advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

কুকি-চিন ন্যাশনাল ফ্রন্টের দায় স্বীকার
রাঙামাটির পল্লীতে গুলিতে নিহত ৩

জিয়াউর রহমান জুয়েল, রাঙামাটি
২৩ জুন ২০২২ ১২:০০ এএম | আপডেট: ২২ জুন ২০২২ ১১:২৭ পিএম
advertisement

রাঙামাটির বিলাইছড়ির দুর্গম পাহাড়ি পল্লীতে অস্ত্রধারীদের এলোপাতাড়ি গুলিতে বাবা-ছেলেসহ তিনজন নিহত হয়েছেন। এ সময় আহত হয়েছেন কয়েকজন। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ভারত সীমান্তবর্তী বড়থলী ইউনিয়নের সাইজাম পাড়ায় এ হত্যাকা- ঘটে। হামলা ও হত্যাকা-ের দায় স্বীকার করে পাহাড়ের নতুন সশস্ত্র সংগঠন কুকি-চিন ন্যাশনাল ফ্রন্ট (কেএনএফ) তাদের ফেসবুক পেজে পোস্ট দিয়েছে। স্থানীয় সূত্র জানায়, মঙ্গলবার

advertisement

সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে স্বশস্ত্র একদল সন্ত্রাসী সাইজাম পাড়ায় এসে এলোপাতাড়ি গুলি করতে থাকে। এতে গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলে তিনজন মারা যান। অনেকে আহত হয়েছেন। তবে সংখ্যা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। নিহতদের মধ্যে দুজনের নাম পাওয়া গেছে। তারা হলেন- বীজলা ত্রিপুরার ছেলে বিশ্ব চন্দ্র ত্রিপুরা (৫৮) তার ছেলে সুবাশ ত্রিপুরা ও সুরেন্দ্র ত্রিপুরার ছেলে চিতারাং ত্রিপুরা (৬৫)।

জেএসএস সদস্যদের আশ্রয় দেওয়ার অভিযোগ তুলে গ্রামে এ হামলা চালানো হয়েছে। কেএনএফের দাবি, নিহত তিনজন সন্তু লারমার নেতৃত্বাধীন জেএসএসের সদস্য। জেএসএসের ক্যাম্পে হামলা করে কুকি-চিন সফল হয়েছে বলেও দাবি করা হয় তাদের ফেসবুক পেজে। অবশ্য জেএসএস এ বিষয়ে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।

স্থানীয়দের বরাত দিয়ে বড়থলি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আতোমং মারমা বলেন, গত ৬ জুন সাইজাম পাড়ায় জেএসএস ও কুকি-চিন দলের মধ্যে সংঘাত হয়। এতে কুকি-চিন বেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এ জন্য সাইজাম পাড়ার ত্রিপুরাদের দায়ী করে কুকি-চিন পার্টি। পাড়াবাসীকে গ্রাম থেকে চলে যেতেও হুমকি দেওয়া হয় ওই পার্টি থেকে। মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে গুলি করতে করতে সন্ত্রাসীরা সাইজাম পাড়ায় ঢোকে। অনেকে পালিয়ে গিয়ে প্রাণ রক্ষা করেছেন। বর্তমানে পাড়ার লোকেরা সবাই বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে জঙ্গলে আশ্রয় নিয়েছেন।

বিলাইছড়ি উপজেলা চেয়ারম্যান বীরোত্তম তঞ্চঙ্গ্যা বলেন, মূলত কুকি-চিন পার্টি গ্রামে এসে এলোপাতাড়ি গুলি করে গ্রামবাসীদের হত্যা করেছে। এ ছাড়া বেশ কয়েকজন আহত হয়ে থাকতে পারে।

জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিএসবি) কর্মকর্তা মো. আব্দুল্লাহেল বাকী বলেন, বিষয়টি শুনেছেন। তবে এলাকাটি দুর্গম, তাই এখনো সেখানে পৌঁছে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

রাঙামাটি অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) মাহমুদা বেগমও প্রায় একই বলেন, আমরা বড়থলিতে গোলাগুলি হয়েছে শুনেছি। কিন্তু বিস্তারিত জানতে পারছি না। দুর্গমতার কারণে সেখানে যোগাযোগ বেশ কষ্টসাধ্য। আমরা খোঁজখবর নিচ্ছি।

advertisement