advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

শনাক্তকরণ প্রযুক্তি সংকট
ঠেকানো যাচ্ছে না মাদক

বিশ্ব মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচারবিরোধী দিবস

নিজস্ব প্রতিবেদক
২৬ জুন ২০২২ ১২:০০ এএম | আপডেট: ২৫ জুন ২০২২ ১১:৫২ পিএম
advertisement

দেশের মাদকসেবীর সংখ্যা প্রতিদিনই বাড়ছে। পাল্লা দিয়ে বাড়ছে মাদকের পাচার। তেমনি নিত্যনতুন মাদকের আবির্ভাব ঘটছে। এর মধ্যে পশ্চিমা দেশগুলো থেকে আসা সাইকোডেলিক মাদক- লাইসার্জিক অ্যাসিড ডাই-ইথালামাইড (এলএসডি), ডাই মিথাইল ট্রিপ্টামিন (ডিএমটি) ও ম্যাজিক মাশরুম (সিলোসাইবিন)। এ ছাড়া উদ্ধার হচ্ছে ক্রিস্টাল মেথ আইস, নিউ সাইকো-অ্যাকটিভ সাবস্টেনসেস (এনপিএস) বা খাত, এস্কাফ সিরাপ ও ডিওবির মতো মাদক।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নতুন আসা মাদকগুলোর মধ্যে সাইকোডেলিক মাদকগুলোর চালান ঠেকানো সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কারণ এসব মাদক শনাক্তের প্রযুক্তি নেই দেশে। এমনকি মাদকগুলোর বিষয়ে পরিচিত নয় স্বয়ং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। ফলে ধনাঢ্য পরিবারের সন্তানরা এসব মাদকের দিকে ঝুঁকে পড়ছেন। যদি দেশের বাজারে এসব মাদকের চালান বাড়তে থাকে, তাহলে দাম কমে সব শ্রেণির মাদকাসক্তের মধ্যে ছড়িয়ে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

advertisement 3

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মাদকের বিরুদ্ধে সমন্বিত কর্ম পরিকল্পনা নিয়ে মাঠে নেমেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)। শুধু ধরপাকড় নয়, এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে প্রতিটি ইউনিয়নের ওয়ার্ড পর্যায়ে মাদকাসক্তদের চিকিৎসা, কাউন্সিলিং ও সচেতনতা বাড়িয়ে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। ইতোমধ্যে দেশের বিভিন্ন জায়গায় কর্মশালা করার মাধ্যমে এই কর্মপরিকল্পনার কাজ শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন ডিএনসি

advertisement 4

কর্মকর্তারা। সমাজ ও অপরাধ বিশেষজ্ঞ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহকারী অধ্যাপক তৌহিদুল হক বলেন, বাংলাদেশে যারা মাদক নিয়ন্ত্রণে কাজ করছেন, তাদের দায়িত্বে অবহেলা, অত্যাধুনিক মাদক শনাক্তের প্রযুক্তি না থাকা, মাদককারবারিদের সঙ্গে যোগসাজশসহ নানারকম ফাঁকি থাকায় কাজের কাজ হচ্ছে না।

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের প্রধান ও অতিরিক্ত কমিশনার একেএম হাফিজ আক্তার বলেন, নিত্যনতুন কৌশলে, এমনকি মহিলা ও শিশুরাও পেটের মধ্যে করে মাদক পরিবহন করছে। এসব ঘটনায় যাদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে, তারা জামিনে বেরিয়ে আবার মাদক ব্যবসায় যুক্ত হচ্ছে।

র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‌্যাব) আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বলেন, টেকনাফ সীমান্ত দিয়েই ইয়াবা ও আইস আসছে এটা সত্য। অনেক রোহিঙ্গা মাদক চোরাচালানে জড়িয়ে পড়ায় বিষয়টি আরও ব্যাপকতাও পেয়েছে।

ডিএনসির পরিচালক (অপারেশন্স) কুসুম দেওয়ান বলেন, ভৌগোলিক কারণে মাদকের গোল্ডেন ট্রায়াঙ্গেল, গোল্ডেন ওয়েজ, গোল্ডেন ভিলেজ ও গোল্ডেন ক্রিসেন্ট এলাকাগুলোর জন্য সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ হচ্ছে বাংলাদেশ। এর থেকে পরিত্রাণ পেতে ‘সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা’ নামে নতুন কর্মসূচি শুরু করা হয়েছে।

প্রতিবছরের মতো এ বছরও আজ রবিবার সারাবিশ্বে পালিত হচ্ছে মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচারবিরোধী আন্তর্জাতিক দিবস। এবারের প্রতিপাদ্য- মাদক সেবন রোধ করি, সুস্থ সুন্দর জীবন গড়ি। দিবসটি উপলক্ষে ডিএনসি সকালে রাজধানীর রমনা পার্কের দক্ষিণ-পূর্ব পাশে মাদকবিরোধী মানববন্ধন ও র‌্যালি করবে। পাশাপাশি ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আলোচনাসভার আয়োজন করা হয়েছে। এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল।

advertisement