advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

সাহস-সক্ষমতা-সমৃদ্ধির নাম পদ্মা সেতু

ড. কাজল রশীদ শাহীন
২৪ জুন ২০২২ ১২:০০ এএম | আপডেট: ২৪ জুন ২০২২ ১০:৪১ এএম
advertisement

স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের বিজয় অর্জনের পর বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় অর্জন হলো পদ্মা সেতু নির্মাণের স¦প্ন ও বাস্তবায়ন। যা উদ্বোধনের মাহেন্দ্রক্ষণে দাঁড়িয়ে রয়েছি আমরা। সম্পূর্ণ নিজস্ব অর্থায়নে এ রকম একটা সেতু নির্মাণে সাফল্য অর্জন করায় বাংলাদেশের সক্ষমতা এখন বিশে^র বিস্ময়। মোট ৩০ হাজার ১৯৩ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হয়েছে দ্বিতল এই সেতু। যার প্রস্থ ৭২ ফুট আর লেনসংখ্যা চার, পিলারের সংখ্যা ৪২ এবং দৈর্ঘ্য ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার। ২০১৫ সালের ডিসেম্বরে পাইলিং ও নদীশাসনের কাজ উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তার পর একদিনের জন্যও বন্ধ হয়নি কাজ, এমনকি করোনা কোভিড মহামারীর সময়েও। কাজ বাধাগ্রস্ত হয়েছে, বাজেট বেড়েছে কিন্তু আটকে থাকেনি কোনো কিছুর জন্যই।

যা ছিল একদা অসম্ভব, কেবলই স্বপ্নমাত্র। তাই আজ প্রতিষ্ঠিত এক বাস্তব সত্য। আগামীকাল ২৫ জুন থেকে স্বপ্নের পদ্মা সেতু খুলে দেওয়া হবে যান চলাচলের উদ্দেশ্যে, শুরু হবে তার স্বাভাবিক কার্যক্রম। যার পেছনে রয়েছে রূপকথার গল্পকে হার মানানো সাহসী এক গল্প। যে গল্পের ক্যানভাসজুড়ে রয়েছে একটা দেশের সক্ষমতা আর সামর্থ্যরে গৌরবগাথা। একজন মানুষের চ্যালেঞ্জ গ্রহণের অদম্য মানসিকতা। তিনি হলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। যিনি স্বপ্ন দেখতে জানেন এবং সেই স্বপ্ন পুরো জাতির মধ্যে সঞ্চারিত করতেও পারেন। সেই স্বপ্নের নাম পদ্মা সেতু। যা এখন বাস্তব। কদিন আগেও যা ছিল অধরা, অলীক কল্পনা। আকাশ-পাতাল স্বপ্ন দেখা এক প্রগলভতা। তাই-ই ধ্রুপদী এক সত্যরূপে মাথা তুলে দাঁড়িয়েছে প্রমত্ত পদ্মার বুকে, বাংলাদেশের আকাশজুড়ে।

advertisement

বাংলাদেশ ছোট্ট একটা দেশ। স্বাধীনতা অর্জনের বয়সও নয় খুব বেশি। সবে পার করেছে সুবর্ণজয়ন্তী। বিশ^ মানচিত্রে এ রকম দেশের সংখ্যা খুবই কম, হাতেগোনা। দক্ষিণ এশিয়ায়ও সবচেয়ে নবীন, কিন্তু ব্যতিক্রম। রক্তক্ষয়ী এক যুদ্ধের মাধ্যমে অর্জন করেছে স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের বিজয়। যে বিজয়ের মহানায়ক ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। যিনি বিশ^াস করতেন, ‘সাত কোটি বাঙালিকে দাবায়ে রাখতে পারবা না।’ স্বাধীনতার স্থপতির ‘দাবায়ে রাখতে পারবা না’- এই দর্শন স্বাধীন বাংলাদেশ ধারণ করতে পেরেছে কতটুকু?

সুবর্ণজয়ন্তী পেরিয়ে দেশটি যদি তাকায় নিজস্ব ভূগোলে। জারি রাখে প্রশ্ন, কতটা পথ পাড়ি দিল আর কী পেল? যে দেশের স্বাধীনতার জন্য আত্মোৎসর্গ করেছে ত্রিশ লাখ মুক্তিযোদ্ধা। সম্ভ্রম হারিয়েছে তিন লাখেরও বেশি মা-বোন। এই প্রশ্নের উত্তরে কদিন আগেও হাজের-নাজেল করতে হতো অনেকগুলো উদাহরণ। কিন্তু এখন সেসবকে তুলে রাখতে হয় ঝুল বারান্দার শিকোয়। এখন কেবল এক নামে- এক উদাহরণে দেওয়া যায় সব জবাব। যে কোনো সমীকরণের জুতসই সমাধান। মাত্র দুটো শব্দে, এক নামে ‘পদ্মা সেতু’ বললেই হাজির হয়ে যায় ছাপান্ন হাজার বর্গমাইলেরই এক ভূখ-ের স্বপ্ন-সাধ ও আকাক্সক্ষার সৌধ। ‘পদ্মা সেতু’ শব্দবন্ধ উচ্চারণের সঙ্গে সঙ্গে পঞ্চাশ বছর বয়সী বাংলাদেশের সাহস-সংকল্প-সমৃদ্ধির চিত্রটা হয়ে যায় স্পষ্ট ও অনন্য। বিশ^ মানচিত্রে পদ্মা সেতু এখন বাংলাদেশ ও বাঙালির ‘সিগনেচার নেম’। সুকান্ত ভট্টাচার্য যে বলেছিল, ‘সাবাশ, বাংলাদেশ, এ পৃথিবী/ অবাক তাকিয়ে রয়;/ জ¦লে-পুড়ে-মরে ছারখার/ তবু মাথা নোয়াবার নয়।’ বাংলাদেশ সেটা প্রমাণ করেছে। যা ছিল একদা কবির কল্পনা, তা এখন বাস্তব। রূপকথাকে হার মানানো আরেক রূপকথা। যা সংঘটিত হয়েছে আমাদের কালে, আমাদের দেশে, আমাদের চোখের সামনে, আমাদের সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায়। সত্যিই, পদ্মা সেতুর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ অসম্ভবকে সম্ভব করেছে। প্রত্যেক বাঙালিকে দিয়েছে দেশকে নিয়ে গর্ব করার অনন্য এক স্থাপনা-মহোত্তম দেশপ্রেম। বাংলাদেশের সাহস-সংকল্প ও সমৃদ্ধিকে আকাশের মাপে মাপে বর্ণিল ও বর্ণাঢ্য করেছে পদ্মা সেতু। যা নয় মোটেই অতিশয়োক্তি। বরং ধ্রুপদী এই অর্জন কালের পরিক্রমায় মহাকালের গর্ভে চিরায়ত এক সত্য হিসেবে অক্ষয়-অমলিন অমর হয়ে থাকবে। বাঙালির দেশপ্রেম ’৭১-এ যেমন স্পষ্ট হয়েছে- তেমনি স্পষ্ট হয়েছে জাতীয় ঘটনার সব সংকটে- দেশমাতৃকার সব প্রয়োজনে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দুর্লভ নেতৃত্বগুণে স্বাধীন হয়েছিল এই দেশ। সব ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করে নিশ্চিত করা হয়েছিল স্বাধীনতা ও মুক্তি সংগ্রামের নিশ্চিত বিজয়। রূপকথার এক গল্প সংঘটিত হয়েছিল ’৭১-এ। ঠিক তার পঞ্চাশ বছর পর ২০২২ এসে সংঘটিত হলো আরেক রূপকথা। যার ভরকেন্দ্রে রয়েছেন বঙ্গবন্ধুর জ্যেষ্ঠ কন্যা শেখ হাসিনা। এ বুঝি ইতিহাসেরই চাওয়া। নৈবেদ্য পূর্ণ করার অভিলাষ সমাপ্ত করে বুঝি এভাবেই। রবীন্দ্রনাথ যে বলেছিলেন, ‘হে অতীত তুমি ভুবনে ভুবনে/ কাজ করে যাও গোপনে গোপনে।’ ইতিহাসের গোপন কাজ আবিষ্কৃত হয়- পরিণতি পায় মহানায়কদের প্রযতেœ। বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে বাঙালি পেয়েছিল প্রথমবারের মতো স্বাধীন-সার্বভৌম এক দেশ, লাল-সবুজের পতাকা। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাঙালি পেল পদ্মা সেতুর মতো অনন্য এক স্থাপনা। এই সেতু বাঙালিকে নতুন করে জাতীয়তাবাদের মন্ত্রে দীক্ষিত করবে। বাংলাদেশকে একসূত্রে গ্রথিত করবে। বাঙালির জাতীয় জীবনে ডেকে আনবে নব-উন্নয়নের জোয়ার-নবপ্রাণের আনন্দ। পদ্মা সেতু নির্মাণ ও বাস্তবায়নের স্বপ্ন সহজ ছিল না মোটেই। পদে পদে ছিল বাধা। পথ ছিল কণ্টকাকীর্ণ দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্র ছিল বিস্তর। বঙ্গবন্ধু যেমন পাকিস্তানের সিকি শতাব্দীতে কোনো রক্তচক্ষুকেই পরোয়া করেননি। বঙ্গবন্ধু কন্যাও সব ষড়যন্ত্রকে পায়ের তলার ভৃত্য বানিয়ে নিজ লক্ষ্যে থেকেছেন অটল ও অবিচল। পদ্মা সেতু নির্মাণের প্রশ্নে থেকেছেন নিঃশঙ্কচিত্ত এক যোদ্ধা। হয়ে উঠেছিলেন জাতীয়তাবাদী এক নায়কের সাক্ষাৎ প্রতিমূর্তি-বিরলপ্রজ এক রাষ্ট্রনায়ক। পদ্মা সেতু উদ্বোধনের মাহেন্দক্ষণে দাঁড়িয়ে সবাই তাই উচ্চারণ করছে অমেয় এক উবাচ। সাহস-সংকল্প আর সমৃদ্ধির বাংলাদেশের নাম পদ্মা সেতু। বিষয়টাকে খোলতাই করা যায় এভাবে।

এক. সাহস : পদ্মা বাংলাদেশের বৃহত্তম নদী তো বটেই, বৈশিষ্ট্যেও বিশে^র বিরল নদীসমূহের অন্যতম। প্রমত্তাগুণে আমাজানের সমধর্মী। এ রকম একটা নদীশাসন সহজ কথা নয়। পদ্মা নদীতে আজ থেকে একশ বছরেরও অধিক সময় আগে যখন হার্ডিঞ্জ ব্রিজ নির্মাণ করা হয়, তখনো বেগ পেতে হয়েছিল ভীষণভাবে। ভেড়ামারা-ঈশ^রদীর ষোলদাগ-রূপপুর এলাকায় ব্রিজটি নির্মিত হলেও নদীশাসন করতে হয়েছে বাহাদুর-কুচিয়ামোড়ার রায়টা এলাকা থেকে। পদ্মায় সেতু নির্মাণ করা দুরূহ তো বটেই- অসম্ভবও। কিন্তু এখানেই সাহসের পরিচয় দিলেন বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। যত দুরূহ হোক- যত অসম্ভবই হোক, পদ্মা সেতু নির্মাণ তিনি করবেনই। নিজে সাহসী হলেন- জাতিকেও সাহস দেখালেন। এই সাহসই পদ্মা সেতু নির্মাণের ক্ষেত্রে সবচেয়ে কার্যকর ভূমিকা।

দুই. সংকল্প : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কেবল সাহসী হলেন না, সংকল্পবদ্ধও হলেন। কাজী নজরুল ইসলাম যেমন বলেছিলেন, ‘বিশ^জগৎ দেখব আমি আপন হাতের মুঠোয় পুরে।’ প্রধানমন্ত্রীও যেন করেছিলেন সে রকম পণ, পদ্মা সেতু তিনি বাস্তবায়ন করবেন। জটিল ও দুরূহ নদীশাসন প্রক্রিয়া এবং বৃহৎ বাজেটের অঙ্কটা অবহিত হওয়ার পরও যখন সাহসী হলেন- শুরু করলেন প্রকল্পের কার্যক্রম। ঠিক তখুনি নির্মাণ সহায়তাকারী-সহযোগী প্রতিষ্ঠানসমূহ নিজেদের গুটিয়ে নিলেন সব ধরনের বিনিয়োগ কার্যক্রম থেকে। মিথ্যে এক দুর্নীতির অভিযোগ তুলে সাহায্যের পাততাড়ি সরিয়ে নিলেন তারা। বেগতিক অবস্থায় সবাই যখন শর্ষে ফুল দেখলেন চোখে। হতাশ-হতোদ্যম হয়ে ক্ষান্ত দিতে চাইলেন রণে। প্রধানমন্ত্রী তখনো অবিচল। তিনি সাহসকে পুঁজি করে সংকল্পবদ্ধও হলেন। তিনি সাহসী ও সংকল্পবদ্ধ হওয়া মানে গোটা বাংলাদেশ-বাঙালি জাতি সাহসী ও সংকল্পবদ্ধ হওয়া। বাস্তবে হলোও সেটাই।

তিন. প্রবৃদ্ধি : সাহসী ও সংকল্পবদ্ধ তো হলেন, কিন্তু পদ্মা সেতুর মতো দ্বিতল-সড়ক ও রেলসেতুর বিশাল ব্যয় সংকুলান হবে কোত্থেকে? দাতা দেশ ও ঋণপ্রদানকারী সংস্থাগুলো তো মিথ্যে অভিযোগে ফিরিয়ে নিয়েছে মুখ। তা হলে কী হবে উপায়। সাহস ও সংকল্পবদ্ধ হওয়ার পরও কি থেমে যাবে পদ্মা সেতুকে ঘিরে দেখা জাতির যূথবদ্ধ স্বপ্ন? প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা দিলেন নিজস্ব ব্যয়ে নির্মিত হবে পদ্মা সেতু। যেই কথা সেই কাজ। শুরু হলো অসাধ্য সাধনের কর্মযজ্ঞ।

পদ্মা সেতু কেন গুরুত্বপূর্ণ : বাংলাদেশের জন্য পদ্মা সেতু অনেকগুলো কারণে গুরুত্বপূর্ণ। এর মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি হলো-

এক. পদ্মা সেতু চালু হলে মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) বাড়বে। ২০০৫ সালের পদ্মা সেতুর সম্ভাব্যতা যাচাই সমীক্ষা অনুযায়ী, এই সেতু চালু হলে সারাদেশে ১ দশমিক ২৩ শতাংশ এবং দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে ২ দশমিক ৩ শতাংশ জিডিপি বাড়বে।

দুই. যোগাযোগব্যবস্থায় অভূতপূর্ব গতি সঞ্চার করবে পদ্মা সেতু। প্রধান তিন নদী পদ্মা, যমুনা ও মেঘনা দেশের ভূখ-কে প্রধানত তিনটি ভাগে ভাগ করেছে। পূর্বাঞ্চলে সিলেট ও চট্টগ্রাম বিভাগ। পশ্চিমাঞ্চলে রাজশাহী, রংপুর, খুলনা ও বরিশাল বিভাগ এবং মধ্যাঞ্চল মূলত ঢাকাকে ঘিরে। স্বাধীনতার পঞ্চাশ বছরে রাজধানী ঢাকার সঙ্গে পূর্বাঞ্চল ও উত্তরাঞ্চলের সঙ্গে যোগাযোগব্যবস্থা পর্যায়ক্রমে বিস্তৃত হলেও পশ্চিমাঞ্চল ছিল বিচ্ছিন্ন। বঙ্গবন্ধু, মেঘনা, ভৈরব ও মেঘনা গোমতী সেতু যেমন পূর্ব ও উত্তরকে রাজধানীর সঙ্গে যোগাযোগকে সহজ দ্রুত করেছে। পদ্মা সেতু শুধু পশ্চিমাঞ্চল নয়, সারাদেশকে ্একসুতোয় বেঁধে দেওয়ার কাজটি হবে।

তিন. ফেরির তুলনায় যোগাযোগের ক্ষেত্রে সময় লাগবে অনেক কম। মানুষের ভোগান্তি কমবে। এবং সময় বেশি লাগার কারণে পচনশীল যেসব জিনিস ঢাকায় আনা সম্ভব হতো না। বিশেষ করে মাছ, ফল-ফুল ও শাকসবজি সেগুলো সহজেই ঢাকায় আনা সম্ভব হবে। ফলে অর্থনৈতিক লেনদেন বাড়বে এবং মানুষের কর্মসংস্থান ও ভাগ্যেন্নয়নের সুযোগ ও সম্ভাবনা কয়েকগুণ বেড়ে যাবে।

চার. পশ্চিমাঞ্চলের দুটো সামুদ্রিক বন্দরকেই এখন চট্টগ্রাম বন্দরের সঙ্গে সার্বক্ষণিক কাজে লাগানো সম্ভব হবে। আমদানি-রপ্তানি খাত বিকশিত হবে। ভারী শিল্পের বিকাশ ঘটবে ক্রমান্বয়ে আর ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পের বিকাশ হবে দীর্ঘমেয়াদে।

পাঁচ. পদ্মা সেতু চালু হওয়ার পর ব্যবসা-বাণিজ্যে গতি সঞ্চারিত হলে পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের আয় বেড়ে যাবে এবং দাবিদ্র্য বিমোচন ঘটবে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) দারিদ্র্য মানচিত্র বলছে, পদ্মার ওপারে জেলা রয়েছে ২১টি, এর মধ্যে ৫৩টি উপজেলা রয়েছে উচ্চ দারিদ্র্য ঝুঁকিতে, ৪২টি মধ্যম দারিদ্র্য এবং ৩৮টি রয়েছে নিম্ন দারিদ্র্য ঝুঁকিতে। পদ্মা সেতু চালু হওয়ার পর এই চিত্র দ্রুতই বদলে যাবে বলে মনে করা হচ্ছে।

ছয়. পদ্মা সেতু চালু হলে কিছু পেশা বিলুপ্ত হওয়ার যেমন ঝুঁকি রয়েছে, তেমনি নতুন নতুন পেশাও যুক্ত হবে। এবং সেখানে ব্যাপক আয়ের সুযোগ তৈরি হবে। পর্যটনের সুযোগ তৈরি হবে এবং একে ঘিরে বড় ধরনের অর্থনৈতিক লেনদেনের সম্ভাবনা দেখা দেবে।

সাত. কৃষি ও পরিবহনশিল্পে বিপ্লব সাধিত হবে। দেশের পশ্চিমাঞ্চলের কৃষি ও পরিবহনশিল্প অবিকশিত ছিল কেবল পদ্মা নদীর কারণে। আধুনিকতার ছোঁয়া বঞ্চিত এই দুই শিল্প শিগগিরই দেশের অন্যান্য অঞ্চলকেও টেক্কা দেবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট খাত বিশেষজ্ঞরা।

‘হঠাৎ নিরীহ মাটিতে কখন,/ জন্ম নিয়েছে সচেতনতার ধান,/ গত আকালের মৃত্যুকে মুছে/ আবার এসেছে বাংলাদেশের প্রাণ।’ সুকান্তের কবিতাকে সাক্ষী রেখে আমাদেরও প্রত্যয় ও এই প্রতীতি যে কবির সেই ‘সচেতনতার ধান’ আজকের বাংলাদেশের ‘পদ্মা সেতু’রূপে আবিভূত হয়েছে। জারি করেছে তার হাজির নাজেল। এই সচেতনতার ধান- এই পদ্মা সেতুর রূপকার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। যিনি ‘আকালের মৃত্যুকে মুছে’ দিতে বাংলাদেশের উন্নয়ন ত্বরান্বিত করতে- পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের দুঃখ-কষ্ট-বেদনা মুছে দিতে নির্মাণ করেছেন স্বপ্নের পদ্মা সেতু। যে সেতু এখন হয়ে উঠেছে বাংলাদেশের মানুষের সাহস, সংকল্প ও প্রবৃদ্ধির প্রতীক। জাতীয়তাবাদী চেতনার ধারক ও বাহক। বাংলাদেশকে একসূত্রে বাঁধার বীজমন্ত্র। বাঙালির প্রাণে প্রাণে ‘দাবায়ে রাখতে পারবা না’ বারতা দেওয়ার মোহন অমৃত।

 

ড. কাজল রশীদ শাহীন : সাংবাদিক, সাহিত্যিক ও

গবেষক

advertisement