advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা স্থপতি স্বর্ণকন্যা শেখ হাসিনা

মোস্তাফা জব্বার
২৯ জুন ২০২২ ১২:০০ এএম | আপডেট: ২৮ জুন ২০২২ ১১:৪৬ পিএম
advertisement

(পঞ্চশ পর্ব)

advertisement

বস্তুত আমি দেখি যে, নিজের হাতে কম্পিউটার দিয়ে কাজ করা থেকেই তিনি একটি ডিজিটাল দেশের স্বপ্ন দেখেন। তিনি ডিজিটাল বাংলাদেশ ধারণার জন্য তার সন্তানের কথা বলেন। বস্তুত তার চাইতে ডিজিটাল ধারণা সম্ভবত বাংলাদেশের ডিজিটাল শিক্ষকদেরও নেই। এখনো তিনি যে অসাধারণভাবে দেশের ডিজিটাল রূপান্তরকে সামনে নিয়ে যেতে সচেষ্ট আছেন তাতে তার তুলনা তিনি একাই। ২০০১ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের পরাজয় আমাদের মতো স্বাধীনতার পক্ষের মানুষদের জন্য সবচেয়ে বিপজ্জনক সময় হয়ে দাঁড়ায়। সবারই জানা যে, ২০০১-এর নির্বাচনের পর আওয়ামী লীগকে সরকারি দলের নির্যাতন থেকে বেঁচে থাকার লড়াইটাই আগে করতে হয়েছে। আমি নিশ্চিত দলটি আওয়ামী লীগ না হলে বা শেখ হাসিনা তার নেতৃত্ব না দিলে সেই সময়ে আওয়ামী লীগ টিকেই থাকতে পারত না। ২০০৫ সালের দিকে নেত্রী আমাকে আওয়ামী লীগের মিডিয়া টিম সমন্বয় করার দায়িত্ব দেন এবং লুৎফুজ্জামান বাবরের বিরুদ্ধে নির্বাচন করার জন্য বলেন। আমি মিডিয়া টিম সমন্বয় করতে রাজি হলেও নির্বাচন করতে রাজি হইনি। সেই সময়ে আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহার লেখার কাজ চলতে থাকে। মুহিত ভাই এই কাজের নেতৃত্ব দেন। তবে মূল কাজটা হতো নূহ উল আলম লেনিনের হাতে। সমন্বয়টা সে করত এবং নেত্রীর কাছে ইশতেহার সেই উপস্থাপন করত। আমার ওপর তথ্যপ্রযুক্তি অংশটা লেখার ভার পড়ে। আমরা ২০০৬ সালের নির্বাচনের জন্য ইশতেহার লিখি। ২০০৭ সালে আমি ডিজিটাল বাংলাদেশ ধারণা নিয়ে লেখালেখি করতে শুরু করি। ২০০৮ সালে যখন নির্বাচন অনুষ্ঠানের সময় হয় তখন ৬ ডিসেম্বর, ২০০৮ আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহার শেষবারের মতো সম্পাদনা করা হয় যেদিন রূপকল্প ২০২১-এর আওতায় আমি ডিজিটাল বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার কথা লিখি। সবাই জানেন নেত্রী ১২ ডিসেম্বর ২০০৮ সেই ইশতেহার ঘোষণা করেন এবং সাড়ে ৭ বছর ধরে বাংলাদেশকে ডিজিটাল বাংলাদেশ হিসেবে গড়ে তোলার অসামান্য নেতৃত্ব দিয়ে যাচ্ছেন। তার এই্ নেতৃত্ব কেবল আমাদের দেশের জন্য নয়, দুনিয়ার উন্নত দেশগুলোর জন্যও অনুসরণীয় দৃষ্টান্ত। এজন্যই বারাক ওবামা কেনিয়াকে এবং নরেন্দ্র মোদি ভারতকে বাংলাদেশ থেকে ডিজিটাল রূপান্তর শেখার আহ্বান জানিয়েছেন। একই কারণে মালদ্বীপ আমাদের সঙ্গে চুক্তি করেছে এবং আমরা এখন নেপাল-ভুটানের ডিজিটাল রূপান্তরের কাজ করে দিচ্ছি। আমি মনে করি শেখ হাসিনা ডিজিটাল বাংলাদেশ ঘোষণা করে জাতির পিতার নেতৃত্বে গড়ে তোলা দেশটাকে শত বছর এগিয়ে নিয়ে গেছেন। আমরা যদি গত সাড়ে সাত বছরে তার সফলতার সব দিকের দিকে নাও তাকাই তবুও কেবল তথ্যপ্রযুক্তির বিকাশ তথা ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার জন্য তিনি বাংলার স্বর্ণকন্যা। আমরা তাকে ডিজিটাল কন্যাও বলতে পারি।

স্বর্ণকন্যা : বাংলাদেশে এখন নারীদের অবস্থান কতটা বদলেছে সেটি আমরা সবাই জানি। দেশের প্রধানমন্ত্রী, স্পিকার ও বিরোধীদলীয় নেত্রীই কেবল নারী নন, প্রধান বিরোধীদলীয় নেত্রীও নারী। নারীরা এখন মোট শিক্ষার্থীদের শতকরা ৫৩ ভাগ। এই তথ্যগুলো বাংলাদেশের নারীদের পরিবর্তনের কথাই তুলে ধরে। অন্যদিকে মুসলিমপ্রধান পাকিস্তানসহ দুনিয়ার অন্য দেশগুলোতে নারীদের শিক্ষা গ্রহণ করাই অপরাধ। বাংলাদেশের এই নারীদের মাঝে বেগম রোকেয়া, সুফিয়া কামাল, নুরজাহান বেগম বা জাহানারা ইমামদের নাম আমরা স্মরণ করি। কিন্তু এই দেশে একজন মাত্র নারী জন্মেছেন যাকে আমি স্বর্ণকন্যা বলছি। আমি এটা বুঝি যে, কোনো একটি কারণেই একজন মানুষকে এমন একটি অভিধা দেওয়া যায় না। আমি শেখ হাসিনার সামগ্রিক বিষয় বিবেচনা করেই বলছি যে, তিনি আমাদের স্বর্ণকন্যা। নারী বলে তাকে কন্যা বলছি। তিনি বস্তুত স্বর্ণমানব।

আমি তার সবগুলো বিষয়কে এই নিবন্ধে তুলে ধরতে পারব না। বস্তুত তথ্যপ্রযুক্তি আমার বিষয় বলে শুধু এই বিষয়েই তার অসাধারণ ও অতুলনীয় ভূমিকাটি তুলে ধরতে চাই। এর আগে আমি উল্লেখ করেছি যে, শেখ হাসিনা হচ্ছেন দেশের প্রথম রাজনৈতিক দলীয় প্রধান, যিনি তার দলকে তথ্যপ্রযুক্তিতে সমৃদ্ধ করেন। তিনি সেই কাজটি করেন আশির দশকে। এর পর তিনি ইতিহাস গড়েন নির্বাচন পদ্ধতিতে তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে। ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে তিনি প্রথম তথ্যপ্রযুক্তিকে ব্যাপকভাবে ব্যবহার করেন।

স্মরণে রাখা দরকার, তিনিই দেশের প্রথম রাজনৈতিক দলের নেত্রী যিনি দলের জন্যও তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করেন।

১৯৯৬ সালের নির্বাচনে বাংলাদেশের প্রথম ডিজিটাল নিউজ সার্ভিস আবাস-এর মাধ্যমে ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহার করে তিনি নির্বাচনী প্রচার চালান। ততদিনে অবশ্য তার দলের অফিসিয়াল কার্যক্রম ডিজিটাল হয়ে গেছে। নির্বাচনের সময় তিনি যখন কোনো জনসভায় বক্তব্য দিতে ঢাকার বাইরে যেতেন তখন তার সঙ্গে আবাস-এর একটি ছোট দলও থাকত। জনসভার খবর জনসভার স্থলে বসেই কম্পিউটারে কম্পোজ করে ফেলা হতো। একই সঙ্গে ফিল্মে তোলা ছবি স্থানীয় কোনো স্টুডিওতে ডেভেলপ করে স্ক্যান করে টিএন্ডটির ফোনে মডেম যুক্ত করে সেটি আবাস-এর ঢাকার সেগুনবাগিচা অফিসে পাঠানো হতো এবং সেখান থেকে মডেমের মাধ্যমেই ঢাকা, ঢাকার বাইরে ও বিদেশে ছবি ও খবর পৌঁছে দেওয়া হতো। এছাড়া সবাই জানেন শেখ হাসিনার সরকার ১৯৯৮-৯৯ সালের বাজেটে কম্পিউটারের ওপর থেকে শুল্ক প্রত্যাহার করে। তারও আগে ’৯৬ সালে ভিস্যাট স্থাপন করার অনুমতি অব্যাহত রেখে দেশকে অনলাইন ইন্টারনেটে সংযুক্ত করে।

২০০৮ সালের ১২ ডিসেম্বর ডিজিটাল বাংলাদেশ কর্মসূচি ঘোষণা করার পর ২০০৯ সাল থেকে দেশটির যে রূপান্তর ঘটাতে থাকেন তার ফলে বাংলাদেশ এখন ডিজিটাল দুনিয়ার একটি বিস্ময়ের নাম। একদিকে তিনি কৃষি-শিল্প উৎপাদন, বৈদেশিক মুদ্রা উপার্জন, মানবসম্পদের দেশে-বিদেশে কার্যকরভাবে ব্যবহারের পাশাপাশি ব্যক্তি, সমাজ, সরকার ও রাষ্ট্রের সামগ্রিক ডিজিটাল রূপান্তর করে বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন। অন্যদিকে তার রূপকল্প একুশ, এসডিজি গোল ২০৩০, জ্ঞানভিত্তিক সমাজ ও উন্নত-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার পরিকল্পনা ৪১ অথবা ডেল্টা প্ল্যান ২১০০ পর্যালোচনা করলে এটি স্পষ্ট হবে যে, তিনি বঙ্গবন্ধুর কেবল জেনেটিক উত্তরাধিকারী নন, বরং তিনিই বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ে তোলার স্থপতি। আমি মনে করি যদি ২০০১ সালে আমরা পরাজিত না হতাম তবে বাংলাদেশ তথ্যপ্রযুক্তিতে অন্তত ৭ বছর আগে আজকের অবস্থানে পৌঁছাত। ২০০১ সালে বিজয়ী সরকার কেবল যে রাজনৈতিকভাবে দেশটাকেই ছিন্নভিন্ন করে তাই নয়, দেশের তথ্যপ্রযুক্তি খাতকে গুঁড়িয়ে দেয়। শেখ হাসিনার সরকার যেসব ইতিবাচক পদক্ষেপ গ্রহণ করে সেগুলোকে বিনষ্ট করে দেওয়া হয়। ’৯৭ সালে শেখ হাসিনা কালিয়াকৈরের যে জায়গাটিকে হাইটেক পার্ক হিসেবে গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন সেটি তারেক রহমানের খাম্বা লিমিটেড জবরদখল করে রাখে। বেগম জিয়ার মন্ত্রী মঈন খানের দুর্নীতির খবর তো সবারই জানা। (চলবে)

মোস্তাফা জব্বার : ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার

তথ্যপ্রযুক্তিবিদ, কলাম লেখক

advertisement