advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

সালিশে অপমানিত হয়ে অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে খুন
১৯ বছর পর মৃত্যুদণ্ডের আসামি গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক
২৪ জুন ২০২২ ১২:০০ এএম | আপডেট: ২৩ জুন ২০২২ ১১:৩৬ পিএম
advertisement

সিরাজুল ইসলামের সঙ্গে আবদুল জলিলের মেয়ে জুলেখা বেগমের বিয়ে হয় ২০০২ সালে। বিয়ের কিছু দিন না যেতেই যৌতুকের জন্য স্ত্রীকে শারীরিক ও অমানুষিক নির্যাতন করতে থাকেন সিরাজুল। এমনকি যৌতুক না দিলে তালাক দেওয়ারও ভয়ভীতি দেখাতেন। এরই মধ্যে জুলেখা অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েন। একপর্যায়ে সিরাজুল তার প্রতিবেশী মোশারফ নামে এক যুবকের সঙ্গে জুলেখার পরকীয়ার সম্পর্ক আছে বলে মিথ্যা অভিযোগ তোলেন। এই নিয়ে সালিশ হলে সেখানে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণ করতে না পারায় অপমান করা হয় সিরাজুলকে। এর জেরে আট মাসের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে হত্যার পরিকল্পনা করেন তিনি। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০০৩ সালের ৬ ডিসেম্বর জুলেখার গলায় গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে তাকে হত্যা করে লাশ মানিকগঞ্জের কালীগঙ্গা নদীর পাড়ে ফেলে পালিয়ে গিয়েছিলেন সিরাজুল। ৭ ডিসেম্বর পুলিশ জুলেখার মরদেহ উদ্ধার করে। এরপর জুলেখার বাবা আবদুল জলিল সিংগাইর থানায় সিরাজুল, তার বড় ভাই রফিকুল, মা রাবেয়া বেগম, খালু শামসুল, চাচা ফাইজুদ্দিন ও তাইজুদ্দিন এবং মামা আবুল হোসেনসহ মোট ৭ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার বিচারে সিরাজুলের মৃত্যুদ- হয়। কিন্তু এরপর ১৯ বছর কেটে গেলেও খুনি সিরাজুলকে ধরতে পারছিল না পুলিশ। অবশেষে গত বুধবার নারায়ণগঞ্জের সদর থানার চর সৈয়দপুর এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব-৪। গতকাল রাজধানীর

advertisement

কারওয়ান বাজারে র‌্যাবের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান র‌্যাব-৪ এর অধিনায়ক ডিআইজি মো. মোজাম্মেল হক। তিনি জানান, ২০০২ সালের জুলাইয়ে আসামি মানিকগঞ্জ সদর থানার বাহেরচর এলাকার সিরাজুলের সঙ্গে সিংগাইর থানার উত্তর জামশা গ্রামের জুলেখার পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। বিয়ের সময় যৌতুক হিসেবে বেশকিছু নগদ অর্থ, গহনা ও আসবাবপত্র বরপক্ষকে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু আরও যৌতুকের জন্য সিরাজুল প্রায়ই জুলেখার ওপর অত্যাচার করতেন। একপর্যায়ে পরকীয়ার সম্পর্কের অভিযোগ তুলে জুলেখার ওপর সিরাজুল নির্যাতন বাড়িয়ে দেন। অতিষ্ঠ হয়ে জুলেখার বাবা ও ভাইসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে গ্রামে সালিশ বৈঠক হয়। সেখানে ভিকটিমের কোনো দোষ না পেয়ে সিরাজুলকে গালিগালাজ করা হয়। এ ঘটনার জেরে সিরাজুল আরও ক্ষিপ্ত হয়ে জুলেখাকে হত্যার পরিকল্পনা করেন। পূর্বপরিকল্পনার অংশ হিসেবে ২০০৩ সালের ৫ ডিসেম্বর সিরাজুল স্ত্রীকে নিয়ে শ্বশুরবাড়ি সিংগাইরের উত্তর জামশা গ্রামে যান। পরদিন সিরাজুল স্ত্রীকে ডাক্তার দেখানোর কথা বলে বাইরে নিয়ে কালীগঙ্গা নদীর পাড়ে শ্বাসরোধে খুন করে লাশ নদীর পাড়ে ফেলে পালিয়ে যান। এ ঘটনায় জুলেখার বাবা সিরাজুলসহ সাতজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিরাজুল ও তার ভাই রফিকুল, মা রাবেয়া এবং খালু শামসুলসহ মোট ৪ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট প্রদান করে। বাকি ৩ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় চার্জশিট থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। এ মামলায় ২০০৫ সালের শেষের দিকে মানিকগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ মো. মোতাহার হোসেন সিরাজুলকে মৃত্যুদ- দেন। অপর ৩ আসামিকে খালাস দেওয়া হয়। কিন্তু সিরাজুল এত দিন পলাতক ছিলেন।

advertisement