advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

স্কুলছাত্রীকে আটকে রেখে ধর্ষণের মামলায় বিপদে পরিবার

ফটিকছড়ি ভুজপুর

চট্টগ্রাম ব্যুরো
১৭ মে ২০২২ ১২:০০ এএম | আপডেট: ১৬ মে ২০২২ ১০:৩০ পিএম
advertisement

স্কুল থেকে বাড়ি যাওয়ার পথে চতুর্থ শ্রেণির এক ছাত্রীকে অপহরণ করে ১১ দিন আটকে রেখে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা হয়েছে মোহাম্মদ রুবেল (৩২) নামে এক যুবকের বিরুদ্ধে। দুই সন্তানের জনক তিনি। এ ঘটনায় স্থানীয় ভুজপুর থানায় নিখোঁজের সাধারণ ডায়েরি নিলেও তদন্ত করেনি বলে পরিবারের অভিযোগ। পরে পরিবার আদালতে মামলা করে। আদালতের নির্দেশে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) মামলাটি তদন্ত করে ঘটনার সত্যতা পেয়েছে।

advertisement

এদিকে মামলা করায় ক্ষুব্ধ রুবেল ও তার সহযোগীরা ওই শিশুর পরিবারকে বিভিন্নভাবে হুমকি দিয়ে যাচ্ছে। সর্বশেষ গত ১০ মে দুপুরে বাড়ি থেকে রুবেলের কয়েকজন সহযোগী ওই শিশুকে পুনরায় অপহরণের চেষ্টা করে। স্থানীয়রা ধাওয়া দিলে তারা মোটরসাইকেল রেখে পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় ভূজপুর থানায় উভয়পক্ষ জিডি করেছে। জানা গেছে, চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার ভুজপুর থানার সুয়াবিল ইউনিয়নের

এলাহি নুর চা বাগানের এক শ্রমিকের ১১ বছরের মেয়ে গত ১ জানুয়ারি স্কুল থেকে ফিরছিলেন। পথিমধ্যে মোহাম্মদ রুবেল তার মোটরসাইকেলে করে বাড়িতে পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে নিয়ে যায়। বাড়ি না ফেরায় মেয়ের বাবা ভূজপুর থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন। পরে রুবেল ফোন করে জানায় তার মেয়েকে তিনি বিয়ে করেছেন।

১১ বছরের ওই শিশুর বাবার অভিযোগ, বিষয়টি ভূজপুর থানাকে জানানো হয়। কিন্তু তারা উদ্ধারে কোনো ব্যবস্থা নেননি এবং মামলাও নেননি। পরে ৪ জানুয়ারি চট্টগ্রাম নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলা করেন। মামলায় রুবেলের ভাই মিজানকেও আসামি করা হয়েছে। আদালত পিবিআইকে মামলাটি তদন্তের নির্দেশ দেন। পিবিআই ১২ জানুয়ারি তাকে উদ্ধার করলেও কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি। পরে তাকে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে পাঠানো হয়। ২০ জানুয়ারি আদালত তার জবানবন্দি গ্রহণ করেন। রুবেল তাকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে ধর্ষণ করেছে বলে আদালতে জবানবন্দি দেন। এর পর বাবার জিম্মায় তাকে দেওয়া হয়।

ওই শিশুর পরিবারের অভিযোগ, নিখোঁজ ডায়েরির অভিযোগের ভিত্তিতে ভূজপুর থানা তদন্ত করলে বা অভিযান পরিচালনা করলে শিশুকে নির্যাতনের আগেই উদ্ধার করা যেত। পুলিশের গাফিলতির কারণেই ১১ দিন আটক থাকতে হয়েছে।

ঘটনার তদন্ত শেষে আদালতে প্রতিবেদন জমা দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন পিবিআইয়ের এসআই পরিতোষ। তবে প্রতিবেদনের বিষয়ে কথা বলতে রাজি হননি তিনি। পিবিআই চট্টগ্রাম জেলার পুলিশ সুপার নাজমুল হাসান আমাদের সময়কে জানান, তদন্তে ১১ বছরের শিশুকে ধর্ষণের প্রমাণ পাওয়া গেছে। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

ভূজপুর থানার ওসি হেলাল উদ্দিনের দাবি- শিশুর বাবা মামলা করতে রাজি না হওয়ায় মামলা নেওয়া হয়নি। তবে ১০ মে রুবেলের সহযোগীরা ওই শিশুকে অপহরণ করতে যাওয়ার অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পেয়েছেন। ফেলে যাওয়া মোটরসাইকেল থানায় আটক আছে। এ ঘটনায় সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে। সেটি তদন্তের অনুমতির জন্য আদালতে আবেদন করা হয়েছে বলে জানান ওসি হেলাল।

এদিকে ঘটনার পর থেকে রুবেল পলাতক রয়েছে বলে জানিয়েছেন তার স্ত্রী বেবী আক্তার। তার সঙ্গেও যোগাযোগ নেই জানিয়ে তিনি এ ঘটনার জন্য শিশুর মা-বাবাকে দায়ী করেছেন। তিনি বলেন, আমার জামাই তাদের ঘরে নিয়মিত যাতায়াত করত। তাদের সতর্ক করা হলেও শোনেননি।

advertisement