advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

আড়াই লাখ মানুষ পানিবন্দি প্রশাসন বলছে ৮৫ হাজার

ওসমানীনগর (সিলেট) প্রতিনিধি
২৩ জুন ২০২২ ১২:০০ এএম | আপডেট: ২২ জুন ২০২২ ১১:৪৬ পিএম
advertisement

ভারী বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে কুশিয়ারা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলার প্রায় দেড় শতাধিক গ্রাম বন্যার পানিতে প্লাবিত হয়েছে। এতে আড়াই লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। তবে উপজেলা প্রশাসনের তালিকায় রয়েছে মাত্র ৮৫ হাজার। ফলে ত্রাণ সহায়তাও পেতেও বিলম্ব হচ্ছে বলে জানিয়েছে বন্যাদুর্গতরা।

advertisement

বন্যার পানি অব্যাহত বৃদ্ধি পাওয়ায় আশ্রয়কেন্দ্র্রে উঠছেন পানিবন্দি মানুষ। তবে বেশির ভাগ আশ্রয়কেন্দ্রও রয়েছে পানিবন্দি। তলিয়ে গেছে টিউবওয়েল। সংকট দেখা দিয়েছে বিশুদ্ধ পানির। খাবারের জন্য হাহাকার করছেন পানিবন্দি মানুষ। বেশিরভাগ আশ্রয়কেন্দ্রে সরকারি সহায়তা না পৌঁছায় আশ্রয়কেন্দ্রের বাসিন্দারাও ভুগছেন খাদ্য সংকটে। দুএকটি ইউনিয়ন থেকে সরকারি বরাদ্দের ১০ কেজি করে চাল বিতরণ করা হলেও রান্না করার মতো ব্যবস্থা না থাকায় বিপাকে রয়েছেন বন্যা আক্রান্তরা। অনেক ইউনিয়নের এক সপ্তায়ও বানভাসি মানুষের হাতে এখনো ত্রাণ সহায়তা পৌঁছেনি। কিছু কিছু সামাজিক সংগঠন বা ব্যক্তি উদ্যোগে ত্রাণ সহায়তা দেওয়া হচ্ছে যা সকল আশ্রয়কেন্দ্রে পৌঁছানো সম্ভব হচ্ছে না।

অভিযোগ উঠেছে বন্যা আক্রান্ত মানুষের প্রকৃত সংখ্যা উপজেলা প্রশাসন প্রকাশ করছে না। স্থানীয়রা বলছেন, বন্যা আক্রান্তদের সঠিক কোনো তালিকা উপজেলা প্রশাসন তৈরি করতে পারেনি। একেক সময় একেক তালিকা করলেও সঠিক কোনো তালিকা প্রশাসন প্রকাশ করছে না। ফলে বানভাসি মানুষের সরকারি ত্রাণ সহায়তা পেতেও বিলম্ব হচ্ছে।

সূত্র জানায়, উপজেলার ৮টি ইউনিয়নের মধ্যে উসমানপুর ইউনিয়নের ৩০ হাজার, বরুঙ্গা ইউনিয়নের ২০ হাজার, গোয়ালাবাজার ইউনিয়নে ৪০ হাজার, দয়ামীর ইউনিয়নে ২৫ হাজার, উমরপুর ইউনিয়নের ২৫ হাজার, তাজপুর ইউনিয়নের ৩০ হাজার, পশ্চিম পৈলনপুর ইউনিয়নে ৩০ হাজার, সাদিপুর ইউনিয়নে ৩৫ হাজার মানুষ পানিবন্দি রয়েছেন। সব মিলিয়ে উপজেলায় প্রায় আড়াই লাখ মানুষ পানিবন্দি রয়েছেন। সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও প্যানেল চেয়ারম্যানরা এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

উপজেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, মঙ্গলবার পর্যন্ত ১ হাজার ৩১ পরিবারের ৮৪ হাজার ৯৮০ জন মানুষ বন্যা আক্রান্ত রয়েছে। তাদের জন্য ৪১টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। এখন পর্যন্ত সরকারি বরাদ্দ ২৪ টন চাল ও নগদ সাড়ে ৩ লাখ টাকা বিতরণ কার্যক্রম চলমান। উপজেলার একাধিক আশ্রয়কেন্দ্রে গিয়ে দেখো গেছে, এক সপ্তায়ও সরকারি কোনো ধরনের খাদ্য সহায়তা বহু মানুষের হাতে পৌঁছেনি। সাদিপুর ইউনিয়নের খসরুপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের আশ্রয়কেন্দ্রে গিয়ে দেখা গেছে সরকারিভাবে কোনো খাদ্য সহায়তা দেওয়া হয়নি তাদের। স্থানীয় এক ব্যক্তির উদ্যোগে কিছু পরিমাণ চিড়া পেয়েছেন তারা। উপজেলা বেশিরভার আশ্রয়কেন্দ্রেরই চিত্র এমন।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মিলন কান্তি রায় বলেন, পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় বন্যা আক্রান্তদের সংখ্যাও বৃদ্ধি পাচ্ছে। তাই স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে যোগাযোগসহ বিভিন্ন মাধ্যমে আমরা বন্যা আক্রান্তদের সঠিত তথ্য তুলে আনার চেষ্টা করছি।

advertisement