advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

শ্রীলংকায় জ্বালানি সংকট
ঘরে বসে কাজ করার আহ্বান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
২৮ জুন ২০২২ ১২:০০ এএম | আপডেট: ২৮ জুন ২০২২ ১০:০৫ এএম
advertisement

সাত দশকের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ আর্থিক সংকটে পড়া শ্রীলংকায় চলছে ব্যাপক জ্বালানি সংকট। পেট্রলের জন্য পাম্পের সামনে দীর্ঘলাইন দিয়ে যারা অপেক্ষা করছেন, তাদের টোকেন দিচ্ছেন সেনাসদস্যরা। এদিকে কলম্বোয় স্কুল বন্ধ রয়েছে।

বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ তলানিতে ঠেকার রেকর্ড হওয়ায় দ্বীপরাষ্ট্র শ্রীলংকায় খাদ্য, ওষুধ, জ্বালানিসহ নিত্যপণ্য আমদানি করা যাচ্ছে না। এমন পরিস্থিতিতেই জ্বালানির সমবণ্টন নিশ্চিত করতে টোকেন দেওয়ার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে সেনাবাহিনীকে। স্কুল বন্ধ ও ঘরে বসে কাজ করে জ্বালানি সাশ্রয়ের চেষ্টা করছে সরকার।

advertisement 3

অটোরিকশা চালান ডব্লিউ ডি শেলটন। তার বয়স ৬৭ বছর। সেনাবাহিনীর কাছ থেকে পেট্রল পাম্পের লাইনে দাঁড়ানোর একটি টোকেন পেয়েছেন তিনি। পেট্রল এলে অন্যদের মতো তিনিও পেট্রল পাবেন। শেলটন বললেন, ‘আমি চার দিন ধরে লাইনে দাঁড়িয়ে আছি। এই চার দিন আমি পর্যাপ্ত ঘুম, এমনকি পর্যাপ্ত খেতেও পারিনি।’

advertisement 4

শেলটন রাজধানী কলম্বোয় যে পেট্রল পাম্পের লাইনে দাঁড়িয়েছেন, সেই লাইনটিতে তার অবস্থান ২৪তম। পেট্রল এলে আগে ২৩ জন পাবেন। তারপর তিনি পাবেন। পেট্রল পাম্প থেকে বাড়ির দূরত্ব পাঁচ কিলোমিটার হলেও, যেতে না পারা শেলটন বলেন, ‘উপার্জন না থাকায় পরিবারের জন্য খাবারও কিনতে পারছি না।’ শ্রীলংকায় এখন প্রায় ৯ হাজার টন ডিজেল ও ৬ হাজার টন পেট্রলের মজুদ রয়েছে।

এ তথ্য দেন শ্রীলংকার বিদ্যুৎ ও জ্বালানিবিষয়ক মন্ত্রী কাঞ্চনা উইজেসেকারা। গতকাল সোমবার এ তথ্য জানিয়ে বলেন, আপাতত জ্বালানির কোনো চালান আসার কথা নেই। মজুদ জ্বালানি দিয়ে কত দিন চলা যাবে, তা সরকার জানে না।

এদিকে জ্বালানি সাশ্রয়ের চেষ্টায় সরকারি কর্মচারীদের ঘরে বসে অফিসের কাজ চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তবে কত দিন এভাবে ঘরে বসে কাজ করতে হবে, তা বলা হয়নি। এদিকে এক সপ্তাহ ধরে কলম্বো ও আশপাশের এলাকাগুলোয় স্কুল বন্ধ। গত সপ্তাহ থেকে জ্বালানি স্টেশনের লাইনে মানুষের সংখ্যাও বাড়ছে।

চরম দুর্দশাকে চরম দুঃখের বিষয় হিসেবে বর্ণনা করেন অটোরিকশাচালক শেলটন। তিনি বলেন, ‘এটা একটা ট্র্যাজেডি। আমরা জানি না এর শেষ কোথায়।’

 

advertisement