advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

তামিমের সেঞ্চুরি বাংলাদেশের দিন

এম.এম. মাসুক,চট্টগ্রাম থেকে
১৮ মে ২০২২ ১২:০০ এএম | আপডেট: ১৮ মে ২০২২ ০৯:৩৩ এএম
advertisement

অর্ধেক কাজ হয়েছে। বড় কাজটি করতে হবে আজ। প্রচণ্ড গরমের মধ্যে দারুণ একটি সেঞ্চুরি উপহার দিলেন তামিম। উদ্বোধনীতে জয়ের সঙ্গে রেকর্ড জুটি দাঁড়িয়েছে। নাইম-মুশফিক অপরাজিত ফিফটির ইনিংস খেলেছেন। বাংলাদেশের জন্য চমৎকার একটি দিন। তৃতীয় দিনের খেলা শেষে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ফেসবুকে ‘জেমি সিডন্স কোচিং’ নামের নিজের পেজে তামিমের সেঞ্চুরির ছবি পোস্ট করে উপরোক্ত কথাগুলো লিখেছেন বাংলাদেশের ব্যাটিং কোচ জেমি সিডন্স। দিনশেষে সংবাদ সম্মেলনে এসেও ব্যাটিং নিয়ে নিজের সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন এই অস্ট্রেলিয়ান।

সিডন্সের বেশি খুশি হওয়ার পেছনে বড় কারণ বাংলাদেশের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স। দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে দুইবার একশ’র (৫৩ ও ৮০) কম রানে অলআউট হয়েছে বাংলাদেশ। সেই দীনহীন ব্যাটিং প্রদর্শনীর পর রানে ফিরেছেন ব্যাটাররা। তামিমের দুর্দান্ত সেঞ্চুরি, মাহমুদুলের ৫৮, মুশফিক (৫৩*) ও লিটনের (৫৪*) হার না মানা ফিফটির সুবাদে চট্টগ্রাম টেস্টের তৃতীয় দিনটি নিজেদের করে নিল বাংলাদেশ। দিনশেষে ৩ উইকেট হারিয়ে স্কোর বোর্ডে জমা পড়ে ৩১৮ রান। আর ৮০ রান করতে পারলে শ্রীলংকার বিপক্ষে প্রথম ইনিংসে লিড নেবেন টাইগাররা। নিশ্চয়- আজ বড় লিডের দিকেই নজর থাকবে তাদের। তৃতীয় দিনটি নিজেদের করেও নিলে মুমিনুল ও নাজমুল হোসেন শান্তর ব্যাটিংয়ে হতাশ করেছেন সবাইকে। টানা পাঁচ ইনিংসে ব্যক্তিগত রান দুই অংকের ঘরে নিয়ে যেতে পারেননি মুমিনুল। প্রিয় ভেন্যু সাগরিকায় নেমেও ব্যর্থতার বৃত্ত থেকে বেরিয়ে আসতে পারলেন না। রাজিতার বলে বোল্ড হন। তিন নম্বরে নেমে শান্তও সেই রাজিতার বলে উইকেট বিলিয়ে দিয়েছেন।

advertisement

দীর্ঘদিন ধরে উদ্বোধনী জুটি থেকে লম্বা রানের জুটি পাওয়া যাচ্ছিল না। পাঁচ বছর আগে (২০১৭ সালের মার্চে) শ্রীলংকার বিপক্ষেই উদ্বোধনীতে শত রানের জুটি পেয়েছিলেন তামিম ও সৌম্য সরকার (১১৮)। অনেক দিন পর তরুণ মাহমুদুল হাসান জয় ও অভিজ্ঞ তামিম মিলে ১৬২ রানের লম্বা রেকর্ড জুটি গড়লেন। অষ্টম বারের মতো টেস্টে উদ্বোধনী জুটিতে শত রান দেখল বাংলাদেশ। ১৬ ইনিংস পর সেঞ্চুরি পেলেন তামিম। ২০১৯ সালে হ্যামিল্টনে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ১২৬ রানের ইনিংস খেলার পর দুইবার নব্বইয়ের ঘরে গিয়েছেন (৯০ ও ৯২) ও তিনবার ৭৪ রানে গিয়ে আটকে যান। একবার ফিফটিতে পৌঁছাতেও পৌঁছান। কিন্তু সেঞ্চুরির দেখা মিলছিল না। অবশেষে সাফল্য ধরা দিয়েছে ঘরের উঠানে। বিশ্বের তেরতম ব্যাটসম্যান হিসেবে টেস্ট ক্রিকেটে দশটি সেঞ্চুরি পূর্ণ করার রেকর্ড গড়লেন তামিম। দেশের মাটিতে তার ষষ্ঠ সেঞ্চরি এটি। চট্টগ্রামের মাঠে দ্বিতীয়। এর আগে ২০১৪ সালে চট্টগ্রামের মাঠে প্রথম সেঞ্চুরি করেছিলেন তামিম। টেস্ট ক্রিকেটে দেশের পক্ষে সর্বোচ্চ ১১টি সেঞ্চুরি রয়েছে মুমিনুল হকের। ১৩৩ রান করার পর হাতে ক্র্যাম্প হওয়ায় রিটায়ার্ড হার্ট (আহত অবসর) হয়ে মাঠ থেকে উঠে যান তামিম। সুস্থবোধ করতে আজ ব্যাটিংয়ে নামতে পারেন তিনি।

স্নায়ু চাপ জয় করেছেন মাহমুদুল হাসান জয়। দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে ১৩৭ রানের ইনিংস খেলার পর ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারেননি এই তরুণ। টানা তিন ইনিংসে হতাশ হয়েছেন। এবার ঘরের মাঠে আত্মবিশ্বাস ফিরে পেয়েছেন। ফিফটি পূর্ণ করার লংকান ডানহাতি মিডিয়াম পেসার আসিথা ফার্নান্দোর বলে ভুগেছেন জয়। একবার বাউন্ডারিতে ক্যাচ ড্রপ হয় তার। পরে সেই আসিথার কাছেই উইকেট দেন এই ওপেনার। এর আগে ১৪২ বল খেলে ৯টি চারের সাহায্যে ৫৮ রানের ইনিংসটি সাজান জয়। অন্যদিকে সেঞ্চুরি পেতে পৌনে চার ঘণ্টার বেশি সময় ব্যাট চালিয়েছেন তামিম। ৬১ স্ট্রাইক রেটেই তার ব্যাটিংয়ের প্রতিচ্ছবি ফুঠে ওঠে। ইনিংস লম্বা করতে ১ ঘণ্টা ৪২ মিনিট ব্যাটিং করার পর রিটায়ার্ড হার্ট (আহত অবসর) হয়ে সাজঘরে ফিরে যান তিনি। এর আগে ক্যারিয়ারের তৃতীয় সর্বোচ্চ রানের ইনিংস খেলেন এই অভিজ্ঞ ওপেনার। তামিম ও মুশফিক টেস্ট ক্রিকেটে পাঁচ হাজার রান সংগ্রহের মাইলফলকের সামনে দাঁড়িয়ে। শ্রীলংকার হয়ে দুটি উইকেটই শিকার করেছেন শ্রীলংকার হয়ে কনকাশন সাব হিসেবে মাঠে নামা কাসুন রাজিতা। আগের দিন মাথায় আঘাত পেয়েছিলেন বিশ্ব ফার্নান্দো। গতকাল অবস্থার অবনতি হওয়ায় কনকাশন সাব হিসেবে রাজিতাকে নেয় শ্রীলংকা। তিনি ১১ ওভারে ১৭ রান দিয়ে ২ উইকেট পান।

advertisement