advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

লেবাননে সাধারণ নির্বাচন
কতটা হোঁচট খেল হিজবুল্লাহ

জাহাঙ্গীর সুর
১৭ মে ২০২২ ১২:০০ এএম | আপডেট: ১৭ মে ২০২২ ০১:১৪ এএম
advertisement

একচেটিয়া আধিপত্যের পতন শুরু হলো হিজবুল্লাহর। ইরানসমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীটির মিত্র দলগুলো লেবাননের সংসদীয় নির্বাচনে হোঁচট খেয়েছে। নতুন দিনের আশায় নতুন যেসব বিদ্রোহী ও স্বতন্ত্র মুখ এবার প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছিলেন, তারা আশানুরূপ সাফল্য পেয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রগুলো আমাদের সময়কে নিশ্চিত করেছে। বেসরকারি ফলের বরাত দিয়ে জাতিসংঘের একটি শিল্প পরিষদের চেয়ারম্যান অধ্যাপক বাসাম লাহুদ এই প্রতিবেদককে জানিয়েছেন, অন্তত ১৫ বিরোধীদলীয় প্রার্থী এবার আইনপ্রণেতা হিসেবে জয়লাভ করেছেন। এদিকে শুফ আসনে সুন্নি প্রার্থী হিসেবে জয়লাভ করেছেন নারী নেতা ড. হালিমি কাকুর, যিনি সম্প্রতি আমাদের সময়ের সঙ্গে আলাপ করেছেন।

advertisement

লেবাননের সংসদীয় আসন ১২৮টি। এর মধ্যে ৬৫ আসন পেলে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করবে কোনো দল। আগের নির্বাচনে হিজবুল্লাহর নেতৃত্বাধীন জোট ৭১ আসনে জয় পেয়ে সরকার গঠন করেছে। রাজধানী বৈরুতে রাসায়নিক গুদামে ভয়াবহ আগুনে দুই শতাধিক মানুষের মৃত্যু এবং চলমান বিপর্যয়কর অর্থনৈতিক সংকটের জন্য গোষ্ঠীটির একচেটিয়া অপশাসন ও দুর্নীতিকে দায়ী করা হয়।

হিজবুল্লাহকে বা, বৃহত্তর অর্থে প্রথাগত অভিজাত রাজনীতিক ও বণিকবলয়কে ‘শিক্ষা দিতে’ নতুন অনেক নেতা এবার বিদ্রোহী বা স্বতন্ত্র হিসেবে ভোটে দাঁড়িয়েছিলেন। সব মিলিয়ে সাতশর বেশি প্রার্থী এবার লড়েছেন। ‘থওরা’ নামে বিদ্রোহী শিবির থেকে এবার ৬-৭টি আসন নিশ্চিত হলেও তা ‘অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ অর্জন’ বলে মনে করেন স্থানীয় প্রভাবশালী ইংরেজি গণমাধ্যম লরিয়েন্ট টুডের সাংবাদিক মোহামদ এল শামা। আমাদের সময়কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে রবিবার তিনি বলেছিলেন, ‘এর আগের নির্বাচনে মাত্র একজন স্বতন্ত্র প্রার্থী জয় পেয়েছিলেন। ফলে আমি মনে করি, বিদ্রোহী ও স্বতন্ত্র শিবিরের এবারের অর্জন নজির স্থাপন করবে এবং ভবিষ্যতের নিরিখে গতি যোগ করবে।’

লেবানন থেকে নাম-পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তে একটি সূত্র জানিয়েছে, দক্ষিণ লেবাননের তিন নম্বর আসন থেকে ড. ইলিয়াস জারাদি স্বতন্ত্র টিকিটে জয়লাভ করেছেন। প্রখ্যাত চক্ষু সার্জনের ফেসবুক ওয়াল থেকে এ তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে। তবে জারাদির সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে তার সাড়া পাওয়া যায়নি।

লেবাননের সংসদ এবার বৈচিত্র্যময় হতে যাচ্ছে বলে নিজেদের শক্ত অনুমানের কথা স্থানীয় সূত্রগুলো এই প্রতিবেদককে সম্প্রতি জানিয়েছেন। বেসরকারি ফলে সেই চিত্রই প্রতীয়মান হচ্ছে।

আইনপ্রণেতা হিসেবে নতুন মু, লেবানিজ ইউনিভার্সিটির আইন এবং রাষ্ট্র ও প্রশাসনবিদ্যার অধ্যাপক ড. হালিমি কাকুর মনে করেন, লেবাননের নেতৃত্ব ও রাজনীতির ময়দান সব সময় প্রবীণ ও পয়সাওয়ালা পুরুষ নেতারা দাপিয়ে বেড়িয়েছেন। সময় এসেছে এ ব্যবস্থা বদলের।

লেবানন কতটা বদলাবে তা এখনই বলা মুশকিল। কারণ হিজবুল্লাহ কম আসন পেলেও জোটভুক্ত হয়ে সরকার গঠনের সম্ভাবনা তাদের ফুরিয়ে যায়নি এখনো। আবার আরব নিউজ এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, হিজবুল্লাহর সবচেয়ে বড় সমালোচক দল সৌদিসমর্থিত খিস্ট্রান লেবানিজ ফোর্সেস পার্টি এবার সবচেয়ে বেশি আসন পেতে পারে। ফলে মূল ধারার রাজনৈতিক দলগুলোয় হয়তো সরকার গঠন করবে। প্রধানমন্ত্রী নাজিব মিকাটি নির্বাচনপরবর্তী সরকারের প্রধান হওয়ার জন্য এখনো আশাবাদী। এসব কিছু বিবেচনায় রেখে লেবানিজ-আমেরিকান ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক বাসাম লাহুদ সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে এই প্রতিবেদককে বলেছেন, ‘সংসদে বৈচিত্র্য আসবে। কিন্তু খুব বড় পরিবর্তন হবে, এ নিয়ে আমি অতটা আশাবাদী নই।’

advertisement