advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

চট্টগ্রামের পাহাড়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হলো ১৮৭ অবৈধ ঘরবাড়ি

চট্টগ্রাম ব্যুরো
২০ জুন ২০২২ ১২:০০ এএম | আপডেট: ২০ জুন ২০২২ ১২:৩০ এএম
ছবি : দৈনিক আমাদের সময়
advertisement

টানা ভারী বৃষ্টিতে চট্টগ্রাম নগরী ও আশপাশের এলাকায় জলাবদ্ধতা অব্যাহত রয়েছে। শঙ্খ নদীর দুই পারে সাতকানিয়া ও চন্দনাইশ এলাকার কোথাও কোথাও দেখা দিয়েছে বন্যা। অব্যাহত বৃষ্টির মধ্যে গতকাল রবিবার নগরীর পাহাড়ের পাদদেশ থেকে ১৮৭টি ঝুঁকিপূর্ণ স্থাপনা ও ঘরবাড়ি উচ্ছেদ করেছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) ও চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন। শুক্রবার গভীর রাতে আকবর শাহ এলাকায় পৃথক পাহাড়ধসে চারজনের মৃত্যুর পর গতকাল থেকে এসব পাহাড়ি এলাকায় উচ্ছেদ অভিযান শুরু হয়।

জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গতকাল বিকাল ৫টা পর্যন্ত বিভিন্ন পাহাড় থেকে প্রায় ১৮৭টি ঘর উচ্ছেদ করে সেখানে বসবাসরত পরিবারগুলোকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। গত শুক্রবার ভোর থেকে চট্টগ্রাম নগরী এবং আশপাশের এলাকায় বৃষ্টিপাত শুরু হয়। শনিবারও দিনভর কখনো হালকা, কখনো মাঝারিভাবে বৃষ্টিপাত হয়েছে, যা অব্যাহত থাকে গতকালও।

নগরীর পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিসের পূর্বাভাস কর্মকর্তা মাজহারুল ইসলাম বলেন, মৌসুমি বায়ু সক্রিয় থাকায় বজ্রসহ বৃষ্টিপাত হচ্ছে। এটা হালকা থেকে মাঝারি আকারে আরও দুই দিন অব্যাহত থাকবে। মঙ্গলবার বা বুধবার থেকে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ কমতে পারে।

পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিস গতকাল বেলা ৩টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় ১০৪ দশমিক ৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে। অন্যদিকে আমবাগান আবহাওয়া অফিস দুপুর ১২টা পর্যন্ত ৪৫ দশমিক ৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করে।

টানা বৃষ্টির মধ্যে শুক্রবার রাতে নগরীর নগরীর আকবর শাহ থানা এলাকায় দুটি পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটে। এতে চারজন নিহত ও দুজন আহত হন। নগরীর ফিরোজ শাহ কলোনির এক নম্বর ঝিল বরিশালঘোনা এলাকায় পাহাড়ধসে মারা যান শাহীনূর আক্তার (২৬) ও তার বোন মাইনুর আক্তার (২৪)। আহত হন তাদের বাবা-মা ফজল হক (৭০) ও মোশারা বেগম (৬৫)। নগরীর ফয়’সলেক সংলগ্ন সি ওয়ার্ল্ডের পাশে বিজয়নগর এলাকায় আরেকটি পাহাড়ধসের ঘটনায় লিটন (২৩) ও ইমন (১৪) নামে দুজন মারা যান।

এরপর শনিবার পাহাড়ে অভিযান চালিয়ে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাসরত ৩২ পরিবারকে সরিয়ে নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে নিয়ে যায় জেলা প্রশাসনের টিম। জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মমিনুর রহমান নিজেই উচ্ছেদ অভিযানে নামেন।

টানা বৃষ্টির মধ্যে রবিবার সকাল থেকে জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে আরও জোরালোভাবে পাহাড়ে উচ্ছেদ অভিযান শুরু হয়। জেলা প্রশাসনের তিন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নগরীর আকবর শাহ থানাধীন এক নম্বর ঝিল পাড় এলাকায় অভিযান শুরু করেন।

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের নেজারত ডেপুটি কালেক্টর (এনডিসি) ও সহকারী কমিশনার মো. তৌহিদুল ইসলাম বলেন, টানা অভিযান চলছে। বিকাল পর্যন্ত প্রায় ১৮৭ পরিবারকে আমরা পাহাড় থেকে সরিয়ে নিয়েছি। ঘরগুলো ভেঙে দিয়ে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। অন্যান্য পাহাড় থেকে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাসরতদের সরে যেতে মাইকিং করা হচ্ছে।

চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মো. মমিনুর রহমানও দুপুরে উচ্ছেদ কার্যক্রম পরিদর্শনে গিয়ে সাংবাদিকদের বলেন, পাহাড়ে অবৈধ ও ঝুঁকিপূর্ণ যেসব স্থাপনা উচ্ছেদ করা হচ্ছে সেখানে পুনরায় কেউ দখলে নিয়ে যেন স্থাপনা নির্মাণ করতে না পারে সেজন্য আমরা কাঁটাতারের বেড়া ও গাছ লাগিয়ে দেব। অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে সেখানে কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে সীমানা নির্ধারণ করা হবে। যদি কেউ এ সীমানা ভেঙে বসতি গড়ে তুলে, তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি বলেন, আমরা চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন এবং রেলওয়ে কর্তৃপক্ষকেও বলেছি তাদের আওতাধীন পাহাড়ি জায়গায় নির্মিত অবৈধ স্থাপনাগুলো উচ্ছেদ করে সেখানে কাঁটাতারের বেড়া ও গাছ লাগিয়ে সংরক্ষণ করতে। পাহাড়ে অবৈধ ও ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাসকারীদের বিরুদ্ধে আমাদের এ অভিযান অব্যাহত থাকবে।