্রহ করে শ্রীলংকা। দিনের প্রথম সেশনে দুটি রিভিউ ব্যর্থ হয় বাংলাদেশের।

advertisement