advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

ওয়ারীতে নারী চিকিৎসক দগ্ধ রহস্যে পুলিশ

নিজস্ব প্রতিবেদক
২৬ জুন ২০২২ ১২:০০ এএম | আপডেট: ২৬ জুন ২০২২ ০১:৫১ এএম
advertisement

রাজধানীর ওয়ারীতে নিজ ঘরে দগ্ধ হয়েছেন স্যার সলিমুল্লাহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের (মিটফোর্ড) শিশু বিভাগের রেজিস্ট্রার ডা. অদিতী সরকার (৩৮)। আর সেই ঘটনাকে রহস্যজনক বলছেন তদন্তসংশ্লিষ্টরা। পুলিশের ভাষ্য, স্বামীর সঙ্গে রাগারাগির জেরে গত শুক্রবার দুপুর সোয়া ১২টার দিকে নিজেই শরীরে জীবাণুনাশক হেক্সিসল ঢেলে আগুন দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন অদিতী। শরীরের ৫০ শতাংশ দগদগে পোড়া ঘা নিয়ে বর্তমানে শেখ হাসিনা বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আইসিইউর বিছানায় জীবনমৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন এ চিকিৎসক।

তবে দগ্ধের স্বামী প্রকৌশলী মানষ মণ্ডলের দাবি, কোনো মনমালিণ্য নয়। আত্মহত্যার চেষ্টাও করেননি অদিতী। এটি একটি নিছক দুর্ঘটনা। ওয়ারীর ১০নং হেয়ার স্ট্রিটের ষষ্ঠ তলায় তাদের বাসার পুজোর ঘরে আগে থেকেই দাহ্যপদার্থ হেক্সিসল ছিল। শুক্রবার দুপুরে পুজো দেওয়ার আগে বোতলটি কোনোভাবে অদিতীর পায়ে লেগে পড়ে যায়। পুজোর মণ্ডপে দিওয়ার আগুন জ্বালাতে গেলে তা হেক্সিসলের সংস্পর্সে এসে মুহূর্তেই অদিতীর শরীরে ছড়িয়ে পড়ে। মানষ মণ্ডল ও তাদের দুই সন্তান তখন ঘটনাস্থলের পাশের রুমে ছিলেন।

advertisement 3

ওয়ারী থানার ওসি কবির হোসেন হাওলাদার জানান, মিটফোর্র্ড হাসপাতালের নারী চিকিৎসক দগ্ধের ঘটনার বিস্তারিত জানতে তদন্ত চলছে। অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় দগ্ধ অদিতী সরকারের বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি। তবে স্বামীর সঙ্গে রাগারাগি করে তিনি নিজের শরীরে আগুন ধরিয়ে দেন বলে বার্ন ইনস্টিটিউটের চিকিৎসকদের কাছে স্টেটমেন্ট দিয়েছেন ভিকটিম। আবার তার স্বামী বলছেন, ঘটনাটি দুর্ঘটনা। দগ্ধ চিকিৎসক ও তার স্বামীর বক্তব্য খতিয়ে দেখা হচ্ছে। চিকিৎসক অদিতী সুস্থ হলে ঘটনার বিস্তারিত জানার পর পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

advertisement 4

দগ্ধ চিকিৎসকের স্বামী প্রকৌশলী মানষ মণ্ডলের সঙ্গে গতকাল শনিবার কথা হয়। তিনি আমাদের সময়কে জানান, চিকিৎসক অদিতী বেশ কিছুদিন ধরে শারীরিকভাবে অসুস্থ ছিলেন। অসুস্থতার কারণে গত বৃহস্পতিবার নিউমার্কেট এলাকায় মাথা ঘুরে পড়ে যান। তাই বারবার চিকিৎসা নিতে বললেও চিকিৎসা নিতে চাচ্ছিলেন অদিতী। শুক্রবার সকালে কাজে চলে যান মানষ। এর পর অনলাইনে একটি সাক্ষাৎকার দেওয়ার সময় মোবাইল ফোনে কল দিচ্ছিলেন অদিতী। বারবার সেটি কেটে দেওয়া সত্ত্বেও ফোন করায় পরে রিসিভ করে সামান্য রাগের সুরে কথা বলেন মানষ। কাজ শেষে দুপুরে বাসায় ফিরে জামাকাপড় পাল্টাচ্ছিলেন তিনি।

তাদের দুই সন্তানসহ পরিবারের লোকজন তখন বাসাতেই ছিলেন। হঠাৎ পাশের পুজোর কক্ষ থেকে অদিতীর চিৎকার ভেসে আসে। ওই রুমে গিয়ে দেখেন অদিতীর শরীরে দাউ দাউ করে আগুন জ্বলছে। সঙ্গে সঙ্গে তাকে বাথরুমে নিয়ে পানি ঢালেন পরিবারের সদস্যরা। এর পর ৯৯৯ নম্বরে কল করে একটি অ্যাম্বুলেন্স ডেকে বার্ন ইনস্টিটিউটে নিয়ে আসেন মানষ। বাসায় কিছু দাহ্যপদার্থ (হেক্সিসল) ছিল, পুজোর আগে অসাবধানতাবশত সেখানেই আগুন লাগে। যারা ঘটনাটি আত্মহত্যার চেষ্টা বলে প্রচার করছেন, তারা মূলত প্রপাগান্ডা ছড়াচ্ছেন। ঘটনার বিষয়ে জানতে হাসপাতালে ও বাসায় পুলিশ এসে তথ্য নিয়ে গেছে। অন্যকিছু নয়, ঘটনাটি শ্রেফ দুর্ঘটনা।

শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আবাসিক সার্জন ডা. এসএম আইয়ুব হোসেন জানান, ওই নারী চিকিৎসকের শরীর ৫০ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে। অবস্থা সংকটাপন্ন হওয়ায় তাকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) পাঠানো হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, এটি সুইসাইডাল এটেম। তবে পুলিশি তদন্তের পর ঘটনার প্রকৃত রহস্য জানা যাবে।

advertisement