advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

রাবি শিক্ষার্থীর ‘মৃত্যু’র ঘটনায় স্বামী কারাগারে

রাবি প্রতিনিধি
৩০ জুলাই ২০২২ ০৯:১৭ পিএম | আপডেট: ৩১ জুলাই ২০২২ ১০:১২ এএম
রাবি শিক্ষার্থী রিক্তা । ছবি : সংগৃহীত
advertisement

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) শিক্ষার্থী রিক্তা আক্তারের ‘মৃত্যু’র ঘটনায় তার স্বামী ইসতিয়াক রাব্বিকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। গতকাল শুক্রবার রাত ১২টার দিকে নগরীর ধরমপুর পূর্বপাড়ার একটি বাসা থেকে ওই শিক্ষার্থীকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তার স্বামী রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেন। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

পরে রিক্তার বাবা লিয়াকত আলী বাদী হয়ে জামাতার বিরুদ্ধে রাজশাহী মহানগরীর মতিহার থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।

advertisement

রিক্তা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। তার গ্রামের বাড়ি কুষ্টিয়া কুমারখালির জোতপাড়া গ্রামে। অভিযুক্ত রাব্বি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফলিত গণিত বিভাগের শিক্ষার্থী।

রিক্তার সহপাঠীরা জানান, দুই বছর আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের ফলিত গণিত বিভাগের শিক্ষার্থী ইসতিয়াক রাব্বির সঙ্গে পারিবারিকভাবে বিয়ে হয় রিক্তার। কলেজ জীবন থেকেই তাদের মধ্যে সম্পর্ক ছিল। তারা দুজনই ব্যাচমেট। এক বছর ধরে তারা দুজন ভাড়া বাসায় একসঙ্গে থাকছেন।

শুক্রবার রাত ১২টার দিকে নগরীর ধরমপুর পূর্বপাড়ার একটি বাসা থেকে ওই শিক্ষার্থীকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তার স্বামী রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

 

জানাযার আগে প্রতিবাদী সমাবেশ

আজ শনিবার বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদের সামনে তার জানাযা অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে সেখানে আইন বিভাগের সভাপতি হাসিবুল আলম প্রধানের সঞ্চালনায় এক প্রতিবাদী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

সমাবেশে মনোবিজ্ঞান বিভাগের সভাপতি ও মহিলা পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মাহবুবা কেয়া বলেন, ‘আমরা এমন মৃত্যু কোনো মেয়ের চাই না। দেশের প্রতিটি ঘর নারীদের নিরাপদ আশ্রয় হোক। আমাদের এই ছাত্রীর মৃত্যুর ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত হোক। একই সঙ্গে জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি করেন এই অধ্যাপক।’

নিহতের বাবা লিয়াকত আলী বলেন, ‘আমি একজন চাষি মানুষ। আমাদের পরিবার থেকে কেউ আগে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত আসেনি। আমার একমাত্র মেয়ে এখানে এসেছে। তার এমন মৃত্যু কোনো ভাবেই মেনে নিতে পারছি না। আমার মৃত্যু পর্যন্ত হত্যাকারীদের সঙ্গে কোনো আপোস করবো না। আমি মেয়ে হত্যার সুষ্ঠু তদন্ত ও সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি করছি।’

জানাযায় উপস্থিত হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক গোলাম সাব্বির সাত্তার বলেন, ‘নিহত শিক্ষার্থীর বাবা তার স্বামীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন। আইনি প্রক্রিয়ায় আমরা তার পরিবারকে সহায়তা করবো। যাতে দ্রুত তদন্ত হয়। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট দেখে আমরা ছেলেটার ছাত্রত্ব সাময়িকভাবে বাতিল করবো। এছাড়া রিক্তার পরিবারের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করেন তিনি।’

মতিহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনোয়ার আলী তুহিন বলেন, ময়নাতদন্ত রিপোর্ট আসতে একটু সময় লাগবে। যার কারণে বলা যাচ্ছে না এটি হত্যা নাকি আত্মহত্যা।

advertisement