advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

ডলারের দামে সেঞ্চুরি

একদিনের ব্যবধানেই বাড়ল ৫ টাকা

নিজস্ব প্রতিবেদক
১৮ মে ২০২২ ১২:০০ এএম | আপডেট: ১৮ মে ২০২২ ০৮:৩২ এএম
advertisement

পাগলা ঘোড়ার বেগে ছুটছে মার্কিন ডলার। মাত্র একদিনের ব্যবধানে খোলাবাজারে ডলারের দাম ৫ টাকা বেড়ে ১০২ টাকা হয়েছে। রাজধানীর বিভিন্ন মানি এক্সচেঞ্জে গতকাল প্রতি ডলার সর্বোচ্চ ১০২ টাকায় বিক্রি হয়েছে। একদিন আগেও যা ছিল ৯৭ টাকা। এর আগে কখনই ডলারের দাম ১০০ টাকা অতিক্রম করেনি। আন্তঃব্যাংকের সঙ্গে খোলাবাজারের ডলারের দামের ব্যবধান এখন সাড়ে ১৪ টাকা।

রাজধানীর দিলকুশার খোলাবাজারের ডলার ব্যবসায়ী মো. ইকবাল আমাদের সময়কে বলেন, বাজারে ডলার নেই বললেই চলে। আমরা ১০১ টাকা ৫০ পয়সায় কিনেছি। বিক্রি করেছি ১০২ টাকায়।

advertisement

প্রবাসী আয়ের নিম্নমুখী প্রবণতা ও আমদানি ব্যয়ের অস্বাভাবিক বৃদ্ধিতে গত বছরের আগস্ট থেকে ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে ডলারের দাম। ফলে প্রতিনিয়ত ডলারের বিপরীতে টাকার মান কমে যাচ্ছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক সর্বশেষ সোমবার ডলারের দর বেঁধে দিয়েছে ৮৭ টাকা ৫০ পয়সা। কিন্তু তাদের বেঁধে দেওয়া এ রেট বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো মানছে না। বর্তমানে আমদানি পেমেন্টের ক্ষেত্রে ব্যবসায়ীদের প্রতি ডলারের জন্য গুনতে হচ্ছে প্রায় ৯৭ টাকা। নতুন এলসি খুলতেও বেশি রেট দাবি করছে ব্যাংকগুলো।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বেঁধে দেওয়া রেটের চেয়ে বাজারে বেশি দামে ডলার বিক্রি হচ্ছে বিষয়টি স্বীকার করে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র সিরাজুল ইসলাম আমাদের সময়কে বলেন, আমাদের কাছেও এ ধরনের অভিযোগ এসেছে। তবে বাজারের অস্থিরতা ঠেকাতেই ফের ডলারের রেট বাড়ানো হয়েছে। এ ছাড়া যখনই প্রয়োজন হচ্ছে তখনই কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে বাজারে ডলার সরবরাহ করা হচ্ছে।

করোনা পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ার পর থেকে দেশে অস্বাভাবিক গতিতে বাড়ছে বিভিন্ন পণ্যের আমদানি। মূলধনী যন্ত্রপাতি, শিল্পের কাঁচামাল, শিল্পের মধ্যবর্তী পণ্য, খাদ্যপণ্য, জ্বালানি তেলসহ সব পণ্যের আমদানিই এখন বেশ ঊর্ধ্বমুখী। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, চলতি অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে পণ্য আমদানি বেড়েছে প্রায় ৪৪ শতাংশ। একই সময়ে বিভিন্ন পণ্যের এলসি বেড়েছে প্রায় ৪৬ শতাংশ। ফলে আমদানিতে ডলারের চাহিদা বেশ বেড়েছে। কিন্তু ব্যাংকের কাছে ডলার আসার উৎস রেমিট্যান্স প্রবাহ কমছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে রেমিট্যান্স কমেছে প্রায় ১৬ শতাংশ।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য পর্যালোচনায় দেখা যায়, গত বছরের ২ আগস্ট আন্তঃব্যাংক মুদ্রাবাজারে প্রতি ডলারের দাম ছিল ৮৪ টাকা ৮০ পয়সা। গত সোমবার সেই দাম উঠে যায় ৮৭ টাকা ৫০ পয়সায়। ফলে ৯ মাসেরও কম সময়ে আন্তঃব্যাংকেই ডলারের দাম বেড়েছে প্রায় ২ টাকা ৭০ পয়সা। এর মধ্যে ১ টাকা ৩০ পয়সাই বেড়েছে গত ২১ দিনের ব্যবধানে।

বাজার নিয়ন্ত্রণে রেকর্ড ডলার বিক্রি : আমদানিতে ডলারের চাহিদা বৃদ্ধির পর থেকে ব্যাংকগুলোর কাছে ডলার বিক্রি অব্যাহত রেখেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। সোমবারও ১০ কোটি ৮০ লাখ ডলার বিক্রি করা হয়েছে। সব মিলিয়ে চলতি অর্থবছরের ১৬ মে পর্যন্ত বিভিন্ন ব্যাংকের কাছে ডলার বিক্রি করা হয়েছে ৫২১ কোটি ৬০ লাখ ডলার।

রিজার্ভে চাপ বাড়ছে : বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, গত বছরের ২৪ আগস্ট রিজার্ভের পরিমাণ ৪৮ বিলিয়ন ডলারের ঘর অতিক্রম করেছিল। ওইদিন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রিজার্ভের পরিমাণ দাঁড়ায় ৪৮.০৪ বিলিয়ন ডলার, যা অতীতের যে কোনো সময়ের চেয়ে বেশি। এক সময়ের এই রেকর্ড রিজার্ভ অব্যাহতভাবে কমতে কমতে এখন ৪১ বিলিয়ন ডলারের ঘরে নেমে এসেছে। গত ১১ মে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রিজার্ভের পরিমাণ ছিল ৪১ দশমিক ৯২ বিলিয়ন ডলার। এই রিজার্ভ দিয়ে ৫ মাসের আমদানি ব্যয় মেটানো সম্ভব। তা ছাড়া বর্তমানে আমদানি খরচ যেভাবে বাড়ছে, তাতে সামনে আরও কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

advertisement