advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

পদ্মা সেতুর প্রথম দিন
সাফল্য ধরে রাখতে সচেতনতা ও সতর্কতা প্রয়োজন

২৮ জুন ২০২২ ১২:০০ এএম
আপডেট: ২৮ জুন ২০২২ ১২:৩১ এএম
advertisement

পদ্মা সেতুতে প্রথম দিনেই রেকর্ড পরিমাণ গাড়ি উঠেছে। আট ঘণ্টার প্রথম দুই পালায় প্রায় ১৬ হাজার যানবাহন এতে উঠেছে ও পদ্মা পাড়ি দিয়েছে। ফলে টোল প্লাজার আয়ও প্রত্যাশার চেয়ে অনেক হয়েছে। তবে প্রথম দিনের উচ্ছ্বাস ও উত্তেজনা তো আর বছরজুড়ে থাকবে না। তা সত্ত্বেও বলা যায়, এ সেতু হওয়ার ফলে দক্ষিণের মানুষের চলাচল আরও বাড়বে। বোধহয় এতে সবচেয়ে উপকারভোগী হবেন দক্ষিণের ২১টি জেলার যেসব মানুষ রাজধানী এবং উত্তর ও পূর্ব-পশ্চিমের বিভিন্ন জেলায় যেতে চায়, তারা। প্রথম দিনের এক বাসযাত্রী জানালেন, ফেরি পেরিয়ে তিনি বরিশাল থেকে ঢাকায় এসেছিলেন ৯ ঘণ্টায় আর সেতুর ওপর দিয়ে ঢাকা থেকে বরিশাল ফিরেছেন মাত্র তিন ঘণ্টায়। এতে একটি বাস ঢাকা-বরিশাল রুটে দিনে দুটি ট্রিপ দিতে পারবে। আবার কর্মীব্যক্তিরা রাজধানীতে কাজ সেরে দিনে দিনে বাড়িও ফিরতে পারবেন। ফলে তাদের খরচ অনেক কমে যাবে।

advertisement

অর্থনীতিবিদরা জানাচ্ছেন, পদ্মা সেতু তৈরির ফলে পুরো দেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি হবে ১ দশমিক ২৩ শতাংশ এবং দক্ষিণের আঞ্চলিক জিডিপি বাড়বে ২ দশমিক ৫ শতাংশ। এক অর্থনীতিবিদ হিসাব কষে বলেছেন, দেশের জিডিপির ১ দশমিক ২৩ শতাংশকে অর্থে রূপান্তর করলে দাঁড়াবে ৪২ হাজার কোটি টাকা। অর্থাৎ পূর্ণোদ্যমে সেতুর ব্যবহার শুরু হলে এটি নির্মাণে যে ৩০ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে, এক বছরেই এর বেশি উপার্জন হবে। ফলে এ সেতু কেবল একটি মেগাপ্রকল্প নয়, কেবল আমাদের সক্ষমতা ও মর্যাদার প্রতীকই নয়- এটি হবে আমাদের অর্থনৈতিক মুক্তি ও বিকাশের অবলম্বন। এভাবেই সঠিক স্থান নির্বাচন করে যথাযথ প্রকল্প গ্রহণ করলে তা দেশের আর্থসামাজিক অগ্রগতির জন্য যে সহায়ক হবে, এতে সন্দেহ নেই। তবে সতর্কতার সঙ্গেই এগোতে হবে। সেতুর ব্যবহারে সবার সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে এবং এটির রক্ষণাবেক্ষণে কোনো রকম শৈথিল্যও দেখানো যাবে না। প্রথম দিনে সেতু কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা মানা হয়নি, কখনো কখনো সেতুর ওপর নৈরাজ্যের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, এমনকি মোটরসাইকেল আরোহী দুজন প্রাণও হারিয়েছেন। এত ঘটনা-দুর্ঘটনার পর সরকারকে সেতুর ওপর আপাতত মোটরসাইকেল চলাচলে নিষেধাজ্ঞা দিতে হয়েছে।

পদ্মা সেতুর সাফল্য যেমন সরকারের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়েছে, তেমনি বাড়িয়েছে জনগণের প্রত্যাশা। এখনই অনেকে পদ্মা নদীতে দ্বিতীয় সেতু নির্মাণের কথা তুলেছেন। আমাদের দেশে জনসংখ্যার আধিক্য ও পদ্মার দুইপাড়ে বিস্তীর্ণ জনপদ থাকায় নিশ্চয় এ নদীতে আরও সেতুর কথা উঠবে। বিশ্বের অনেক বড় বড় নদীতে জনচাহিদা ও অর্থনৈতিক প্রয়োজনে অনেক সেতু আছে। মিসরের বিখ্যাত নীল নদের ওপর কেবল কায়রোতেই আছে ৯টি সেতু। ইউরোপের সবচেয়ে বড় নদী দানিউবের ওপর আছে মোট ১৩৩টি সেতু এবং এশিয়ার দীর্ঘতম নদী চীনের ইয়াংসিকিয়াংয়ের ওপর আছে ১০০টির বেশি সেতু। আমরা কেবল বলব- বাংলাদেশের ভূমির বৈশিষ্ট্য, আর্দ্রতা ও জলবায়ুর পরিবর্তনের প্রভাব এবং জীববৈচিত্র্যের গুরুত্ব অনুধাবন করেই আমাদের এ ধরনের আরও স্থাপনা নির্মাণের ক্ষেত্রে অগ্রসর হতে হবে। সংশ্লিষ্ট সবাই যেন এদিকটি বিবেচনায় রাখেন।

advertisement