advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

জ্বালানি তেল
দাম বাড়লেও ভর্তুকি বজায় রাখতে হবে

২৯ জুন ২০২২ ১২:০০ এএম
আপডেট: ২৯ জুন ২০২২ ০৭:৪১ এএম
প্রতীকী ছবি
advertisement

জ্বালানি তেলের দাম আবারও বৃদ্ধির প্রস্তুতি চলছে। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের সূত্র জানাচ্ছে, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়তে থাকায় বর্তমানে করপোরেশন প্রতিদিন প্রায় শতকোটি টাকা লোকসান গুনতে বাধ্য হচ্ছে। আগেই জানা ছিল, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাব পড়বে জ্বালানি তেলের বাজারে। ইউরোপ এবং কিছু অংশে যুক্তরাষ্ট্র তেল ও গ্যাসের জন্য মূলত রাশিয়ার ওপর নির্ভরশীল ছিল। আবার ইউরোপে রুশ তেল ও গ্যাস সরবরাহের পাইপলাইন গেছে ইউক্রেনের ভেতর দিয়ে। ফলে এই যুদ্ধের কারণে ইউরোপের জ্বালানি সংকট দিনে দিনে গভীর হচ্ছে। তারাও এখন আমাদের মতোই জ্বালানি তেলের জন্য মূলত মধ্যপ্রাচ্যের ওপর নির্ভর করছে। চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় তাদের তেলের দাম স্বভাবতই বেড়ে চলেছে। এর ভার এখন বাংলাদেশের সাধারণ মানুষকেও বহন করতে হবে।

ডিজেল, পেট্রোল, অকটেন ও কেরোসিনের জন্য বাংলাদেশ সম্পূর্ণ আমদানির ওপর নির্ভরশীল। জ্বালানি তেলের মধ্যে আবার দেশীয় বাজারের ৭০ শতাংশই রয়েছে ডিজেলের ওপর নির্ভরশীল। ডিজেলে চলে বড় ও ভারী যানবাহন এবং সেচকর্ম। আমাদের পরিবহন ও যোগাযোগ খাত সম্পূর্ণই ডিজেলনির্ভর। তাই জ্বালানি তেলের দাম বাড়লে বাসের যাত্রীভাড়া ও বাজারে পণ্যমূল্যে এর তাৎক্ষণিক প্রভাব পড়বে। জ্বালানি তেলে সরকার বরাবর ভর্তুকি দিয়ে আসছে। এখন দাম বৃদ্ধিতে ভর্তুকির পরিমাণ কমবে। কিন্তু ব্রেক ইভেন হবে না। তবে এ পর্যায়ে কৃষি উৎপাদনের গতি ঠিক রাখা ও নিম্ন থেকে মধ্যবিত্ত পর্যন্ত মানুষের জীবনযাপন মোটামুটি স্বচ্ছন্দ রাখার জন্য তেলে ভর্তুকি অব্যাহত রাখা প্রয়োজন।

advertisement

আমাদের তেলের জন্য নতুন উৎসের কথাও ভাবতে হবে। এমনকি অন্য দেশের মাধ্যমে কম দামে রুশ তেলও আমদানি করা যায় কিনা, তা দেখতে হবে। তবে বিশ্ব পরিস্থিতি ও অর্থনীতির অবস্থা ঠিক রাখার জন্য প্রয়োজন হলো বিশ্ব থেকে যুদ্ধ এবং সংঘাত নির্মূল করা। রাশিয়ার ইউক্রেন অভিযান দ্রুত বন্ধ করা প্রয়োজন। এ কাজে জাতিসংঘকে আরও উদ্যোগী ভূমিকা নিতে হবে। কেননা যতই দিন গড়াচ্ছে, ততই রাশিয়ার পশ্চিমাংশের নতুন নতুন দেশ ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ন্যাটোর সদস্য হওয়ার জন্য উদ্যোগ নিচ্ছে। এতে পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করবে, ইউক্রেন যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হবে, প্রাণ ও সম্পদহানি আরও বাড়বে। সব মিলিয়ে এতে বিশ্ব অর্থনীতির সংকট ব্যাপক আকার ধারণ করবে। ফলে উন্নয়নশীল ও স্বল্পোন্নত দেশগুলোকেও দ্রুত একত্র হয়ে শান্তি এবং সমঝোতার বাতাবরণ তৈরির জন্য কাজ করতে হবে। না হলে বিশ্বের ভবিষ্যৎ চরমভাবে অনিশ্চিত হয়ে পড়বে।

 

advertisement